Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ :: ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ :: সময়- ৮ : ১০ পুর্বাহ্ন
Home / কুড়িগ্রাম / উলিপুরে এলজিএসপি প্রকল্পে সীমাহীন দুর্নীতি

উলিপুরে এলজিএসপি প্রকল্পে সীমাহীন দুর্নীতি

তৈয়বুর রহমান, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরে দুই ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করন প্রকল্প এলজিএসপি’র ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত টাকার সিংহভাগ আত্মসাৎ করেছেন সংশ্লিষ্ট দুই চেয়ারম্যান।

দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়া এ দুই চেয়ারম্যান নির্বাচনকালিন সময়ে ‘১৬ সালের জুন মাসে ঐ বরাদ্দের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ উত্তোলন করে নিয়ম বর্হিভুত ভাবে নিজেদের কাছে রাখেন। তারা পূনঃরায় নির্বাচিত হওয়ার পর নব নির্বাচিত ইউপি সদস্যদের অন্ধকারে রেখে ১০ মাস আগে উত্তোলিত ঐ অর্থের বিপরীতে কিছু কিছু প্রকল্প শুধু কাগজ কলমে দেখিয়ে বরাদ্দকৃত টাকার সিংহভাগ পকেটস্থ করেন। বাস্তবায়নকৃত প্রকল্প গুলোতে মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ টাকা ব্যয় করায় এ সব প্রকল্প মানুষের কোন উপকারেই আসছে না বলে স্থানীয় মানুষজন জানান।

নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহনের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষদের নিয়ে সভা করে সর্ব সম্মতভাবে জন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রকল্প গ্রহন করার কথা। কিন্তু এ ২ ইউনিয়নে তা একেবারেই মানা হয়নি। বিশ্বব্যাংকের এ অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি মস্ত্রনালয়ের মাধ্যমে নিরিক্ষন করতে এসে চাটার্ড এ্যাকাউন্ডের একটি দল দুর্নীতির ভাগ নিয়ে সমস্থ ভাউচার হালাল করে দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ভাবেই স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের মহাউৎসব চলে ইউনিয়ন দুটির তৃনমুল পর্যায়ে। জনপ্রতিনিধিরা প্রকাশ্যে দুর্নীতি করলেও তৃনমূল পর্যায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কোন ভুমিকা না থাকায় স্থানীয় মানুষজন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসে দাখিলকৃত প্রকল্পের সুত্র ধরে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে এমন চিঁত্রই পাওয়া গেছে।

উপজেলার বজরা ইউনিয়নে ১লক্ষ ৫০হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে খামার বজরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনসেড চাল নির্মান ও জানালা সংস্কার করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হয়নি। ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সংস্কারের জন্য ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ নিয়েই এ কাজ সম্পন্ন করেছেন তিনি। একই বিদ্যালয়ে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মানে ১লক্ষ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দের মধ্যে ২ হাজার ইট দিয়ে বাউন্ডারী ওয়াল এর কাজ শুরু করে অসমাপ্ত রাখেন। ১লক্ষ ১০হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে পশ্চিম বজরা দাখিল মাদ্রাসা গৃহের টিনসেড বেড়া, মেঝে পাকাকরন ও বারান্দা নির্মানের কথা। কিন্তু সেখানে তা না করে প্রতিষ্ঠান প্রধান রেফাকাত হোসেনের হাতে ২ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি সাংবাদিকদের জানান। ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরতে বজরা ডিগ্রী কলেজ, বজরা এলকে আমিন উচ্চ বিদ্যালয় ও বজরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৈদ্যুাতিক ফ্যান ও বাতি সরবরাহ করন দেখানো হলেও সেখানে কোন মালামাল সরবরাহ করা হয়নি।

এ ছাড়া এলজিএসপি’র বিগত ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৪লক্ষ ৮৫ হাজার ২৮১ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বজরা এলকে আমিন ডিগ্রী কলেজের গৃহ নির্মান করার কথা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক,কর্মচারী ও স্থানীয় মানুষজনের মাঝে গুঞ্জন রয়েছে, কলেজে শিক্ষক নিয়োগ্রে ডোনেশনের টাকায় পুরাতন টিনসেড ঘরের টিন দিয়ে আধাপাকা ভবন নির্মান করে এলজিএসপি’র অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। একই চত্বরে অবস্থিত ৩ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি চেয়ারম্যান নিজেই হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পান না। ১লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বজরা হাটের ড্রেন নির্মান করার কথা। সেখানে মাত্র ২ হাজার ইট কিনে পুরাতন ড্রেনের ইট ব্যবহার করে ড্রেন নির্মানের মাধ্যমে সিংহভাগ টাকা পকেটস্থ করা হয়। ১লক্ষ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বিরহিম চরে ৫শ ইটের ইউড্রেন নির্মানের মাধ্যমে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ৮৬ হাজার ৭২৫ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে চাঁদনী বজরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬টি বৈদ্যুাতিক ফ্যান ও একটি সোলার সরবরাহ করা হয়। শুধু ১৫-১৬ অর্থবছরেই নয় বিগত ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দে খামার বজরা মৌজায় মোকছেদের বাড়ীর সামনে ও ঝাকুয়াপাড়া আলতাবের বাড়ীর সামনে যাত্রী ছাউনি, ৩২ হাজার ৭২৫ টাকা বরাদ্দে পুরাতন বজরা বাজারে যাত্রী ছাউনি এবং ৪২ হাজার টাকা বরাদ্দে বিরহিম নয়ারহাটে যাত্রী ছাউনি দেখানো হলেও বাস্তবে এ সব প্রকল্পের অস্থিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে ৪ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে অনন্তপুর বাজারে আরসিসি রাস্তা বর্ধিতকরনের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ৯৬ হাজার ৫৫৪ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে হাতিয়া বালিকা বিদ্যালয়ে শ্রেনীকক্ষ সংস্কার কাজের নামে সমূদয় টাকা পকেটস্থ করা হয়েছে। কারন ঐ ইউপি’র চেয়ারম্যান আবুল হোসেন নিজেই ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, ৪বছর আগে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ বিদ্যালয়টি পাকা ভবন নির্মান করে দেয়। এ ছাড়াও এলজিএসপি ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ঐ বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র সরবরাহের নামে ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেখিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দে অনন্তপুর বাঁধের রাস্তা হতে নদীর পাড়গামী রাস্তায় বাহের আলীর বাড়ীর নিকট ইউড্রেন নির্মান করন দেখানো হলেও সেখানে কোন ইউড্রেন খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে অনন্তপুর বাজার হতে হাতিয়া ভবেশ গামী রাস্তায় বিবিজি’র অর্থ দ্বারা একটি ইউড্রেন নির্মানের দৃশ্য চোখে পড়ে। যা তৈরী করতে ২ হাজার ইটের বেশী লাগেনি বলে গ্রামের লোকজন জানান। এদিকে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তর থেকে পাওয়া প্রকল্প তালিকায় বিবিজি’র নামে কোন প্রকল্প পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে পিবিজি প্রকল্পের ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে বাগুয়া অনন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বাগুয়া অনন্তপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাতিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নীলকন্ঠ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মিয়াজী পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেঞ্চ সরবরাহ দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৫জোড়া করে ও অনন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ জোড়া বেঞ্চ সরকবরাহ করা হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান শিক্ষকগন সাংবাদিকদের জানান। হাতিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চেয়ারম্যান নিজে হওয়ায় সেখানে কত জোড়া বেঞ্চ সরবরাহ করা হয়েছে,প্রতিষ্ঠানের অন্য কোন শিক্ষক বলতে রাজী হননি। ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দে হাতিয়া ভবেশ বাজারে হাটসেড নির্মান দেখানো হলেও সেখানে কোন হাটসেড নির্মান করা হয়নি। এ ছাড়া অন্যান্য প্রকল্প গুলোর একই চিত্র। নিবিড় ভাবে সরেজমিন তদন্ত করলে সীমাহীন দুর্র্নীতির স্বরূপ উদঘাটিত হবে বলে স্থানীয় মানুষের দাবি।

অভিযোগের ব্যাপারে বজরা ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, বেসরকারী অডিট টীম তার কাজে সন্তষ্ট। হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, তার কাজ দুর্নীতি কমিশনের লোক ৪বার তদন্ত করেও কোন দুর্নীতি পায়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, এ সব দুর্নীতির ব্যাপারে আমার জানা নেই, আপনাদের কাছে কোন ফাইন্ডিংস থাকলে আমাকে জানালে ব্যবস্থা নিব। এলজিএসপি প্রকল্প মনিটরিং এর দায়িত্বে থাকা জেলা ফ্যাসিলিটেটর ফারুক আহমেদ এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, অডিট টিম কি কি আপত্তি দেন সেটি জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শুধু ঐ ২ ইউনিয়নেই নয়, দুর্গাপুর ইউনিয়নসহ আরও বেশ কটি ইউনিয়নে কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ার তথ্য আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful