Today: 28 Apr 2017 - 08:11:31 pm

ডিমলায় ইউপি সদস্যরা এলাকা ছাড়া॥ দুই জনকে পিটিয়ে আহত

Published on Monday, January 9, 2017 at 4:24 pm


বিশেষ প্রতিনিধি ৯ জানুয়ারী ॥ জেলা পরিষদের নির্বাচনে নীলফামারীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারন সদস্য পদের পরাজিত প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল হকের রোষানলে পড়েছে ডিমলা উপজেলার ঝুনগাছচাঁপানী ইউনিয়নের ওয়ার্ড ইউপি সদস্যগন। এ অবস্থায় আজ সোমবার দুপুরে দক্ষিন ঝুনাগাছচাঁপানী এলাকায় উক্ত ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোলেমান গনিকে(৪৫) দেখতে পেয়ে বেধরক পিটিয়ে আহত করেছে মোজাম্মেল হকের লোকজন। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছে উক্ত ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মোফাফ্ফর হোসেন(৩৮)। আহত উক্ত দুইজন ডিমলা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ব্যর্থ হয়ে গোপনস্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃস্টি করেছে।
জানা যায়, গত ২৮ ডিসেম্বর/২০১৬ জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি,নাউতারা,খালিশাচাঁপানী ও ঝুনাগাছচাঁপানী ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারন সদস্য প্রার্থী ছিলেন ৫ জন। এদের মধ্যে ১৮ ভোটে বিজয়ী হন অটোরিক্সা প্রতিকের খালিশাচাঁপানী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম সরকার লেবু। আর ৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হন তালা প্রতিকের ঝুনাগাছচাঁপানী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক।
তিনি পরাজিত হবার পর গত ৪ জানুয়ারী সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল করে ইউপি সদস্যদের ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশে নিষেজ্ঞাধাজারী করে জনতার দরবারে বিচার চেয়ে ঘোষনা দেন ইউপি সদস্যদের যেখানে পাবেন সেখানেই পিটানো হবে। মোজাম্মেল হকের এমন ঘোষনার পর হতে ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের ইউপি সদস্যরা আতœগোপন করে থাকতে বাধ্য হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় সোমবার দুপুরে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোলেমান গনি ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলাবর দক্ষিন ঝুনাগাছ চাঁপানী হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের অদুরে একটি চায়ের দোকানে চা খেতে প্রবেশ করে। এমন সময় ঝুনাগাছচাঁপানী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হকের ১৫ জন সন্ত্রাসী তাদের দেখতে পেয়ে ছুটে আসে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন তাদের ছুটে আসা দেখে পালিয়ে রক্ষা পেলেও বেধরক মারপিটের কবলে পড়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোলেমান গনি। চায়ের দোকানের বসার চেয়ার দিয়ে তার উপর হামলা চালানো হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে মাথা ফেটে আহত হন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়াডের গ্রাম পুলিশ মোফাফ্ফর হোসেন। এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়ার চেস্টা করে ব্যর্থ হলে তাদের পাশ্ববর্তী একটি উপজেলায় নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে আহত ইউপি সদস্য সোলেমান গণির সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান ১৫ জন হামলা চালায়। তাদের মধ্যে তিনজনকে চিনতে পেরেছেন। তারা সকলেই ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হকের সন্ত্রাসীবাহীর সদস্য।
এলাকাবাসী জানায় গত ৪ জানুয়ারীর পর হতে ইউনিয়ন পরিষদের কোন ইউপি সদস্য পরিষদে প্রবেশ করতে পারছেনা।
ঝুনাগাছ চাঁপানি ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী মোজাম্মেল হকের সঙ্গে সাংবাদিকরা মোবাইলে কথা বললে তিনি বলেন, আমি এলাকার জনগনকে বিচার দিয়েছি। জনগন কোন ইউপি সদস্যকে লাঞ্চিত করলে আমার করার কি আছে। যারা বেঈমান তাদেরকে লাঞ্চিত করা স্বাভাবিক।
ঝুনাগাছ চাঁপানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তার পরিষদের ইউপি সদস্যরা এখন এলাকা ছাড়া। তারা কেউ ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশ করতে পারছেনা। বিষয়টি নীলফামারী ১ ডোমার-ডিমলা) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকারকে অবগত করা হয়েছে।

মতামত