Today: 01 May 2017 - 12:39:09 am

২ ঘণ্টায় হারল বাংলাদেশ!

Published on Saturday, March 11, 2017 at 2:58 pm

ডেস্ক: টেস্টের চার সেশন বাকি থাকতে লক্ষ্য ৪৫৭ রান। জয়টা কঠিন। তবে ম্যাচ ড্র করা অসম্ভব ছিল না। চতুর্থ দিন শেষে সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবাল বিনা উইকেটে ৬৭ রান তুলে ড্রয়ের সেই সম্ভাবনা জোরালোও করেছিলেন। কিন্তু শেষ দিনে ব্যাটিং ব্যর্থতায় দেড় সেশন বাকি থাকতেই গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার কাছে ২৫৯ রানে হেরে গেল বাংলাদেশ। যদিও বাংলাদেশ হেরেছে মূলত দুই ঘণ্টায়! দিনের প্রথম ঘণ্টায় পড়েছিল ৫ উইকেট। লাঞ্চের আগে কিছুটা লড়াই করলেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। কিন্তু লাঞ্চের পর চার ওভারের মধ্যে এই দুজনের বিদায়ের পরই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল বাংলাদেশের টেল-এন্ডার। লাঞ্চের পর এক ঘণ্টারও কম সময়ে পড়েছে শেষ ৫ উইকেট!

হেরাথের ৬ উইকেটে বাংলাদেশের বড় হার: মুশফিক ও লিটন ফিরে যাওয়ার পরই বাংলাদেশের হার একরকম নিশ্চিত হয়েছিল। বাকি ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা। বাংলাদেশের শেষ ৩ উইকেট তুলে নিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন রঙ্গনা হেরাথ। তার বলে মেহেদী হাসান মিরাজ (৩৫) লাহিরু কুমারাকে ক্যাচ দিতেই শেষ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। বিনা উইকেটে ৬৭ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ অলআউট ১৯৭ রানে। বাংলাদেশকে ২৫৯ রানে হারাতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৯ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন হেরাথ। ইনিংসে পাঁচ উইকেট-কীর্তি হলো ২৯ বার।

ভেট্টোরিকে ছাড়িয়ে চূড়ায় হেরাথ: লিটন দাসকে ফিরিয়ে স্পিনে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ড গড়েন রঙ্গনা হেরাথ। তিনি ছাড়িয়ে যান ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে। প্রাক্তন কিউই বাঁহাতি স্পিনার ১১৩ টেস্টে নিয়েছিলেন ৩৬২ উইকেট। লিটনের উইকেটটি হেরাথের ৩৬৩তম, ম্যাচ ৭৮তম। পেস-স্পিন মিলিয়ে বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে হেরাথের ওপরে আছেন কেবল ওয়াসিম আকরাম (৪১৪ উইকেট)।

লাঞ্চের পর জোড়া ধাক্কা: লাঞ্চের আগে দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। কিন্তু লাঞ্চের পর ৪ ওভারের মধ্যে দুজনই আউট হয়ে দলকে পরাজয়ের আরো কাছে ঠেলে দিলেন। মুশফিক আউট হয়েছেন বাজে শটে। লিটনও তা-ই। হেরাথের ফ্লাইট দেওয়া বল স্লগ সুইপ করতে গিয়ে লিটন বল তুলে দেন আকাশে। ক্যাচ নিতে কোনো ভুল হয়নি উপুল থারাঙ্গার। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৭ উইকেটে ১৬৬।

বাজে শটে আউট মুশফিক: লাঞ্চের আগে লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে কী দারুণভাবেই না প্রতিরোধ গড়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। অধিনায়কের ব্যাটেই নির্ভরতা দেখছিল দল। কিন্তু সেই মুশফিক লাঞ্চের পর দ্বিতীয় বলেই আউট হলেন বাজে শট খেলে। চায়নাম্যান বোলার লাকসান সান্দাকানের লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল ফাইন লেগে খেলতে গেলেন মুশফিক। বল তার ব্যাট ছুঁয়ে জমা পড়ল উইকেটকিপার নিরোশান ডিকভেলার গ্লাভসে। ৯৮ বলে খেলা মুশফিকের দারুণ সম্ভাবনাময় ইনিংসের অপমৃত্যু হলো ৩৪ রানে। ম্যাচ বাঁচানোর যে আশাটুকু ছিল, সেটি হাওয়ায় মিলিয়ে গেল মুশফিকের বিদায়ে!

