Today: 29 Jun 2017 - 03:09:47 pm

লালমনিরহাটে পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় বেধম মারপিট, মা মেয়ে হাসপাতালে

Published on Wednesday, May 17, 2017 at 5:02 pm

 নিয়াজ আহমেদ সিপন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় মা মেয়েকে বেধম মারপিট করেছে পাষন্ড গৃহকর্তা বজলুর রহমান ও তার পরিবারের লোকজন।

মঙ্গলবার(১৬ মে) দিনগত রাতে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে আহত মা ইয়াসমিন বেগম(৩০) ও মেয়ে মুসরত জাহান বিথীকে(৬)।  পাষন্ড গৃহকর্তা বজলুর রহমান লালমনিরহাট পৌরসভার তালুক খুটামার গ্রামের আমজাদ চৌকিদারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ২০০৯ সালে বজলুর রহমানের সাথে বিয়ে হয় আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামের ইনসান আলীর মেয়ে ইয়াসমিন বেগমের। বিয়ের সময় একটি অটোবাইক যৌতুক হিসেবে জামাইকে দেন ইনসান আলী।

বিয়ের কিছু দিন না যেতেই জুয়া খেলায় সেই অটোবাইক বিক্রি করে দেন বজলুর রহমান। এরপর ওষুধ কোম্পানীতে চাকুরী করার কথা বলে শ্বশুরের কাছে আবারও ২০ হাজার টাকা নেন বজলুর। এরই মাঝে বজলুর ইয়াসমিনের ঘরে জন্ম নেয় দুইটি মেয়ে সন্তান।

চাকুরীর সুবাধে জেলার পাটগ্রামে অবস্থান করায় সেখানে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বজলুর রহমান। সেই পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় মঙ্গলবার(১৬ মে) দুপুরে বাড়ি এসে স্ত্রী ইয়াসমিনকে মারপিট করে লম্পট বজলুর রহমান ও তার বোন আমিনা বেগম। এসময় ছোট মেয়ে মুসরত জাহান বিথী(৬) মায়ের কাছে এগিয়ে গেলে তাকেও উপরে তুলে আছর মেরে পা ভেঙ্গে দেন। এরপর স্থানীয়রা এসে মা মেয়েকে উদ্ধার করে রাতে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালের বেডে ভর্তি ইয়াসমিন বেগম জানান, স্বামীকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে পুনরায় যৌতুক নিতে তার শ্বশুড়, শ্বাশুড়িসহ পুরো পরিবার তাকে বাড়ি ছাড়া করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় বাড়ির সবাই মিলে তাকে ও তার মেয়ে বিথীকে মারপিট করেছে।

ইয়াসমিনের ভাই লিজু জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারের সাথে কথা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত উপ সহকারী মেডিকেল অফিসার সৌরভ জানান, শিশু বিথীর মায়ের ফ্যাক্সার হতে পারে, এক্স-রে করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও গৃহবধু ইয়াসমিন মাথায় আঘাত পেয়েছেন। সেড়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগবে।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক জানান, ভিকটিমের পরিবারের মাধ্যমে শুনে সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মতামত