Today: 24 Mar 2017 - 09:59:26 pm

উপাচার্যের অনিয়ম তদন্তে বেরোবিতে ইউজিসি তদন্ত কমিটি

Published on Monday, December 26, 2016 at 12:13 pm

সাইফুল ইসলাম, বেরোবি: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি)উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম নূর-উন- নবী বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত তদন্ত কমিটি।

রবিবার বিকেলে রংপুরে এসে পৌঁছেছে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি। উপাচার্যের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনার পর গত দুই আগষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ইউজিসি সদস্য প্রফেসর আখতার হোসেনের নেতৃত্বে ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যস্ত প্রফেসর নবী বিরুদ্ধে একটি সরেজমিন তদন্ত কার্যক্রম চালানোর কথা জানায়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মিজানুর রহমান ও ইউজিসি অতিরিক্ত পরিচালক ফখরুল ইসলাম ।

এর আগে গত বছরের ৬ মার্চ বেরোবি শিক্ষক সমিতি ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান এর কাছে বেরোবি ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ দায়ের করেন। গত ৪ সেপ্টেম্বর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আর এম হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধানের চার মাসের একটি স্প্যানের মধ্যে কমিটি শুধুমাত্র অভিযোগকারীদের সাক্ষাত্কার গ্রহণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ২২ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়ার পর উপাচার্যের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্রিয় হয় ইউজিসি ।

যোগাযোগ করা হলে বেরোবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান বলেন, উপাচার্যের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ পত্র দেওয়া হয়েছে তা সত্য এবং ইউজিসি এ ব্যাপারে তদন্ত কার্যক্রম চালাবে। সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বাংলাদেশে এমন কোনো দৃষ্টান্ত নাই যে একজন ভিসি টেন্ডারবাজির সহিত জড়িত কিন্তু, আমাদের ভিসির বিরুদ্ধে উক্ত অভিযোগ রয়েছে। তিনি দুর্নীতি ও অন্যান্য বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত আছেন বলে জানান তিনি। আগামী দুই দিনের তদন্তের ব্যাপারে তদন্ত কমিটিকে তথ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করবেন বলেও জানান সাধারণ সম্পাদক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এটি এম গোলাম ফিরোজ বলেন, আমাদের ডাকলে আমরা অবশ্যই সঠিক তদন্ত দিবো। তদন্ত কাজে সহযোগিতা করার জন্য রেজিস্ট্রার দপ্তর এবং অ্যাকাউন্টস দপ্তরের কর্মকর্তাদের ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে প্রফেসর নবীর বিরুদ্ধে কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতের ফলে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অচলাবস্থা তৈরি হয়, ১৭ টি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত, পুলিশ দায়ের করা মিথ্যা মামলা দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী হয়রানি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের অভিযোগ উঠে।

উপাচার্য়ের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ সমুহের মাধ্যে ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক হিসেবে ভুয়া সার্টিফিকেট ধারক নিয়োগ, অবৈধভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়োগ, রেজিস্ট্রার পদে পরিবর্তন আনার সরাসরি অভিযোগ, ক্যাফেটেরিয়া, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর জন্য মসজিদ ও ছাত্রাবাসে খোলার বিলম্ব, সিনেট অকার্যকর, কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা প্রদান ও অনিয়মের পোস্টিং ,নিয়ম বহির্ভুতভাবে উপার্জন উত্যাদির অভিযোগ উঠে।

মতামত