মুশফিক-লিটনের দৃঢ়তা: শেষ দিনের প্রথম ঘণ্টায় ৫ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ঘণ্টায় ব্যাটিং দৃঢ়তা দেখান অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাস। ফলে লাঞ্চের আগে আর কোনো উইকেট হারাতে হয়নি। বাংলাদেশ লাঞ্চ বিরতিতে যায় ৫ উইকেটে ১৫৭ রান নিয়ে। মুশফিকের রান তখন ৩৪, লিটনের ৩২। জয়ের জন্য বাংলাদেশের চাই আরো ৩০০ রান। তবে সেদিকে না গিয়ে দিনের সম্ভাব্য ৬৭ ওভার কাটিয়ে দিয়ে ম্যাচ বাঁচানোতেই নজর সফরকারীদের।

দুঃস্বপ্নের প্রথম ঘণ্টা: দুঃস্বপ্নই বলতে হবে। চতুর্থ দিনে ৪৫৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বিনা উইকেটে ৬৭ রান তুলে দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। আজ শেষ দিনে প্রথম ঘণ্টায় ১৬ ওভারে ৪৬ রান যোগ করতেই নেই ৫ উইকেট! ম্যাচ বাঁচানোর কঠিন চ্যালেঞ্জে শেষ দিনের প্রথম ঘণ্টাটা এর চেয়ে বাজেভাবে আর হতে পারত না বাংলাদেশের!

জোড়া ধাক্কায় বিপদ আরো বাড়ল: শেষ দিনের প্রথম ৬ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। খানিক বাদে সেই বিপদ আরো বেড়ে যায় তিন বলের মধ্যে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে। সাকিব অবশ্য এবার বাজে শটে ফেরেননি। শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথের বলে ডিফেন্স করেছিলেন। বল তার গ্লাভসে লেগে চলে যায় লেগ স্লিপে। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ নেন দিমুথ করুনারত্নে। হেরাথের আর্ম বল ডিফেন্স করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৫ উইকেটে ১০৪!

৬ ওভারে নেই ৩ উইকেট: সৌম্য সরকারের বিদায়ের পর উইকেটে আসে মুমিনুল হকও সতীর্থের পথ ধরে সাজঘরে ফেরেন দ্রুতই। অফ স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরার বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি (৫)। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। পেরেরার পরের ওভারে ফেরেন তামিম ইকবালও। স্লিপে গুনারত্নেকে ক্যাচ দেওয়া তামিম ৫৫ বলে করেন ১৯। বিনা উইকেটে ৬৭ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশের স্কোর তখন ৩ উইকেটে ৮৩। দিনের ৬ ওভারের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ।

দিনের দ্বিতীয় বলেই ফিরলেন সৌম্য: শেষ দিনের শুরুটা এর চেয়ে বাজেভাবে আর হতে পারত না বাংলাদেশের। দিনের মাত্র দ্বিতীয় বলেই আউট হয়ে ফেরেন আগের দিনে ফিফটি করা সৌম্য সরকার। আসেলা গুনারত্নের ফ্লাট দেওয়া মিডল ও অফ স্টাম্পের বলে ডিফেন্স করতে চেয়ছিলেন সৌম্য। কিন্তু বল তার ব্যাট ফাঁকি দিয়ে আঘাত হানে অফ স্টাম্পে, বোল্ড। সৌম্য আউট ৪৯ বলে ৫৩ রান করে।

মতামত