Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ :: ৩ পৌষ ১৪২৪ :: সময়- ২ : ৪৬ পুর্বাহ্ন
Home / নাটোর / ভালোবাসার টানে নাটোরে থাই-কন্যা

ভালোবাসার টানে নাটোরে থাই-কন্যা

 ডেস্ক: ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়। অতপর দূরদেশে থেকেও পরস্পরের মধ্যে গড়ে উঠে গভীর ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসার টানে থাইল্যান্ডের মেয়ে সুপুত্তো ওম বাংলাদেশের নাটোরে এসে পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করলেন।

থাইল্যান্ডে বহুবিবাহের চালু থাকা রীতি তার পচ্ছন্দ না হওয়ায় বিয়ে না করেই দিনের পর দিন অপেক্ষা করছিলেন ৩৬ বছরের বয়সের ওম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে বাংলাদেশের তরুণ অনিক খানের (২২) সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর ফেসবুকেই তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভালবাসায় রূপ নেয়।

ভালোবাসার টানে ইতিমধ্যে কয়েকবার নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে ছুটে আসেন ওম। কিন্তু অনিকের পরিবার মেনে না নেয়ায় দু’জনের সম্পর্ক চূড়ান্ত রূপ নেয়নি।

তবে হাল ছাড়েননি সুপুত্তো ওম। অনিকের ভালোবাসার টানে থাইল্যান্ড থেকে এবারও ছুটে আসেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পাত্রের পরিবার সম্মত হওয়ায় গতকাল বুধবার নাটোর আদালতে অনিকের সঙ্গে পরিণয়ে আবদ্ধ হলেন এই থাই-কন্যা।

অনিক খানের সঙ্গে বিয়ে হওয়ায় দারুন খুশি সুপুত্তো ওম। তিনি জানান, পড়ালেখা শেষ করে প্রথমে ব্যাংকে চাকরি করতেন। এখন ফাস্টফুডের ব্যবসা করেন। দোকানে বসে ফেসবুক ঘাটাঘাঁটি করতে গিয়েই বাংলাদেশের তরুণ অনিক খানকে বন্ধুত্বের প্রস্তাব পাঠান। অনিক প্রস্তাব সমর্থন করলে তাদের মধ্যে চেনাজানা শুরু হয়। ফোনেও কথাবার্তা চলতে থাকে। এভাবেই তারা পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলেন।

ওম জানান, তার বাড়ি থাইল্যান্ডের চো-অম জেলার পিচচোবড়ি এলাকায়। বাবা উইছাই ও মা নট্টাফ্রন আলাদা থাকেন ভিন্ন ভিন্ন দেশে। বন্ধুবান্ধবরা সবাই বিয়ে করেছেন। তারা অনেকেই বহুবিবাহে আসক্ত হয়ে পড়েছেন। এটা তার ভালো না লাগায় ৩৬ বছর ধরে অপেক্ষায় থেকেছেন বলে জানান।

অনিকের ভালোবাসার টানে গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি বাবা-মার অনুমতি নিয়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। বিমানবন্দরে অনিককে দেখে তার আরও ভালো লাগে। অনিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু অনিকের পরিবার আপত্তি করেন। তবে অনিক ও তার পরিবারের সদস্যদের আদর অপ্যায়নে তিনি মুগ্ধ হন। মাত্র পাঁচ দিনের ভিসা নিয়ে আসায় সেবার তিনি তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরে যান।

এরপর মে মাসের প্রথমদিকে এই থাই-কন্যা আবারও অনিকের কাছে ছুটে আসেন। বিয়ে করার জন্য অনিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে-পায়ে ধরেন। দিনের পর দিন কান্নাকাটি করেন। না খেয়ে অনশন পর্যন্ত করেছেন।

অবশেষে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র একদিন আগে বুধবার তারা ইসলাম ধর্মীয় ও হলফনামামুলে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

ওম জানান, তার বর্তমান নাম সুফিয়া খাতুন। তিনি বলেন, মানুষের জীবন একটা, জীবন সঙ্গীও হবে একটা; কিন্তু তাদের সমাজে তা নেই। তিনি বিশ্বাস করেন অনিক তার জীবনে একমাত্র সঙ্গী হয়েই থাকবে। বলেন, তাকে (অনিক) পেয়ে আমি দারুণ খুশি।

অনিক খান জানান, তার বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায়। পড়ালেখা তেমন একটা করেননি। তবে ভাংগা ভাঙা ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারেন। সেখানে তার একটা মুঠোফোন মেরামতের দোকান রয়েছে। দোকানে বসে অলস সময় কাটাতে গিয়ে ফেসবুকে ওমের সঙ্গে তর পরিচয় হয়। এরপর তাদের উভয়ের ফোনে সব সময় ইন্টারনেট সংযোগ থাকে। তারা ভিডিও কল করে দীর্ঘসময় কথা বলেন। এভাবেই তারা পরস্পরকে গভীরভাবে ভালোবেসে ফেলেছেন।

অনিক বলেন, সুফিয়া এখন তার জীবনের একটি অংশ। ওর সঙ্গেই সারা জীবন থাকতে চান তিনি।

অনিকের বাবা আজাদ হোসেন বলেন, মেয়েটি খুবই ভাল। মাত্র ক’দিনে সে আমাদের আপন করে নিয়েছে। আমরা গরীব মানুষ, শিক্ষিত না কিন্তু তাতেও ওর কষ্ট নাই। আমাদের ছেড়ে দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভেবে সে সারাক্ষণ মন খারাপ করেছিল। ওর জন্য এখন তাদেরও কষ্ট হচ্ছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful