Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ :: ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ :: সময়- ১২ : ৩০ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / ‘আ. লীগ যতোই টানুক, ভোট যাবে বিএনপিতেই’

‘আ. লীগ যতোই টানুক, ভোট যাবে বিএনপিতেই’

সালমান তারেক শাকিল: কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান দেওয়ার সরকারি স্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সরকারের সুসম্পর্ক নিয়ে টেনশনে নেই বিএনপি।

দলটির নেতারা মনে করেন, সম্প্রতি সরকারের ভারতমুখীতার বিষয়টিকে আড়াল করতেই কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দলটির সিনিয়র নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ যতোই সুসম্পর্ক গড়ে তাদের কাছে টানার চেষ্টা করুক এই ইল্যুশন ভোটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা ইসলামি মূল্যবোধ ও বাংলাদেশি চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাসী হওয়ায় তাদের ভোট যাবে বিএনপি ও সমমনা জোটের বাক্সেই। কারণ, কওমিপন্থীদের ওপর আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতনের তিক্ত অতীত এত সহজে ভোলার নয়।

বিএনপির পাশাপাশি এমন ধারণা হেফাজত ও কওমিপন্থী দলগুলোর অনেক নেতারও। তারা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের চিন্তা যাই থাকুক না কেন, রাজনৈতিক কৌশল ও ভোটের মাঠে এই স্বীকৃতি কোনও ফল বয়ে আনবে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমরা মনে করি তারা মৌলভী হলেও মোটামুটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং ইসলামী মূল্যবোধ তাদের আছে। তারা ভালো করেই জানেন, (আওয়ামী লীগ) যতই স্বীকৃতি দিক বা যাই-ই করুক না কেন, যদি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে বাঁচিয়ে রাখতে হয় তাহলে ইসলামি মূল্যবোধকে বাদ দিয়ে কিছু করা যায় না। সে পরিমাণ ইসলামিক মূল্যবোধ আওয়ামী লীগের নেই। তারা ইসলামি মাইন্ডের, আমরাও। কাজেই এখন কিছুটা ইল্যুশন তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের (কওমিপন্থী) ৭০-৮০ শতাংশ ভোট আমাদের বাক্সেই আসবে।’

বিএনপি নেতারা বলছেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর থেকেই কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সরকার। ফতোয়া দেওয়া নিষিদ্ধ বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়কে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ জন কওমি শিক্ষার্থীর মৃত্যু, প্রয়াত শায়খুল হাদিস আজিজুল হকের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা হত্যা মামলা, মুফতি আমিনীসহ তৎকালীন কওমিপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাদের গ্রেফতার প্রভৃতি ঘটনা ঘটে আওয়ামী লীগের বিগত শাসনামলে। এরপর আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় মেয়াদেও নারী উন্নয়ন নীতিমালা ও ১৩ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে শাসক দলের বিরোধ তৈরি হয়। এই বিষয়গুলো আদর্শিক ও রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকে বিরোধপূর্ণ। এ কারণে হেফাজত ও কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ভোট নিয়ে টেনশনে নেই বিএনপি।

প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায় কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমানে মূল্যায়ণ করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন গণভবনে আয়োজিত আলেম-ওলামাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলাম প্রধান মাওলানা আহমদ শফীসহ কওমি মাদ্রাসার শীর্ষস্থানীয় আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘ টেনশন তো সরকারের । হেফাজতকে গণভবনে ডেকে নিয়ে কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি মানে গরু মেরে জুতো দান। এটি আওয়ামী লীগের জন্য বরং বুমেরাং হবে। মূলত সরকারের ভারতের প্রতি চরম মুখাপেক্ষিতার বিষয়টিকে আড়াল করতেই কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেওয়া হল। আবার এই স্বীকৃতিও কৌশলের। যা বিএনপির সময় দেওয়া হয়েছিল, তাই-ই আবার গণভবনে দেওয়া হল।’

শামসুজ্জামান দুদু মনে করেন, ‘নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের এমন আচরণে সুবিধাবাদিতা ফুটে উঠেছে। ইসলামপন্থীদের জঙ্গিবাদী বলে কোণঠাসা করে রেখেছে তারা। এখন দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের স্বীকৃতি দিয়ে ভোট আশা করলে হিতে বিপরীত হবে। আজকেও (মঙ্গলবার) সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ‘তেঁতুল হুজুর’ প্রসঙ্গ তুলে তাদের বিদ্রুপ করেছেন। তাহলে সরকারের কার কথা সত্য?’

দলটির আরেক ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী প্রশ্ন তুলেছেন দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতির ধরন নিয়ে। তার ভাষ্য, যেভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা কিভাবে সঙ্গতিপূর্ণ করা হবে এ বিষয়ে এখনও কোনও নির্দেশনা নেই। এটা চিন্তা-ভাবনা করে দেওয়া হয়নি। আর রাজনৈতিক চিন্তা থেকে করলে সেটি কার্যকরও হবে না।

তিনি বলেন, ‘ প্রধানমন্ত্রীর এই স্বীকৃতির কারণে কওমিপন্থীরা ভোটের সময় তার দিকে হেলে পড়বেন, এমন ভাবা বোকামি বটে। তাই এ নিয়ে টেনশনে নেই বিএনপি।

এদিকে, মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকারের মতো বিএনপির অবস্থান ডাবল স্ট্যান্ডের নয়। সরকার হেফাজতকে পিটিয়ে-পুটিয়ে বলছে, আসুন এবার বসুন। বিএনপি হেফাজতের কিছু দাবিকে যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করেছে। যদিও সরকার বিভিন্নভাবে হেফাজতকে বশে আনার চেষ্টা করছে।’

তিনি এও বলেন, ‘আমরাও চাই মাদ্রাসার শিক্ষা আরও আধুনিক হোক এবং ছাত্ররা বর্তমান পৃথিবীর উপযোগী ও ওয়ার্কিং ফোর্স হিসেবে গড়ে উঠুক।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, ‘২০০১ ও ২০১৩ সালে কওমি মাদ্রাসাপন্থীদের ওপর যে নির্যাতন করেছে আওয়ামী লীগ, সেটা নিশ্চয় আলেমরা ভুলে যাননি। আর এই স্বীকৃতি বিএনপিই প্রথম দিয়েছে। ২০০৬ সালে জোট সরকারের শেষ সময়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।’

রাজনৈতিকভাবে কওমি সনদের স্বীকৃতি কোনও ভূমিকাই রাখবে না বলে মনে করেন বিএনপি ও হেফাজতের নেতারাও। ভোটের মাঠে কওমিপন্থীদের ভোটপ্রাপ্তির কোনও সুযোগ নেই বলে মনে করেন খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুনতাসির আলী।

তিনি বলেন, ‘কার্যত কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি বিএনপি জোট সরকারের সময়েই হয়েছে। এখন যে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে, এটি তারই ফলোআপ। দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি একটি সার্বজনীন বিষয়। ফলে, স্বীকৃতি প্রদানের কারণে সাধুবাদ পেতেই পারে। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ভোটের বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন।’

কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতির বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানান হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। তিনি বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসায় যারা পড়ে এবং পড়ান, তারা এই দেশের নাগরিক। দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে কওমি মাদ্রাসা। ফলে, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া আমাদের সাংবিধানিক নাগরিক অধিকার। ২০০৬ সালে ২২ আগস্ট কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেয় তৎকালীন সরকার। ওই সময় গেজেট হলেও আইন হয়নি। কওমি মাদ্রাসা নিরক্ষরতা দূর করতে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ণ ছিল না। ফলে, স্বীকৃতি প্রদানকে রাজনৈতিকভাবে প্রচার করার কোনও সুযোগ নেই।’

খবর- বাংলা ট্রিবিউন

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful