Today: 23 May 2017 - 12:51:07 pm

সৈয়দপুরে ৭ মাস ধরে ৪শ টেলিফোন সংযোগ অকেজো

Published on Thursday, May 18, 2017 at 11:45 pm

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি ১৮ মে॥ প্রায় ৭ মাস ধরে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা শহরে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) চার শতাধিক টেলিফোন সংযোগ অকোজো হয়ে আছে। সৈয়দপুর পৌরসভার সড়ক প্রশস্তকরণ ও আরসিসি ড্রেন নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে বিটিসিএল’র টেলিফোন লাইনের বিপুল পরিমাণ ভূ-গর্ভস্থ ক্যাবল্ কেটে ফেলে। এতে করে বিটিসিএলের উল্লিখিত সংখ্যক গ্রাহকের টেলিফোন সংযোগ সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়েছে। এ সব টেলিফোন সংযোগ অচল থাকায় সরকারি ও বেসরকারি গ্রাহকরা যোগাযোগের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় মিউনিসিপাল গভর্ন্যান্স এন্ড সার্ভিসেস প্রজেক্টের (এমজিএসপি) আওতায় সৈয়দপুর পৌরসভার এলাকার পাঁচমাথা সড়ক মোড় থেকে পাবর্তীপুর সড়ক মোড় ও বিমানবন্দর পর্যন্ত  ৩ হাজার ৪৫০ মিটার সড়ক প্রশস্তকরণ,আরসিসি ড্রেন,ফুটপাত নির্মাণ ও এলইডি স্ট্রীট রাইট স্থাপন কাজ চলছে। গত বছরের ৭ নভেম্বর থেকে এ কাজ শুরু হয়েছে। এ কাজে ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকার মতো। এ প্রকল্প কাজ ১৫ মাস মেয়াদের মধ্যে শেষ করার কথা। যদিও কুড়িগ্রামের হরিস্বর কালোয়া খলিলগঞ্জের আরএবি-আরসি(প্রাইভেট) এন্ড বিসি-জেভি নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কাজটি সম্পাদনের দায়িত্ব পেয়েছে। কিন্তু কাজটি করছে সৈয়দপুরের স্থানীয় নাদের এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর এর স্বত্ত্বাধিকারী হচ্ছে মো. শাহ্নেওয়াজ সানু।
সৈয়দপুর পৌরসভার পাঁচমাথা মোড় থেকে পার্বতীপুর রোড এবং বিমানবন্দর হতে পার্কের মোড় পর্যন্ত যে সড়কটির প্রশস্তকরণ ও আরসিসি ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে এ গোটা সড়কজুড়ে রয়েছে বিটিসিএলের ভূ-গর্ভস্থ ক্যাবল্। অথচ কাজ সম্পাদনে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সে দিকে কোন রকম নজর না দিয়ে প্রকল্পের কাজটির শুরুতেই বিমানবন্দর সড়কে বিটিসিএলের ভূ-গর্ভস্থ কেবল্ কেটে ফেলে। এতে করে সৈয়দপুর সেনানিবাস, বিমানবন্দর, কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অনেক গ্রাহকের বিটিসিএলের ল্যান্ড টেলিফোন সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সড়ক প্রশস্তকরণ ও ড্রেন নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দ্রুত ওই সড়কে কাজ করতে গিয়ে একে একে বিটিসিএলের বিপুল পরিমাণ মূল্যবান ক্যাবল্ কেটে ফেলে। তারপরও বিটিসিএল’র স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্যাবল পুনঃসংযোগের মাধ্যমে কিছু সংখ্যক বিচ্ছিন্ন টেলিফোন সংযোগ চালু করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল শহরের পাঁচমাথা মোড়ে বিটিসিএলের  অনেক মূল্যবান বিভিন্ন পেয়ারের (জোড়া) ভূ-গর্ভস্থ ক্যাবল্ কেটে  টুকরা টুকরা করে দেয়। মূলতঃ সেখানে এক্সকাভেটর দিয়ে ড্রেন নির্মাণের মাটি খননের কারণে বিটিসিএলের মূল্যবান কেবল্ একেবারে টুকরা টুকরা হয়ে অকেজো হয়ে পড়ে। আর ক্যাবল্ কেটে ফেলার কারণে বর্তমানে সৈয়দপুর সেনানিবাস, বিমানবন্দর, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর, ব্যাংক-বীমা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ  প্রায় ৪ শ’ গ্রাহকের টেলিফোন সংযোগ একেবারে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এ অবস্থায় টেলিফোন সংযোগ না থাকায় সৈয়দপুর সেনানিবাস, বিমানবন্দর ও উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কাজকর্মে মারাত্মক বিঘেœর সৃষ্টি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কর্মকর্তাদের অভিযোগে জানা গেছে। বর্তমানে এ সব সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের পকেটে অর্থ ব্যয় করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজকর্ম করতে হচ্ছে।
এ নিয়ে কথা হয় আজ বৃহস্পতিবার (১৮ মে) কথা হয় সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসার হোমায়রা মন্ডল হিমু’র সাথে। তিনি জানান, বেশ কিছু দিন যাবৎ তাঁর অফিসের টেলিফোন সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এতে তাদের দাপ্তরিক কাজে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মারাত্মক ব্যাঘাত হচ্ছে। তিনি বলেন মূলতঃ টেলিফোনের মাধ্যমে সকল রকম দাপ্তরিক কাজের যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু টেলিফোন অকেজো থাকায়  তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে না। অনেক সময় আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ টেলিফোনে না পেয়ে ভাবছেন আমি অফিসে উপস্থিত নেই।
সৈয়দপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নুসরাত ফাতেমা বলেন, সরকারিভাবে আমাদের টেলিফোন বিল বরাদ্দ আসে। এখন অফিসের টেলিফোন বিকল। তাই বর্তমানে আমাদের ব্যক্তিগত মুঠোফোনের মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজ সারতে হচ্ছে। অথচ এ জন্য আমাদের কোন রকম বিল-ভাতা পাব না। কিন্তু কি কবর ? অনেকটাই নিরুপায় হয়ে নিজের বেতনের অর্থ ব্যয় করে মুঠোফোনে দাপ্তরিক যোগাযোগের কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।
টেলিফোন বিকল সমস্যার বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবু ছালেহ্ মো. মুসা জঙ্গীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে বসে কথা  এ প্রতিনিধি’র। তিনি জানান, টেলিফোন সংযোগ অচল থাকায় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক কাজে যোগাযোগে ক্ষেত্রে চরম দূর্ভোগ পোচ্ছাতে হচ্ছে। অবিলম্বে টেলিফোন সচল করতে বিটিসিএলের রংপুর বিভাগীয় কর্মকতাকে বিষয়টি গত ১৪ মে অফিসিয়াল লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। এমনকি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য আমি মুঠোফোনেও বিটিসিএলের বিভাগীয় কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৈয়দপুর বাঙ্গালীপুর নিজপাড়া এলাকার এক টেলিফোন গ্রাহক বলেন, গত ৪/৫ মাস ধরে টেলিফোন বিকল। অথচ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে ঠিকই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন এখন টেলিফোন লাইনটি স্থায়ীভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ছাড়া কোন উপায় দেখছি না।
বিটিসিএল’র সৈয়দপুর কার্যালয়ের সহকারি প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান জানান, পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ ও ড্রেন নির্মাণ কাজে তাদের ২২ লাখ ২৬ হাজার  ৯৯ টাকার দামী ক্যাবল্ কেটে ফেলা হয়েছে। এসব ক্যাবল এমনভাবে কেটে ফেলা হয়েছে যে সে সব আর কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন বিটিসিএলের রংপুর বিভাগীয় প্রকৌশলী (টেলিকম) তাজুল ইসলাম এবং আমি নিজেই টেলিফোন সংযোগের ভূ-গর্ভস্থ ক্যাবল্ পুনঃস্থাপনের কাজের জন্য প্রকল্প কাজের বাস্তবায়নকারী সংস্থার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সৈয়দপুর পৌরসভা মেয়র বরাবরে দুই দফায় পত্র দেই। কিন্তু  সৈয়দপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তাতে কোন প্রকার সাড়া দিচ্ছে না। তাছাড়া বিটিসিএলের দপ্তরে কোন ক্যাবল্ মজুদ নেই তা দিয়ে দ্রুত সময়ে মধ্যে অচল টেলিফোন সংযোগ চালু করবে। এতে করে সৈয়দপুর শহরের অকেজো ৪ শ’ টেলিফোন সংযোগ সচল করা নিয়ে চরম অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ বিচ্ছিন্ন টেলিফোন সংযোগগুলো চালু হবে তা সঠিকভাবে বলতে পারেননি ওই কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন সরকারের সঙ্গে কথার বলার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করা হলে তা সম্ভব হয়নি।

মতামত