Today: 24 Jun 2017 - 09:31:36 am

আটক দুইজনের স্বীকারোক্তি; দ্বন্দ্বের জেরেই দিনাজপুরে ‘পীর’কে হত্যা!

Published on Friday, March 17, 2017 at 9:53 pm

স্টাফ রিপোর্টার: অভ্যন্তরীণ বিষয় ও মতপার্থকের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে দিনাজপুরের কথিত পীর ফরহাদ হাসান চৌধুরী ও তার পালিত কন্যা রুপালী বেগমকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কুড়িগ্রামের আরেক কথিত পীরসহ আরও অনেকেই জড়িত রয়েছেন। পীর হত্যায় জড়িত সন্দেহে আটক দুইজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ মার্চ) বিকালে দিনাজপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আটক হওয়ায় আরেক কথিত পীর এসহাক আলী ও বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা এলাকায় কাদেরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরীফের প্রধান খাদেম সাইদুর রহমান।

দিনাজপুরের কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক শহীদ সরওয়ার্দী জানান, কুড়িগ্রাম থেকে সন্দেহমূলকভাবে আটক হওয়া আরেক পীর এসহাক আলী ও খাদেম সাইদুর রহমানকে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে দিনাজপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আদালতের বিচারক এফএম আহসানুল হকের কাছে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তিনি জানান, ‘জবানবন্দিতে তারা জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ বিষয় ও মতপার্থকের জের ধরে তারা পরিকল্পিতভাবে পীর ফরহাদ হাসান চৌধুরী ও তার পালিত কন্যা রুপালী বেগমকে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত রয়েছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা জানিয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সব নাম বলা যাচ্ছে না।’

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, আটককৃতদের বিষয় ও অস্ত্র উদ্ধারসহ যাবতীয় বিষয়ে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।

এহসাক আলী কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি গ্রামের পীর আজিম উদ্দিনের ছেলে ও খাদেম সাইদুর রহমান বোচাগঞ্জের দৌলা গ্রামের মৃত ফয়জুল হকের ছেলে।

উল্লেখ্য, সোমবার (১৩ মার্চ) দিনগত রাত ৮টার দিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা এলাকায় কথিত পীর ফরহাদ হাসান চৌধুরী ও তার পালিত মেয়ে রুপালী বেগম গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ফরহাদ হোসেন চৌধুরী দিনাজপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি। তিনি ছিলেন দিনাজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। পরে ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হন।

স্থানীয় ও স্বজনেরা জানান, ২০০৬ সালের দিকে ফরহাদ হাসান চৌধুরী রাজনীতি ছেড়ে দেন। এ সময় তার সঙ্গে পরিচয় কুড়িগ্রামের পীর দাবি করা এসহাক আলীর। তিনি পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানীর (রহ:) অনুসারী ছিলেন। তার সঙ্গে বেশ কিছুদিন চলাফেরার পর ২০১০ সালের দিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা গ্রামে কাদেরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরীফ নির্মাণ করেন ফরহাদ চৌধুরী। এর আগে থেকেই তার বেশ কিছু মুরিদ ও অনুসারী ছিল। দরবার শরীফ নির্মাণ করার পর তার মুরিদ ও অনুসারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখন পর্যন্ত প্রায় সাত শতাধিক মুরিদ ও অনুসারী রয়েছে। প্রত্যেক সোমবার ও বৃহস্পতিবার রাতভর জিকির চলে। এছাড়াও বৈশাখ মাসে বড় অনুষ্ঠান (ওরস) হয় যেখানে হাজার লোকের সমাগম ঘটে।

জানা যায়, এই দরবার শরীফে মাঝেমধ্যেই আসতেন ‘পীর’ এসহাক আলী। তবে ২-৩ বছর আগে এসহাক আলীর সঙ্গে ফরহাদ চৌধুরীর মতবিরোধ দেখা দেয়। এরপর থেকে তিনি আর দরবার শরীফে আসতেন না, তবে ওই এলাকায় তার কয়েক মুরিদের বাড়িতে যাওয়া আসা করতেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগেও তিনি এই গ্রামে বেড়াতে এসেছিলেন।

মতামত