Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭ :: ৯ কার্তিক ১৪২৪ :: সময়- ১২ : ৪৪ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / ইশতেহার তৈরির প্রস্তুতি শুরু দুই দলের

ইশতেহার তৈরির প্রস্তুতি শুরু দুই দলের

 ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দেড় বছর আগেই নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি।

ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে একটি ধারণাপত্র তৈরি করতে দলের চার নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা বিভিন্ন খাতের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন।

এসডিজি অর্জন, জ্বালানি খাত, ব্ল– ইকোনমি, যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও তাদের মেধা ব্যবহারে অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে ক্ষমতাসীনদের ইশতেহারে।

অন্যদিকে ঘোষিত ভিশন ২০৩০ আলোকেই ইশতেহার তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে বিএনপি।

প্রতিহিংসা নয়, ইতিবাচক রাজনীতির স্লোগানে সরকার, সংসদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, কৃষি, পররাষ্ট্রনীতিসহ বেশ কয়েকটি খাতে চমক থাকবে দলটির ইশতেহারে

আওয়ামী লীগের লক্ষ্য ২০৪১-এর মধ্যে উন্নত দেশ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আগামী নির্বাচনের ইশতেহারে চমক হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ছাড়াও প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন।

এ চমক অন্তর্ভুক্ত করে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের ধারাবাহিকতায় এবং দলের ঘোষণাপত্রের আলোকে তৈরি হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আগামী নির্বাচনের ইশতেহার।

এতে ২০১৪-এর ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের সর্বশেষ অগ্রগতি ও পরবর্তী করণীয় কী হবে, সে ব্যাপারে থাকবে সুস্পষ্ট ঘোষণা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, দলের উপদেষ্টা পরিষদের তিন সদস্য- অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ও অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান এবং দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাককে ডেকে ইশতেহারের প্রাথমিক কাজ শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্প্রতি দেয়া প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশের পর এ চারজন ইশতেহার তৈরির জন্য বিভিন্ন খাতের সর্বশেষ অগ্রগতির তথ্য সংগ্রহ করছেন।

আরও জানা গেছে, এবারের ইশতেহারে জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারের অগ্রাধিকার খাতের নতুন করে তালিকাও করা হবে।

তবে এ তালিকায় বিদ্যুৎ থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ ক্ষমতাসীনরা মনে করছেন, গত ইশতেহারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার অগ্রগতি খুবই আশানুরূপ। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে বিদ্যুৎকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হলেও এর গুরুত্ব অগ্রাধিকার খাতের মতোই দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২১ সালের মধ্যে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫১৪ কিলোওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা, ৯৬ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ২০ হাজার মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা।

এ ছাড়া আগামী ইশতেহারে থাকতে পারে একটি নতুন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার ঘোষণাও। চলমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা শেষ হচ্ছে ২০২০ সালে। তারপর থেকে শুরু হবে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। ইশতেহারে এ নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে। এ দুটি বিষয়ের পাশাপাশি ব্ল– ইকোনমি (সমুদ্র অর্থনীতি) এবং তরুণ ও যুব সমাজের কর্মসংস্থান ও তাদের মেধাকে ব্যবহার করার ওপর থাকবে অধিক গুরুত্ব। আর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় থাকবে সুস্পষ্ট নির্দেশনা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং ২০১৪-এর ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির সমন্বয়ক ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আগামী নির্বাচনের ইশতেহার তৈরির জন্য ইতিমধ্যে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার নির্দেশনা দিয়েছেন। কী কী বিষয় থাকবে তা নিয়ে ব্রিফও করেছেন। যারা ইশতেহার নিয়ে কাজ করবেন, তারা সংশ্লিষ্ট বিষয় ও খাতগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। ইশতেহার তৈরির কাজ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি। সাধারণত ২-৩ মাস আগে ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। সেভাবেই ইশতেহার তৈরির কাজ শেষ করা হয়। এবার উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে সুদূরপ্রসারি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ইশতেহার দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনের ইশতেহারে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়টি পুনরুল্লেখ করা হতে পারে। সেখানে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত দেয়া হবে ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া সাতটিসহ অনুমোদন পাওয়া ৫৬টি (সরকারি খাতে ৪২টি এবং বেসরকারি খাতে ১৪টি) অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথাও। আর আগামী ১৫ বছরের মধ্যে অসমাপ্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলার আয় বৃদ্ধি ও এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের আশাবাদ থাকবে ইশতেহারে।

সূত্রমতে, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে মামলা করে বিজয়ী হওয়ায় বিশাল সমুদ্রসীমার অধিকারী হয়েছে। এ সমুদ্রসীমায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। এটাকে ব্ল– ইকোনমি (সমুদ্র অর্থনীতি) নাম দিয়ে তা কীভাবে কাজে লাগানো হবে, সমুদ্রের তল দেশের সম্পদ আহরণে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে সে বিষয়ে ইশতেহারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে পারে।

এদিকে দেশে শিক্ষার হার বেড়ে যাওয়ায় যে শিক্ষিত যুব সমাজ গড়ে উঠেছে, তাদের কাজে লাগানোর পদক্ষেপগুলো উল্লেখ থাকবে ইশতেহারে। যুব সমাজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের অন্তর্র্ভুক্ত করা হবে, মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলা হবে। কৃষি, শিল্প ও অকৃষি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও স্বল্পদক্ষ শ্রমশক্তি বিদেশ পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি করার ওপর অগ্রাধিকার দেয়া হবে ইশতেহারে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রণয়নের অগ্রগতি তুলে ধরে পরবর্তী ধাপে করণীয় নিয়ে নানা দিকনির্দেশনা থাকতে পারে নির্বাচনী ইশতেহারে। দেশের অভ্যন্তরীণ আইসিটি আয় ২ বিলিয়ন এবং রফতানি আয় ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীতকরণের পরিকল্পনা, আইসিটি শিল্পের জন্য ১ বিলিয়ন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানবসম্পদ তৈরি করা, ২০২০ সালের মধ্যে টেলিঘনত্ব ১০০ শতাংশ, ইন্টারনেট বিস্তার ১০০ শতাংশ এবং ব্রডব্যান্ড ৫০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ইশতেহারে সন্নিবেশিত করা হতে পারে। এ ছাড়া সব প্রাথমিক স্কুলে একটি এবং মাধ্যমিক স্কুলে ৩টি করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করা, প্রাথমিক স্কুলে ৩০ শতাংশ এবং মাধ্যমিক স্কুলে শতভাগ আইসিটি ল্যাবরেটরি গড়ে তোলার ঘোষণাও আসতে পারে।

এ ছাড়া ‘সুশাসন ও গণতন্ত্র’ নামের একটি অধ্যায়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ ক্ষেত্রের অন্য বিষয়গুলো নিয়েও করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা থাকবে।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের নির্বাচনে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ইশতেহার ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়কে নিশ্চিত করতে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি ও দিকনির্দেশনা বড় ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হয়। ওই ইশতেহারে চমক ছিল ভিশন-২০২১।

সেখানে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা এবং ২০২১ সালে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করার ঘোষণা দেয়া হয়। পরে ২০১৪-এর ইশতেহারে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেয়া হয়। সেই অনুযায়ী ইশতেহারে সরকারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। আওয়ামী লীগ ২০০৮-এর নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সে মেয়াদে এবং ২০১৪ সালে বিজয়ী হওয়ার পর বর্তমান মেয়াদকালে ভিশন-২০২১ ও ২০৪১ কে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই নিন্ম মধ্যম আয়ের দেশের উন্নীত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২১ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। অনুরূপভাবে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আর এ এসডিজি নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপগুলোর দিকনির্দেশনা থাকবে আগামীর ইশতেহারে।

২০৩০-এর মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ গড়বে বিএনপি

ভিশন-২০৩০ ঘোষণার পর এবার ইশতেহার তৈরির দিকে নজর দিয়েছে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সরকারের বিভিন্ন বিভাগে নতুন ধারা সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি রেখে ইশতেহার তৈরির প্রাথমিক কাজও শুরু করেছে দলটি। ৩৭টি বিষয়ে ২৫৬ দফা সংবলিত ‘ভিশন-২০৩০’ তুলে ধরার পর দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছেন বলে মনে করছে দলটির হাইকমান্ড।

তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির প্রতি জনআস্থা ও বিশ্বাস আরও কিভাবে সুদৃঢ় করা যায়, সে লক্ষ্য নিয়েই তৈরি হচ্ছে ইশতেহার। এর মূল ভিত্তি হবে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। এতে আরও থাকবে ঘোষিত ভিশনের প্রতিটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা।

দলীয় সূত্র জানায়, হাইকমান্ডের নির্দেশে ইশতেহার তৈরির প্রাথমিক কাজ সংশ্লিষ্টরা শুরু করলেও এটি প্রণয়নে শিগগিরই গঠন করা হচ্ছে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ভিশন-২০৩০-এর সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তাদের সঙ্গে দলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েক নেতা ও বিশেষজ্ঞদের এ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমদু চৌধুরীর নেতৃত্বে সাবেক আমলা ইসমাইল জবিহউল্লাহ ও শিক্ষাবিদ ড. মাহবুবউল্লাহ ভিশন তৈরিতে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এ নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটিতে সমালোচনা উঠলে চেয়ারপারসন নিজেই বলেন, এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও কয়েকজন পলিটিশিয়ানকে যুক্ত করা উচিত ছিল।

তাই ইশতেহার প্রণয়ন কমিটিতে সম্ভাব্য তালিকায় যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ। এছাড়া শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিশেষজ্ঞদের এ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এছাড়া নেয়া হবে সুশীল সমাজের মতামতও। আর পুরো বিষয়টি মনিটর করবেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরামর্শ নেয়া হবে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচনের জন্য ইশতেহার অবশ্যই দেয়া হবে। আগামী দিনে দেশ এবং জনগণের জন্য আমরা কী কী করতে চাই তা ভিশন ২০৩০-এ ধারণা দেয়া হয়েছে। এর আলোকেই আমরা নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করব।

সেখানে প্রতিটি বিষয়ে আরও ব্যাখ্যা থাকবে। তবে এখন বিএনপি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ, দেশকে উন্নয়নের শিখরে নিতে হলে সবার আগে প্রয়োজন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ। সব দলের অংশগ্রহণে ভোটের মধ্য দিয়ে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হলেই তা সম্ভব। তাই সবার আগে সরকারকে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে হবে। দলের চেয়ারপারসন সুবিধাজনক সময়ে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখাও তুলে ধরবেন।

দলটির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- সরকার, সংসদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, কৃষি, পররাষ্ট্রনীতিসহ সরকারের প্রতিটি বিভাগে নতুন ধারা সৃষ্টির অঙ্গীকার নিয়েই তৈরি করা হচ্ছে ইশতেহার। বিশেষ করে রাজনীতিতে অতীতমুখিতা বা প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে নতুন ধারার সৃষ্টি, ক্ষমতায় গেলে জাতীয় সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি ভিশনে দেয়া হয়েছে।

সব মত ও পথকে নিয়ে বাংলাদেশকে একটি রেইনবো ন্যাশন বা রংধনু জাতিতে পরিণত করার বিস্তারিত ঘোষণা থাকবে ইশতেহারে। পাশাপাশি ২০৩০ সালে দেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার কথা বলা হয়েছে ভিশনে। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে কম সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটাতে হবে। তা কিভাবে সম্ভব সেই বিশেষ কর্মপরিকল্পনা ইশতেহারের মধ্য দিয়ে জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তনের একটা চমক নিয়েই তৈরি হবে ইশতেহারে। যা এ মুহূর্তে প্রকাশ করা হবে না। ইশতেহার চূড়ান্তের আগে দেয়া হবে নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক’ সরকারের রূপরেখা।

তারা মনে করেন, এবারের ইশতেহার শুধু কথামালার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না- মানুষের কাছে যৌক্তিক বলেই মনে হবে। আগামী নির্বাচনে তরুণ ও যুব সমাজ বিশেষ করে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার অন্যতম লক্ষ্য থাকবে দলটির। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রতি বর্তমান নেতিবাচক ধারণার পরিবর্তন ঘটাতে চান তারা।

আরও জানা গেছে, ভিশনে কিছু কিছু বিষয়ে কম গুরুত্বের পাশাপাশি কিছুটা অস্পষ্টতাও রয়েছে। ইশতেহারে সেগুলো স্পষ্ট করা হবে। ভিশনের দুর্বলতাগুলো দূর করতে এবং আরও নতুন কিছু অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। বিভিন্ন পেশাজীবী, রাজনীতিবিদ এমনকি কূটনৈতিকদের কাছে এ সম্পর্কে মতামত চেয়ে পাঠানো হচ্ছে ভিশনের বইসহ একটি চিঠি। এছাড়া ভিশন নিয়ে বিষয়ভিত্তিক নানা সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সবার মতামত এবং সেমিনারে পাওয়া তথ্যগুলো ভিশন-২০৩০ এর পাশাপাশি স্থান পাবে আগামী নির্বাচনী ইশতেহারে। সেখানে অর্থনীতি ও রাজনীতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ চমক থাকবে। ভিশনে ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয় ৫ হাজার মার্কিন ডলার, প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিট করার প্রতিশ্রুতি দেন খালেদা জিয়া। ভিশনের এসব অঙ্গীকার ৫ বছরে কতটুকু বাস্তবায়ন করা হবে, তা সুনির্দিষ্ট উল্লেখ থাকবে ইশতেহারে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বলে রাখা ভালো, বিএনপি সহায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে। সেজন্য প্রস্তুতি রয়েছে। ইতিমধ্যে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভিশন-২০৩০ জাতির কাছে উপস্থাপন করেছেন। এর আলোকেই আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ভিশনের সঙ্গে ইশতেহার সাংঘর্ষিক হবে না। ভিশন-২০৩০ এর প্রতিটি বিষয়কেই আমরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। প্রতিটি ভোটারই আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই সব শ্রেণীর মানুষের যে অধিকার বিশেষ করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক অধিকার সমন্বিত রেখেই ইশতেহার দেয়া হবে। গতানুগতিক ও কথামালার বাইরে গিয়ে বাস্তবতার আলোকে আমরা এমন কিছু অঙ্গীকার করব যাতে সাধারণ মানুষও আমাদের প্রতি আকৃষ্ট হন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে ভিশন-২০৩০ ঘোষণা দিয়েছেন, এখানে কতগুলো ভাগ রয়েছে। যেমন রাজনৈতিক, সংসদীয়, সাংবিধানিক, আত্মসামাজিক উন্নয়ন। আমরা মনে করি, সব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কোনোটার চেয়ে কোনোটা কম নয়। তাই ইশতেহারে সবগুলো বিষয়ই বিস্তারিতভাবে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ইশতেহারে সব শ্রেণীর মানুষকে আকর্ষণ করা হবে। তবে তরুণ ও যুব সমাজের জন্য ভিশনে যেমন অঙ্গীকার করা হয়েছে, তেমনি ইশতেহারেও তা থাকবে। এ তরুণ সমাজই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে। তারাই দেশের ভবিষ্যৎ। বিএনপিও এ তরুণ সমাজকে কাজে লাগিয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

তিনি জানান, ভিশন-২০৩০ ইতিমধ্যে দলীয়ভাবে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। এতে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি শিক্ষা সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থনীতি, মানবসম্পদসহ অন্যান্য বিষয়েও সেমিনার করবে বিএনপি। সবগুলোতেই উপস্থিত থাকতে পারেন খালেদা জিয়া। এসব সেমিনার থেকে উঠে আসা প্রস্তাবগুলোও স্থান পাবে ইশতেহারে। ভিশন-২০৩০ ছাড়াও বিগত ২০০১ ও ২০০৮ সালের ইশতেহারের বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে। সেখান থেকে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ও স্থান পাবে আগামী ইশতেহারে।

জানা যায়, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে প্রশাসনে আমূল পরিবর্তন আনার প্রত্যয় থাকবে ইশতেহারে। সুশাসন, সুনীতি ও সু-সরকারের (থ্রি-জি) সমন্বয় ও বৃহত্তর জনগণের সম্মিলনের মাধ্যমে ‘ইনক্লুসিভ সোসাইটি’ গড়ার অঙ্গীকার থাকবে এতে। মেধার পরিপূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে চাকরিতে কোটা পদ্ধতি কমিয়ে আনা, প্রশাসন ও বিচার বিভাগে দলীয়করণের অবসান ঘটিয়ে মেধা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা থাকবে। শিক্ষা ও কৃষি খাতে যুগোপযোগী সংস্কারের মাধ্যমে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা, বাস্তবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা, ক্রীড়াক্ষেত্রে শুধু স্থাপনা নির্মাণ নয়, গুরুত্ব দেয়া হবে নিয়মিত টানা অনুশীলনের দিকে, খেলায় শতভাগ মনোযোগ দেয়ার লক্ষ্যে খেলোয়াড়দের আর্থিক বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রতিশ্রুতি থাকবে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful