Today: 25 Jun 2017 - 04:17:46 am

মারজান তার কৃতকর্মের শাস্তি পেয়েছে- মারজানের বাবা

Published on Friday, January 6, 2017 at 9:49 pm

 পাবনা: ঢাকায় বন্দুক যুদ্ধে গুলশান হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড মারজান নিহত হওয়ার খবরে তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি তার পরিবার।

তারা বলছেন, মারজান তার কৃতকর্মের শাস্তি পেয়েছে। মারজানের বাবা বলেছেন, সরকার পৌঁছে দিলে দাফনের জন্য গ্রহণ করবেন তারা।

শুক্রবার সকালে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারজানের নিহত হওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। এরপরই এলাকাবাসী ও স্বজনরা ভিড় করেন পাবনার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের আফুরিয়া পাটকিয়াবাড়িতে মারজানের গ্রামের বাড়িতে। এ সময় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়লেও মারজানের বাবা-মা একে সন্তানের কৃতকর্মের ফল বলে উল্লেখ করেন। তারা মরজানের কৃতকর্মের দায় না নিলেও সন্তানকে যারা বিপথে নিয়ে গেছে তাদের কঠোর শাস্তির দাবি করেন।

মারজানের বাবা নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে যে অন্যায় করেছে তার ফল সে ভোগ করেছে। কিন্তু আমার মেধাবী ছেলেটাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। তাকে যারা জঙ্গি বানিয়েছে তাদের যেন শাস্তি দেয় সরকার।’ ছেলের লাশ ঢাকা থেকে আনার সামর্থ্য নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওর লাশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাড়িতে পৌঁছে দিলে তা দাফনের জন্য গ্রহণ করব।’

ছেলের এমন পরিণতির পর ছেলের স্ত্রী ও সন্তানকে ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন মারজানের মা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে দেশের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। ওর যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। কিন্তু মরজানের বউ আর একমাস বয়সী শিশুকন্যানে যেন সরকার আমাদের কাছে ফেরত দেয়।’

এদিকে মারজানের মৃত্যুতে খুশি গ্রামের সাধারণ মানুষ। আফুরিয়া পাটকিয়াবাড়ি গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুর রহমান, কলেজ ছাত্র সাগর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, মারজানের মৃত্যুতে আমাদের গ্রামসহ গোটা পাবনা কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রামবাসীরা বলছেন, আর যেন কেউ এভাবে জঙ্গি সন্ত্রাসের পথে পা না বাড়ায়।

প্রসঙ্গত, পাবনা সদর উপজেলার আফুরিয়া গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে মারজান গত বছরের জানুয়ারি মাসে সর্বশেষ বাড়িতে আসে। ওই সময় তার স্ত্রী প্রিয়তিকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার আর কোনও যোগাযোগ ছিল না। গুলশান হামলার পর জানা যায়, সে নব্য জেএমবিতে যোগ দিয়েছে। দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছাত্র মারজান গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে পাবনা শহরের বাঁশবাজারের আহলে হাদীস কওমী মাদরাসায় ভর্তি হয়। পরে পাবনা আলীয়া মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাসের পর চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে ভর্তি হয় সে।

মতামত