Today: 23 May 2017 - 12:56:51 pm

অভিভাবকহীন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়: অচলাবস্থা সৃষ্টির আশঙ্কা

Published on Sunday, May 14, 2017 at 5:02 pm

 বেরোবি প্রতিনিধি: গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে আজ (রবিবার) অভিভাবকবিহীন অবস্থায় খুলেছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য,উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষসহ একাধিক অনুষদ ও বিভাগের প্রধানের পদ শূন্য হওয়ায় অচলবস্থা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ড. একেএম নূর-উন-নবী ২০১৩ সালের ৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন। ৫ মে তার মেয়াদ শেষ হয়। অভিযোগ উঠেছে, গত ৪ বছরে উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারী আচরণের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ ক্ষতিগস্থ্য হয়েছে। উপাচার্য আইন লঙ্ঘন করে ১৭টি পদে একাই দায়িত্ব পালন করছেন। সদস্য হয়েছেন ৯টি বিভাগের প্লাানিং কমিটির। এছাড়াও তিনি পরিচালকের ছয়টি পদ (ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্সটিটিউট, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-ই-লার্নিং সেন্টার, সাইবার সেন্টার, বহিরাঙ্গন, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দফতর এবং জনসংযোগ), ৩টি অনুষদের ডিন (জীব ও ভূ-বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ), ৩টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের (লোক প্রশাসন, রসায়ন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) দায়িত্ব পালন করছেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, হিসাব পরিচালকের শূন্যপদে কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে নিজেই ছিলেন।এছাড়াও প্রক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে একজন জুনিয়র সহকারী অধ্যাপককে। তিনি বিভিন্ন বিভাগে চরম শিক্ষক সঙ্কট থাকলেও ইউজিসি অনুমোদিত ২১টি পদে নিয়োগের কোনো উদ্যোগ নেননি বলেও অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নুর ইসলাম বলেন, “যেহেতু তিনি প্রায় দশাধিক পদে আসীন ছিলেন সেহেতু ঐ সকল পদে সমন্ময়হীনতা বিরাজ করছে। তাই আমি মনে করি ,অতি দ্রুত উপাচার্য নিয়োগের জোর দাবী জানাচ্ছি”।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া বলেন,“ এতে কিছু বিশৃংখল অবস্থা তৈরী হতে পারে।তবে আমরা মনে করি আমাদের মাননীয় রাষ্ট্রপতি অতি তাড়াতাড়ি উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে এই সংকটাপন্ন অবস্থা দুর করবেন”।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, “যেহেতু উপাচার্য বিভিন্ন বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন সেহেতু ঐ বিভাগগুলো কিছুটা সমস্যায় পড়বে। এছাড়াও বিভিন বিভাগের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রেও এটি অন্তরায়।একজন সৎ,একনিষ্ঠ ও যিনি প্রকৃতপক্ষেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করবেন এমন একজন উপাচার্য নিয়োগের আশাবাদ ব্যক্ত করেন”।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ এ অবস্থাকে কেন্দ্র করে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় এজন্য অতিসত্তর যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি”।
উল্লেখ্য যে, গত ৬ মে সদ্য সাবেক হওয়া ভিসি অধ্যাপক ড. নুর-উন-নবীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ এ বিদ্যাপিঠ।

মতামত