Today: 24 Jun 2017 - 09:39:32 am

কে হচ্ছেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী উপাচার্য

Published on Friday, April 21, 2017 at 4:07 pm

সাইফুল ইসলাম, বেরোবি প্রতিনিধি: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৫ মে। প্রথম উপাচার্য হিসেবে নির্ধারিত চারবছর মেয়াদ পূর্তির পথে বর্তমান উপাচার্য ড. একে এম নূর উন নবী।

কে হচ্ছেন পরবর্তী উপাচাযর্? নাকি ড. একে এম নূর উন নবী পূণঃনিয়োগ পাবেন এই বিষয়টি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে বাহিরে প্রধান আলোচ্য বিষয়। বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায় উপাচার্য পদে নিয়োগ পেতে ঢাবি, রাবি, জাবি ও ইবির পাঁচ অধ্যাপক জোড় তদবির চালাচ্ছেন। সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে ভালো সখ্যতা গড়তে ব্যস্ত নিয়োগ প্রত্যাশীরা। দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ পেতে মরিয়া বর্তমান উপাচার্য ড. একে এম নূর উন নবী।

আবারো নিয়োগ পেতে তিনি জোর লবিং শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। এ জন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা সহ অনেক আমলার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তবে বিশ^বিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপছন্দের তালিকায় রয়েছেন ড. একে এম নূর উন নবী। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, ক্যাম্পাসে অনুপস্থিতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রশ্নে ড. একে এম নূর উন নবীকে আর উপাচার্য হিসেবে দেখতে চাননা তারা। তার পূণ:নিয়োগের সামান্যতম সম্ভাবনা তৈরি হলে আবারো আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়েছে বিভিন্ন মহল।

তবে ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, যতই তদবির করা হোক না কেন তার দ্বিতীয় বারের মতো নিয়োগ বিভিন্ন কারণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানান কারণে বিভিন্ন সময়ের আন্দোলনে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় সরকারের উর্দ্ধোমহল ও ইউজিসি ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।

উপাচার্য ড. একে এম নূর উন নবীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সমূহের মধ্যে ২০১৩ সালে উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৫১৩ দিন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানসহ সর্বোচ্চ পদগুলো একাই দখল করে রাখা, প্রধানমন্ত্রীর স্বামী খ্যাতনামা পরমাণু বিজ্ঞানী ড, ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে অকার্যকর করে রাখা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার নিয়োগ না দিয়ে সেই পদও দখল করে রাখা, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে রাখা, মিথ্যা মামলা দিয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি সম্পাদকের পদোন্নতি আটকিয়ে রাখা, লাইব্রেরিতে বই ক্রয়ে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ অন্যতম।

বিভিন্ন সময় অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদফায় ইউজিসি তার দুর্নীতি তদন্ত করে। কিন্তু ইউজিসির তদন্ত টীম এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি। ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক তদন্তে বেশিরভাগ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও তলবীয় কাগজপত্র না পাওয়ায় তা দেয়া যাচ্ছেনা। উপাচার্যের কাছে তদন্ত কমিটি বেশ কিছু কাগজপত্র তলব করেছিলো বার বার চিঠি দিয়েও উপাচার্য ওই সব কাগজ প্রদান করেননি।

এদিকে ড. নূর-উন-নবীকে উপাচার্য হিসেবে পেতে ক্যাম্পাসে সক্রিয় একটি মহল। অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীক এই মহলটি ২০১৩ সাল থেকেই বিভিন্ন ভাবে ড. নূর-উন-নবীকে সমর্থন দিয়ে আসছে। উপাচার্যের বিশেষ সহযোগিতায় গত চার বছরে এই মহলটি ক্যাম্পাসে বেশ প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তার পূন:নিয়োগের সম্ভবনায় আন্দোলনের সৃষ্টি হলে এই মহলটি তার মোকাবেলায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানা গেছে।

মতামত