Today: 30 Apr 2017 - 07:23:08 am

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা

Published on Thursday, April 20, 2017 at 1:48 pm

বেরোবি প্রতিনিধি: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী দিপু রায়কে উত্যক্তের অভিযোগে আটকিয়ে রাখা এবং তাঁর বাবার আকষ্মিক মৃত্যুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) মীর তামান্না ছিদ্দিকাকে দায়ি করে তার অপসারণসহ বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের সপ্তম দিনে বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বিক্ষোভ শেষে প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দিলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে কর্মকর্তারা। প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেমে আসে স্থবিরতা। পরে সহকারী প্রক্টর ড. শফিক আশরাফের আশ্বাসে বেলা ১১ টার দিকে তালা খুলে দেয় শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুল হ কে আহবায়ক ও ড. শফিক আশরাফকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইবরাহইীম কবীর।

তবে গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত সম্ভব নয় বলে অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানান, তদন্ত কমিটিতে যাদের রাখা হয়েছে তাদের দুজন প্রক্টরের কাছের মানুষ ও একজন অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত হয়েছেন। তাদের মাধ্যমে ন্যায়বিচার সম্ভব নয়।

গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করা সম্ভব বলে জানান কমিটির সদস্য সচিব ড. শফিক আশরাফ। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটি তার কাজ শুরু করেছে। অল্প সময়ের মধ্যে চ’ড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তদন্ত কাজে পক্ষপাত কোন সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল ২০১৭ নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষ করার পর বেলা ১১টার দিকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী দীপু রায় কয়েকজন বন্ধুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নং গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) মীর তামান্না ছিদ্দিকা তাঁর সাথে অসদাচরণের অভিযোগ করে পুলিশের কাছে তুলে দেন। পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সে অসদাচরণের কথা অস্বীকার করলে প্রক্টর দীপুকে বিভিন্ন সময়ের ভাংচুরসহ অন্যান্য মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে নির্দেশ দেন। অভিযোগ উঠে প্রক্টরের এধরণের নির্দেশনার খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান দীপুর বাবা অনীল রায়। এসময় সেখানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মতামত