Today: 01 May 2017 - 12:42:21 am

কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে রশি টানাটানি

Published on Saturday, March 18, 2017 at 7:26 pm

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম জেলা শহরের প্রাণ কেন্দ্র এলাকায় কয়েক কোটি টাকা মুল্যের প্রায় ২ একর জমি অবৈধভাবে দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ পুলিশের বিরুদ্ধে।

কুড়িগ্রাম জেলা ষ্টেডিয়ামের পশ্চিম দেয়াল ঘেষে সদর থানা সংলগ্ন এ জমি পুলিশ দখলে নিতে ইতিমধ্যে ১০/১২টি ফলজ গাছ কেটে ফেলেছে। এখন চলছে সিমানা প্রাচীর নির্মানের প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে পুলিশকে অবৈধ দখলদার চিহিৃত করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারপরও পুলিশের টনক নড়েনি। সড়ানো হয়নি নির্মান সামগ্রী। বরং বসানো হয়েছে পুলিশ পাহাড়া। এনিয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে চলছে রশি টানাটানি।

জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন চিঠি দিয়ে পুলিশের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সরকারের অধিগ্রহনকৃত এসব জমি আইনী প্রক্রিয়ায় নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বরাদ্দ দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট বিভাগের চাহিদার ভিত্তিতে।

জানা মতে পুলিশের কোন চাহিদাপত্র নেই। আলোচিত প্রায় ২ একর জমির উত্তর প্রান্তের এক একর জমি গোয়েন্দা সংস্থা ‘এন এস আই’ বিভাগের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর দক্ষিণ পাশের্^ অপর ৯০ শতক জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জেলা পর্যায়ে সরকারিভাবে একটি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য। এ মসজিদটি হবে ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং গবেষণাগার। কাজেই পুলিশের এখানে কোন জমি নেই। এর আগে পুলিশের চাহিদা মোতাবেক জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম শহর পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে ১৯৫৮ সালে ৩০২একর জমি তৎকালিন সরকার অধিগ্রহন করেন। এসব জমিতে সরকার চাহিদার ভিত্তিতে নীতিমালা অনুসরণ করে পর্যাক্রমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। কুড়িগ্রাম মহিলা কলেজের সামনে এবং কুড়িগ্রাম ষ্টেডিয়াম ও সদর থানার মাঝখানে ফাঁকা ৩ একর জমি দীর্ঘদিন থেকে কুড়িগ্রাম পুলিশ দখলে নিয়ে ধানচাষ করে আসছিল। এ জমি বর্তমানে জেলা প্রশাসনের ১নং খাস ক্ষতিয়ানে রেকর্ড ভুক্ত। কুড়িগ্রাম ষ্টেডিয়ামের নতুন প্যাভিলিয়ন নির্মাণ, ইনডোর ষ্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করে। এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থা ‘এন এস আই’ বিভাগ এবং মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। জমি পুণ: গ্রহন, ব্যবহার ও বরাদ্দ সংক্রান্ত জেলা কমিটি কুড়িগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ষ্টেডিয়ামের জন্য ১ একর ১০ শতক, গোয়েন্দা সংস্থা ‘এন এস আই’ বিভাগকে ১একর এবং মডেল মসজিদ নির্মানের জন্য ৯০ শতক জমি বরাদ্দের সুপারিশ করে ঢাকায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। ইতিমধ্যে জেলা ক্রীড়া সংস্থা স্টেডিয়ামের নতুন প্যাভিলিন নির্মাণ করে নতুন বরাদ্দ প্রাপ্ত জমিতে। বাকী ১ একর ৯০ শতক জমি সীমানা প্রাচির দিয়ে অবৈধ দখলে নিতে পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। অথচ ২০০৮ সালে পুলিশকে অবৈধ দখলদার হিসাবে চিহ্নিত করে চিঠি দেয়া হয়। তাগিদ দেয়া হয় অবৈধভাবে দখলে রাখা ৩ একর জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য। এরপর ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট তৎকালিন জেলা প্রশাসক আসাদুজ্জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পুণরায় পুলিশকে অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করে জমি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত রেজুলেশনে আনা হয়। এরপরও কয়েক দফা চিঠি চালাচালি হলেও পুলিশ তার দখল ছাড়েনি। বরং স্থায়ী দখলে নিতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ জমি বর্তমানে জেলা প্রশাসনের ১ নং খাস খতিয়ানে রেকর্ড ভুক্ত।
কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রওশন কবীর জানান, কৃষ্ণপুর মৌজায় সীমানা প্রাচীর নির্মান কাজ বন্ধ করণ প্রসঙ্গে একটি পত্র জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো হয়। এরপর থেকে নির্মান কাজ বন্ধ রয়েছে।

কুড়িগ্রাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম জানান, এ জমির মালিক গণপূর্ত বিভাগ। সে কারণে গণপূর্ত বিভাগের অনাপত্তিপত্র নিয়ে আমাদের সার্কেল অফিস কাম কোয়ার্টার নির্মাণের আবেদন করা হয়েছে। আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে। বাজেট বরাদ্দ পেলেই আমাদের কাজ শুরু হবে। আমরা আইন সম্মতভাবে আবেদন করেছি সংশ্লিষ্ট বিভাগে। শক্তির জোরে নয় আইনি প্রক্রিয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

গণপূর্ত বিভাগের ভূমি সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী খাইরুল ইসলাম জানান, এ জমি সরকারের অধিগ্রহনকৃত। গণপূর্ত বিভাগ এর মালিক। জেলা প্রশাসকের ১নং খাস খতিয়ানে ভুল করে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। পুলিশের সার্কেল অফিস করার জন্য ২০/২৫ শতক জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করায় তা গণপূর্ত বিভাগ অনুমোদন দিয়েছে।

গণপূর্ত বিভাগ সরাসরি জমি বরাদ্দ দেয়ার এখতিয়ার রাখে কিনা তা জানতে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাওদুদুর রহমান এর ০১৭১১০৫৫০৭০ নম্বর মোবাইলে গত তিন দিন থেকে ফোন করেও কোন সাঁড়া পাওয়া যায়নি।

মতামত