Today: 24 Mar 2017 - 09:47:09 pm

রেলওয়ে সেক্টরে আরো চমক দেখবেন-নীলফামারীতে রেলমন্ত্রী

Published on Tuesday, January 10, 2017 at 7:57 pm

ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়, নীলফামারী ১০ জানুয়ারী॥  রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেছেন, বাংলাদেশের দরিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বের রোল মডেলখ্যাত ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার ও উন্নয়নের কান্ডারী বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  রেলওয়ে সেক্টরে একের পর এক চমক দেখাবে। ইতোমধ্যে ভারত ও ইন্দোনেশিনা থেকে নতুন রেলকোচ এনে রেলসেবা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামীতে বুলেট ও দ্রুতগতিসম্পন্ন ট্রেন চলবে। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম সহ দেশের প্রতিটি এলাকায় রেলের ডাবল লাইন চালু করা হবে।  প্রতিটি জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনা হবে। দেশের কোনো জেলা রেল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবে না। যমুনা নদীতে রেলের পৃথক সেতু নির্মান এবং নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে রেললাইন স্থাপনের কথা উল্লেখ করেন। মন্ত্রী জানায় এ জন্য রেলপথ মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে ৪৬টি প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ আরও বাড়বে।  নীলফামারীর চিলাহাটি হতে ভারতের হলদীবাড়ি রেলপথ চালু করা হবে। এমনকি অদুর ভবিষ্যতে সিলেট থেকে আসামের পথেও ট্রেন চলবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড জনগনের সামনে তুলে ধরার প্রয়াসে নীলফামারী হাইস্কুল মাঠে তিনদিনব্যাপী চলমান উন্নয়ন মেলায় মঙ্গলবার দুপুরে “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আগামী দিনের বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্য নিয়ে আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারন  তুলে ধরার পাশাপাশি প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আগামী ২৪ জানুয়ারী সকালে ঢাকা হতে নীলফামারীর চিলাহাটি পর্যন্ত লাল সবুজের নতুন রেলকোচের মাধ্যমে আরেকটি আন্তনগর নীলসাগর ট্রেন চালু করা হবে উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বিগত সময়ে  রেলের দুর্দশার জন্য সাবেক বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারকে দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি সরকার রেল নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ তো করেইনি বরং রেললাইন তুলে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছিল। বদ্ধ করে দিয়েছিল বহু স্টেশন। রেলকে লোকসানী খাত হিসেবে চিহ্নিত করে ধ্বংস করে দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে মতায় আসার পর রেলপথমন্ত্রনালয় গঠন করে বন্ধ স্টেশন চালু করছে। যে,সব রেললাইন তুলে নিয়েছিল, সেগুলো আবার চালু করছে। মন্ত্রী বলেন রেলদুর্ঘটনা কমাতে রেলপথের লেভেল ক্রোসিং গুলো উন্নতমানের করে আগামী বছরে এক হাজার ৮০০ গেটম্যান নিয়োগ দেয়া হবে। সেই সঙ্গে সৈয়দপুর রেলকারখানায় রেল কোচ নির্মান করার জন্য আধুনিক ক্যারেজ সপ তৈরী করা করা হবে।
মন্ত্রী নীলফামারীর মানুষজনকে ভদ্র ও ভাল আখ্যায়িত করে আগামীতে স্ব-স্ত্রীক নীলফামারী বেড়াতে আসবেন বলে ঘোষনা দেন।

 নীলফামারী জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী ১ আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার, নীলফামারী ৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় হুইপ শওকত চৌধুরী এমপি, কুড়িগ্রামের সংসদ সদস্য সফুরা বেগম রুমী, রেলপথ মন্ত্রনালয়ের সচিব ফিরোজ মো. সালাহউদ্দিন, নীলফামারী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ দেবী প্রসাদ রায়, নীলফামারী পৌর মেয়র  জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মারুফ হোসেন।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আকবর হোসেন, পশ্চিমাঞ্চল রেলের জিএম খায়রুল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার ইনাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ,জে,এম এরশাদ আহসান হাবিব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুজিবর রহমান, সৈয়দপুর রেলকারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক কুদরত-উ খুদা, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) ফিরোজ করিব, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মমতাজুল হক, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুজার রহমান, ইউএনও শেখ মুহাঃ বেলায়েত হোসেন,নারী ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা লাভলী, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মসফিকুল ইসলাম রিন্টু, জেলা মহিলা বিষয় কর্মকর্তা নুরন্নাহার শাহজাদী, জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক আফরোজা বেগম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজলুল হক, কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মোঃ ইদ্রিস প্রমুখ সহ বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী বিভাগের কর্মকর্তাগন। এ সময় নীলফামারী জেলা প্রশাসক মন্ত্রীকে নীলফামারীর উন্নয়নের একটি স্মারক প্রদান করেন।

আলোচনা শেষে মন্ত্রী উন্নয়ন মেলায় সরকারি ও বেসরকারী বিভাগের ৬২টি স্টল পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ যে নীলফামারীর উন্নয়ন মেলায় রেলপথ মন্ত্রনালয়ের একটি স্টেল রয়েছে।

স্টল পরিদর্শন শেষে মেলার মঞ্চে রেলমন্ত্রনালয়ের পক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

জলঢাকাঃ- বাংলদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক ও উপ-সচিব চৌধুরী মোঃ হামিদ আল মাহমুদ জলঢাকা উন্নয়ন মেলা পরিদর্শন করেছেন। আজ মঙ্গলবার জলঢাকা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জলঢাকা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৩ দিনব্যাপী এ মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ আলী , উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিভা আমজাদ, প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ, কৃষি কর্মকর্তা মাহাফুজুল হক, শিা কর্মকর্তা শাহাজাহান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ। পরিদর্শন শেষে ইউএনও কার্যালয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেলার আয়োজক কমিটির এক আলোচনা সভায় সন্তুষ্ট প্রকাশ করে সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

মতামত