Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ :: ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ :: সময়- ৩ : ২০ অপরাহ্ন
Home / উত্তরবাংলা স্পেশাল / হ্যারিকেন হ্যাচারিতে হাসের বাচ্চা উৎপাদন শতাধিক পরিবার সাবলম্বী

হ্যারিকেন হ্যাচারিতে হাসের বাচ্চা উৎপাদন শতাধিক পরিবার সাবলম্বী

মারুফ সরকার, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চলনবিল অঞ্চালের মহেষ রৌহালী গ্রামের লোকজন এক সময় চরম অভাব অনটনে জীবন যাপন করতেন । সেই গ্রামের লোকজন এখন হারিকেন হ্যাচারি করে অভাব অনটন কাটিয়ে সাবলম্বী হয়েছেন শতাধিক পরিবার। আর কর্মসংস্থান হয়েছে হাজারো মানুষের।এ হ্যাচারিতে উৎপাদিত হাসের বাচ্চা শুধু দেশেই নয়, সরবরাহ হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও।

জানা গেছে, উক্ত গ্রামের বেকার যুবক শাহ্ আলম নিজ উদ্যোগে ২০০৪ সালের শেষ দিকে চলনবিলে ক্ষুদ্র হাঁসের খামারি স্থাপন করেন । প্রথমে খামারীতে ১৫০০ থেকে ২০০০ ডিম দিয়ে এ ধরনের হ্যারিকেন হ্যাচারির ব্যবসা শুরু করেন। যার পরিধি বেড়ে বর্তমানে তার হ্যাচারিতে প্রতি ২৮ দিনে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ পর্যন্ত হাঁসের বাচ্চা ফুটানো হয়। আর সব খরচ বাদে প্রতিমাসে গড়ে লাভ হয় এক থেকে দেড় লাখ টাকা।

হারিকেন হ্যাচারির উদ্যোগতা শাহ্ আলম জানান,একসময় অভাবে ভরা নওগা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এ গ্রামের জনগনের যোগাযোগ সংকটের কারণে প্রাচীনকাল থেকেই উপজেলার অন্য গ্রামগুলোর তুলনায় শিক্ষা ও অর্থনীতিতে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল।এ হ্যারিকেন হ্যাচারি ব্যাবসা শুরু করি । এ হ্যাচারির উৎপাদিত হাসেঁর বাচ্চা বিশেষ করে প্রায় ৯ বছর ধরে দেশ বিদেশে সরবরাহ করছি এবং আমার লাভের মুখ দেখে এ গ্রামের আরো শতাধিক পরিবার এ ব্যাবসা শুরু করছে প্রায় ৫ বছর আগে ।এ আর্থিক উন্নয়নে এ গ্রামের শতাধিক পরিবার এখন সাবলম্বী হয়েছেন ।তাদের ছেলে মেয়ে লেখা পড়াসহ সংসার চালাচ্ছেন আনন্দের সাথে ।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উন্নত জাতের হাঁসের পরিপূর্ণ ডিম সংগ্রহের পর সেগুলো পানিতে পরিস্কার করে রোদে শুকিয়ে চোখের আন্দাজে যাচাই-বাছাই করে নেওয়া হয়। এরপর মাটি অথবা ইটের তৈরি পাকা ঘরের মধ্যে বাঁশের মাচা (বেড) এর ওপর সারিবদ্ধভাবে ডিমগুলো বসিয়ে লেপে দিয়ে ঢেকে নিচ থেকে হারিকেন বাতির সাহায্যে পরিমাণমত তাপ দিতে হয়। ২৫ দিন পর ডিমগুলো ফুটতে শুরু করলে লেপের আবরণ তুলে দেওয়া হয়। ২৮ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়। প্রতিটি এক দিন বয়সের হাঁসের বাচ্চা ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়। ডিমের বাজার ওঠা নামায় বাচ্চার দাম কম-বেশি হয়।

হ্যাচারি ব্যবসায়ী বিরৌহালী গ্রামের গোলাম মোস্তফা, ছাইফুল ফকির,জহুরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম , শরিফুল ফকির এবং মহেষরৌহালী গ্রামের আব্দুল আজিজ, আদরী খাতুন, হাসিনা বেগম,গোঞ্জের আলী,আব্দুল আলীমসহ অনেকে জানান, বাচ্চা ফুটে বেড় হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তাদের কাছে চাহিদা আসতে শুরু করে। হারিকেন হ্যাচারিতে ফুটানো হাঁসের বাচ্চা বর্তমানে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে কুষ্টিয়া-যশোর হয়ে পার্শ্তবর্তী দেশ ভারতেও যাচ্ছে। দেশের চাহিদার তুলনায় হাঁসের বাচ্চার উৎপাদন খুবই সীমিত। তাই বেকারদের চাকরির পেছনে না ছুটে এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন তারা। সরকারি সহায়তা পেলে এসব হ্যাচারির পরিধি বাড়িয়ে চাহিদা অনুযায়ী হাঁসের বাচ্চা ফুটানো সম্ভব বলে জানান হারিকেন হ্যাচারির সঙ্গে যুক্ত সকলে।

তারা আরো বলেন,আমরা খুব কষ্ট করে হ্যারিকেন জালিয়ে তাপ সৃষ্টি করে হাসের বাচ্চা ফোটাই ।হ্যাচারিতে স্থানীয় পল¬ীবিদ্যুৎতের বাল্ব ছাড়া আর কিছু ব্যবহার না করলেও পল্লী বিদ্যুৎতের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারী তৈরি করা দ্বিগুন বিদ্যুৎ বিলে ব্যাপক হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful