Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ :: ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ :: সময়- ১২ : ৪৮ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / দিশেহারা বিএনপি!

দিশেহারা বিএনপি!

bnp ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে একের পর এক মামলা, জাতীয় কাউন্সিলের দীর্ঘ প্রায় দুই মাস হতে চললেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না করতে পারা, সঙ্গে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার একের পর এক বৈঠকের পরও কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা কর্মসূচিতে পোঁছাতে না পারায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে দলটির তৃণমূল থেকে সিনিয়র সকল স্তরের নেতাকর্মীরা। সর্বশেষ গত ৯ মে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠকেও সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি নীতিনির্ধারকরা। দলটির একাদিক কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতা জানান, কোনো কিছুর সমাধান কীভাবে হবে? নিজেদের মধ্যে যদি কোন্দল থাকে, তাহলে বাইরের সমাধান কীভাবে হবে? উল্টো পরিবর্তন প্রতিবেদকের কাছে প্রশ্ন রাখেন দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামের প্রভাবশালী এক নেতা। বলেন, বিএনপিতে তো এখন নিজেদের কমিটিই ঠিক করতে পারেনি। আন্দোলন তো দূরের কথা। তাই এই মুহূর্তে উচিত নিজেদের মধ্যে চলমান সমস্যাগুলো সমাধান করা। তা না হলে পরবর্তীতে সমস্যা সমাধান করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

তারা বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই মাস হতে চলছে জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এখনো কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। বিএনপির মতো রাজনৈতিক দলের যদি এই অবস্থা বিরাজ করে তাহলে দলের কর্মকাণ্ড কীভাবে গতিশীল হবে। এসব কারণে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন চলমান ইস্যুতে বিএনপির পক্ষ থেকে সক্রিয় ও শক্ত অবস্থান নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্থায়ী কমিটির বৈঠক হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো সিন্ধান্তে পোঁছানো যাচ্ছে না।

দলটির দুর্বল কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে আন্তর্জাতিক মহল থেকেও তেমন সাড়া পাচ্ছে না। ফলে অনেকটা নিস্কিয় হয়ে পড়েছে দলের গুরুত্বপূর্ণ এই দিকটি। গ্রেফতার আতঙ্কে আত্মগোপনে কিংবা আড়ালে রয়েছেন দায়িত্বশীলরা। দলে তার প্রভাব পড়ছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

সর্বশেষ কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ জাবের আল মুবারক আল হামাদ আল সাবাহ ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বাংলাদেশ সফর করলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। এর আগে গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর নিশা দেশাই তার বাংলাদেশ সফরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সমশের মবিন চৌধুরীর পদত্যাগের পর আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো দেখাশোনা করছিলেন সাংবাদিক শফিক রেহমান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টায় শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের পর সে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক। সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অভিযোগ আসায় অনেকটা চুপিসারে রয়েছেন এ নেতাও। ফলে স্পষ্টত অচল হয়ে পড়েছে দলটির গুরুত্বপুর্ণ এই কূটনৈতিক কোর।

গত সোমবার দলের স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘বৈঠকে চলমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর চাইতে বেশি আর কি বলবো। দীর্ঘ দুই মাস হতে চলছে জাতীয় কাউন্সিল হয়েছে। কিন্তু এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। আমিই তো বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সদস্য নই। কাউন্সিলের পর যেহেতু এখনো নতুন কমিটি ঘোষণা হয়নি সেদিক থেকে আমি এখন কমিটিতে নেই।’

‘তাই আমার প্রত্যাশা বা আশা থাকবে যতো দ্রুত সম্ভব বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা। তা না হলে দলের জন্যই তা ক্ষতিকর হবে’ বলেন এ নেতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে বিএনপি যে সময় অতিবাহিত করছে তা আমিও ভালো বলে মনে করি না। ১৯ মার্চ যখন দলটির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হল ঠিক তখনই বা তার এক মাসের মধ্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা উচিত ছিল। তাহলে এখন যেসব প্রশ্ন উঠছে তা কেউই তুলতে পারতো না।’

কমিটি ঘোষণায় বিলম্ব, দলীয় নেতাকর্মীদের পরস্পর বিরোধী মন্তব্য ইত্যাদি বিষয় বিএনপির জন্য কতটা সুখকর? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা দলটির জন্য অবশ্যই ভালো কিছু নয়। তাদের উচিত এ ব্যাপারে চেয়ারপারসনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা। ভেতরে কথা বলে সমাধান না করে বাইরে কথা বললে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না বলে আমি মনে করি। তা ছাড়া চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উচিত চলমান সমস্যা সমাধানে দ্রুত কমিটি ঘোষণা করা।’

‘তরুণ ও মাঝ বয়সীদের নতুন কমিটিতে আনা হবে। তাই হয়তোবা খালেদা জিয়া একটু ধীরে-সুস্থে এগুচ্ছেন। একটু সময় বেশি লাগছে। আশা করি চলতি মাসেই সকল কিছুর সমাধান হবে বলে মনে করেন এমাজউদ্দীন আহমেদ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার দলের কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে অপরাগত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে পারবো না। আমি এসব বিষয়ে কথা বলতে চাইছি না। আমার শরীর ভালো না। দুঃখিত।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক জেলা সভাপতি বলেন, ‘আসলে সত্যি কথা বলতে কি, আমরা এখনো কিছুই বুঝতে পারছি না যে, বিএনপির ভবিষ্যৎ কী? তা না হলে বর্তমানে বিভিন্ন ইস্যু থাকলেও কোনো কর্মসূচিতে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমি মনে করি, দলীয় কোন্দলের কারণেই এটা হচ্ছে। আমরা প্রস্তুত কিন্তু কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে যদি ঘোষণা না আসে তাহলে আমরা তৃণমূল কিই বা করতে পারি বলেন?।’

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরিফুল আলম বলেন, ‘সরকার একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ঘায়েল করার কাজে লিপ্ত রয়েছে। তা ছাড়া আমাদের তৃণমূল নেতাকর্মীদের রাজপথে নামতে দেওয়া হচ্ছে না। সামগ্রিক কারণে হয়তোবা আমাদের পুর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া যেহেতু বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল সে দিক থেকে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একটু সময় নিচ্ছেন। আশা করি দ্রুত সকল সমস্যার সমাধান হবে।’

‘আমার জানা মতে রমজানের ঈদের পর বিএনপির সকল সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। এর পরেই মূলত কেন্দ্র থেকে চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে’ বলেন এ জেলা সভাপতি।

খবর- পরিবর্তন

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful