Today: 26 Mar 2017 - 01:14:02 pm

রংপুর সিটি করপোরেশনে উন্নয়নকাজে ধীরগতি, মাসের পর মাস দুর্ভোগ

Published on Sunday, March 19, 2017 at 11:17 am

স্টাফ রিপোর্টার: রংপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক রেলওয়ে স্টেশন সড়ক। কয়েক মাস ধরে সড়কটিতে একই সঙ্গে সংস্কার ও নর্দমা নির্মাণের কাজ চলছে। ধীরগতির এই কাজের কারণে নগরবাসী, বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে।

নির্মাণকাজের যন্ত্রপাতি, মালামাল এবং নর্দমা খোঁড়া মাটি সড়কের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় যানবাহন ও পথচারী চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক শাপলা চত্বর থেকে রেলওয়ে স্টেশন ও তাজহাট এলাকা পর্যন্ত।

এদিকে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের কাজে গড়িমসি করছে বলে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আজম আলী গতকাল শনিবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সড়কটির দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। গত বছরের জুন মাসে রাস্তা সংস্কার ও দুই দিকের নর্দমা নির্মাণে ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু করা হয়। কাজটি শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের জুনে। এদিকে এই ৯ মাসে নির্মাণকাজ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ।

গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের শাপলা চত্বর থেকে রেলওয়ে স্টেশন ও তাজহাট বাবুপাড়া রেলগেট সড়কটিতে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রেলওয়ে স্টেশন রোডের ঠিকাদারপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নর্দমার এক দিকের নির্মাণকাজ শেষ হলেও ওপরের ঢাকনা এখনো বসানো হয়নি। আরেক দিকে খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু সড়কের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে পড়ে আছে মাটি, বালু ও পাথর। এসব সরানোর তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে সড়কটি সংকুচিত হয়ে গেছে। নাগরিকদের দুর্ভোগের শেষ নেই। ব্যবসায়ীরা দোকান খুললেও মালামাল আনা-নেওয়া করতে পারেন না। সেই সঙ্গে ক্রেতারাও দোকানে যেতে পারছেন না।

ঠিকাদারপাড়ায় সড়কের দুই পাশের অধিকাংশ দোকান লোহালক্কড়, লেদ মেশিন, মোটর পার্টসের। রফিক মেশিনারিজের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, টানা চার মাস ধরে নর্দমার নির্মাণকাজ চলছে। ধীরগতিতে কাজ চলায় তেমন একটা ব্যবসা হচ্ছে না। একই এলাকার মেসার্স সানি আয়রনের মালিক মনির হোসেন বলেন, রাস্তা খোঁড়ার কারণে ট্রাকে মালামাল আনা সম্ভব হচ্ছে না।

বাবুপাড়ায় সাত মাস ধরে সড়কের অর্ধেক খুঁড়ে রাখা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। চলাচল করতে গিয়ে যে কারও খানাখন্দে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই এলাকার এক ব্যবসায়ী জাভেদ ট্রেডার্সের মালিক আবেদ আলী বলেন, মাসের পর মাস রাস্তার অর্ধেক খুঁড়ে রাখা হয়েছে। নির্মাণের কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।

আলমনগর-নূরপুর এলাকায় নর্দমায় ঢাকনা বসানো হয়নি। নিজ উদ্যোগে ছোট ছোট কাঠ বসিয়ে এখানকার ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। নূরপুর এলাকার রূপান্তর ট্রেডার্সের মালিক সেলিম সরকার বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে নর্দমার ওপরের ঢাকনা না বসায় আমাদের কী যে দুর্ভোগ হয়েছে, তা তো দেখতেই পাচ্ছেন।’

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আজম আলী নগরবাসীর দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, একই সঙ্গে নর্দমা ও রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় নগরবাসীর দুর্ভোগ হয়েছে। ইতিমধ্যে মাত্র ৩০ ভাগ কাজ হয়েছে। এই জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা মোটেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাকা এন্টারপ্রাইজের মালিক ফরিদউদ্দিন বলেন, একসঙ্গে নর্দমা ও রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে দেরি হচ্ছে। এই রাস্তায় সব ধরনের যানবাহন ও মানুষজন চলাচল করে। ফলে নির্মাণে অসুবিধা হচ্ছে।

খবর- প্রথম আলো

মতামত