Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ২১ অগাস্ট, ২০১৭ :: ৬ ভাদ্র ১৪২৪ :: সময়- ৭ : ০০ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / দুধ কলা দিয়ে হেফাজত পোষা

দুধ কলা দিয়ে হেফাজত পোষা

প্রভাষ আমিন

২০১৩ সালে বাংলাদেশে হেফাজতে ইসলাম নামে একটি উগ্র সংগঠনের জন্ম হয়। কিছু কুচক্রী শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চকে হেয় করতেই কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক এই সংগঠনটিকে সামনে নিয়ে আসে। প্রতিক্রিয়াশীল এই সংগঠনটির নামটিই বিভ্রান্তিকর। মনে হয় যেন, আল্লামা শফি আর বাবুনগরীর উত্থানের আগে বাংলাদেশে ইসলাম ঝুঁকির মুখে পড়ে গিয়েছিল। ইসলামকে হেফাজত করার নামে মাঠে নামলেও তাদের আসল প্রতিপক্ষ ছিল গণজাগরণ মঞ্চ। আর গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিপক্ষ মোটেই ইসলাম ছিল না, ছিল যুদ্ধাপরাধীরা। গণজাগরণ মঞ্চ শুধু যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছিল।

‘আমার দেশ’ পত্রিকাকে সামনে রেখে একটি চক্র গণজাগরণ মঞ্চকে নাস্তিকতার ট্যাগ লাগানোর চেষ্টা করে। আর মাঠে নামায় হেফাজতে ইসলামকে। ৫ এপ্রিলের বিশাল সমাবেশ থেকে পাওয়া শক্তিতে আরো বলিয়ান হয়ে আরো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ৫ মে আবার ঢাকা ঘেরাও করতে আসে তারা। এসে ঘোষণা দেয় থেকে যাওয়ার। হেফাজতে ভর করে কেউ কেউ সরকার পতনের স্বপ্নও এঁকে ফেলেন। কিন্তু সরকারের দৃঢ়তায় ৫ মে রাতেই শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতের কর্মীদের তাড়িয়ে দেয়া হয়। কর্মীদের ফেলে নেতারা অবশ্য আগেই পালিয়েছিলেন। আল্লামা শফি তো শাপলা চত্বরে আসেনইনি।

৫ মে হেফাজতে ইসলাম ঢাকায় যে তাণ্ডব করেছে, তা স্মরণ করলে এখনও শিউরে উঠতে হয়। কোরান শরিফে আগুন দেয়া, মতিঝিলের আশেপাশের প্রায় সব গাছ উপড়ে ফেলা, নারী সাংবাদিককে মারধরসহ তাদের সব তৎপরতাই ছিল ইসলামবিরোধী। যারা একজন নারীকে হেফাজত করতে পারে না, তাদের যে ইসলামকে হেফাজত করার সামর্থ্য বা আকাঙ্ক্ষা কোনোটাই নেই; তা বুঝতে অসুবিধা হয় না কারোরই। ঢাকায় এসে তারা যে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ফিরে যাবে অন্ধকার সময়ে। ইসলামকে হেফাজত করা নয়, বরং তাদের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের প্রগতি আর উন্নয়নের চাকাকে আটকে দেয়া।

দারুণ কৌশলে, সকল অপপ্রচার মোকাবেলা করে হেফাজত নামের কাল সাপকে শাপলা চত্বরে থেকে তাড়ালেও সরকার সেই কাল সাপের বিষ দাঁত ভাঙ্গার উদ্যোগ নেয়নি। বরং সরকার তাদের দমনের কৌশল পাল্টে দুধ কলা দিয়ে সেই কাল সাপ পোষার কৌশল নেয়। সরকারের কাছ থেকে প্রকাশ্য ও গোপন নানা সুবিধা পেয়ে তাদের ইসলামকে হেফাজত করার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। আল্লামা শফি তার হাটহাজারির আখড়ায় আয়েশি জীবন যাপন করতে থাকেন। মাঝে মাঝে শীতকালীন মহড়ায় নেমে নারীদের তেতুলের সাথে তুলনা করে, তাদের প্রাইমারি স্কুলের বেশি পড়ার দরকার নেই, কাজ করার দরকার নেই ইত্যাদি ইত্যাদি বলে একটু গা ঝাড়া দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার এইসব ফোঁসফাঁস আসলে নতুন কোনো সুবিধা পাওয়ার কৌশল।

হেফাজতের সাথে সরকারের অশুভ আঁতাত পুরোটাই ছিল গোপনে। সরকার এমনিতেই তাদের আবদার মেনে নিচ্ছে, তাদের দাবি অনুযায়ী পাল্টে যাচ্ছে পাঠ্যপুস্তকের পুরোটাই। তাই তাদের আর মাঠে নামারই দরকার হয়নি। প্রেস রিলিজ দিয়ে দাবি আদায় হলে কে আর মতিঝিলে আসে? কিন্তু সরকার বোধহয় এখনও বুঝতে পারছে না, কাল সাপ কাল সাপই, সবসময়ই বিষাক্ত। যতই দুধ কলা দিয়ে পোষ মানানোর চেষ্টা করেন না কেন।

সরকার না বুঝলেও সরকারের জোটসঙ্গী ও মন্ত্রিসভার সদস্য রাশেদ খান মেনন অবশ্য বুঝেছেন। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, হেফাজতকে যতই পৃষ্ঠপোষকতা করা হোক, যতই মাদের মাথায় হাত বোলানো হোক না কেন, তারা কখনো ভোটের ময়দানে সরকারের পক্ষে দাঁড়াবে না। এই সত্যটা রাশেদ খান মেমন বোঝেন, সরকার বোঝে না কেন?

বানরকে কখনো লাই দিতে হয় না। লাই দিলে বানর মাথায় ও্ঠে। হেফাজতের দাবি মেনে পাঠ্যপুস্তক বদলানোর পর তাদের কাছে সবকিছুই ছেলের হাতের মোয়া মনে হতে থাকে। এবার তারা ফোঁসফাঁস শুরু করেছে, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য্ সরানোর দাবিতে। অনেকদিন ধরেই তারা আরেকটি শাপলা চত্বর ঘটানোর হুমকি দিচ্ছিল এবং শেষ পর্যন্ত আবারও ৫ মে’তেই ঢাকা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিয়েছে।

তবে আমার ধারণা বয়সের কারণে শফি হুজুর আর বাবুনগরীর স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছে। ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে যে মাত্র ১৩ মিনিটের অপারেশনে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছিলেন, সেটা বোধহয় তারা ভুলেই গেছেন।

ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালায়, এই যাদের ধারণা; তাদের কাছে মূর্তি আর ভাস্কর্য এক মনে হয়। তারা যদি শুধু হাটহজারীর গুহায় বসে না থেকে একটু বাইরে বের হন, ইউরোপ-আসেরিকা নয়, কয়েকটি ইসলামী দেশ ঘুরে আসেন; তাহলেও দেখবেন, ভা্স্কর্য একটি রাষ্ট্রের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরে। ভাস্কর্য আর মূর্তি এক নয়। সুপ্রিম কোর্টের সামনে যে ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, সেটি এক বাঙালি নারীর। শাড়ি পড়া এই নারীর এক হাতে ন্যায়বিচারের প্রতীক দাড়িপাল্লা, আরেক হাতে বিচার কার্যকর করার তলোয়ার। এটি কোনো গ্রিক দেবীর মূর্তি নয়। আর এখানে কেউ পুজাও দেয় না।

তবে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে ভাস্কর্য সরানোর দাবি হেফাজতের একার নয়। নামের সাথে ইসলাম আছে এমন আরো কয়েকটি খুচরা সংগঠনও একই দাবি জানাচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো, আওয়ামী ওলামা লীগ নামে একটি সংগঠন্, যারা নিজেদের সরকার সমর্থক দাবি করে আসছে, তারাও একই দাবি করছে। আসলে সব রসুনের গোড়া এক জায়গায়। এমনকি চাইলে, দেশে আবার হঠাৎ গজিয়ে ওঠা জঙ্গী তৎপরতারও যোগসূত্র পাওয়া যেতে পারে।

সাম্প্রদায়িক শক্তির মাথায় হাত বুলিয়ে, পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ঢুকিয়ে দিয়ে আপনি র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে জঙ্গী দমন করতে পারবেন না। কওমী মাদ্রাসার আড়ালে আমাদের সন্তানদের মগজের কোষে কোষে কারা সাম্প্রদায়িকতার বিষ ঢুকিয়ে দিচ্ছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। সাম্প্রদায়িক শক্তির বিষ দাঁত উপড়ে ফেলতে হবে, দুধ কলা দিয়ে পোষ মানানোর চেষ্টা করে লাভ নেই। সময় মত ঠিকই ছোবল মারবে।

প্রভাষ আমিন : সাংবাদিক, কলাম লেখক।
[email protected]

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful