Today: 20 Jul 2017 - 10:31:30 pm

‘কর্তার আর্শিবাদে একাই চার পদে’

Published on Friday, June 23, 2017 at 2:12 pm

নিয়াজ আহমেদ সিপন, লালমনিরহাট: বড় কর্তার আর্শিবাদ থাকলে একাই ডাবলের ডাবল পদে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব। এ কথাটি আবারও প্রমান করল লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভোলাবাড়ি ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্টার এজাজুল ইসলাম। জেলা রেজিস্টারের সাথে তার সু-সম্পর্ক থাকায় দায়িত্ব পালনে কমতি থাকলেও তথ্য গোপন করে একাই রয়েছেন চারটি পদে।

জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে ভেলাবাড়ি কেরামতিয়া দাখিল মাদরাসার অফিস সহকারী হিসেবে যোগদান করেন ওই এলাকার এজাজুল ইসলাম। পরবর্তি ২০০৪ সালে অফিস সহকারীর চাকুরীর তথ্য গোপন করে ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্টার হিসেবে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ নেন। এরপর অফিস সহকারী পদে চাকুরীর বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা রেজিষ্টারের নজরে আসে। অবশেষে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জেলা রেজিষ্টারের সাথে সমোঝোতা করে নেন নিকাহ রেজিষ্টার এজাজুল ইসলাম। এ সমোঝোতার পরেই জেলা রেজিষ্টারের বিশ্বাস্থতা অর্জন করেন তিনি। এ থেকে যাবতীয় গোপন কাজের তদবির শুরু হয় এজাজুলের মাধ্যমে। এজাজুলের ইশারা ব্যাতিত জেলা রেজিষ্টার কার্যালয়ের নিকাহ রেজিষ্টার বিভাগের কোন কাজ সম্পন্ন হয় না বলেও একাধিক নিকাহ রেজিষ্টারের অভিযোগ।

এজাজুলের চাহিদামত জেলা রেজিষ্টারকে উৎকোচ না দেয়ায় দুর্গাপুর ইউনিয়নের দীর্ঘ দিনের নিকাহ রেজিষ্টার মাহমুদুল হাসানকে অহেতুক শোকজ করে ওই পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাগিয়ে নেন তিনি। পরবর্তিতে বিষয়টি নিয়ে মাহমুদুল হাসান আদালতের আশ্রয় নিলে বিষয়টি বিচারাধিন রয়েছে। এতেই শেষ নয়। বিধি বহিভুত ভাবে গত মাস থেকে এজাজুল ইসলামকে ভাদাই ইউনিয়নের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

বিধি রয়েছে, কোন নিকাহ রেজিস্টার না থাকলে ১২০ দিনের জন্য ওই এলাকার পাশ্ববর্তি সংলগ্ন এলাকার কোন নিকাহ রেজিস্টারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। কিন্তু এ বিধিকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ৩৫ কিলোমিটার দুরের এজাজুল ইসলামকে ভাদাই ইউনিয়নের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অথচ স্থানীয় সাংসদ ও সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ওই ইউনিয়নের দায়িত্ব পাশ্ববর্তি পলাশী ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার এনকে লিটন মোল্লাকে দিতে নির্দেশ প্রদান করেন। টাকার বিনিময়ে মন্ত্রীর নির্দেশ ও বিধিকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়েছেন জেলা রেজিষ্টার।

সাম্প্রতিক সময় জেলার ৪৫জন নিকাহ রেজিস্টারকে ব্যাক ডেটে স্থায়ী করনের প্যানেলভুক্ত করতে জেলা নিকাহ রেজিস্টার সমিতির সাধারন সম্পাদক ফয়ছালের মাধ্যমে উৎকোচ বানিজ্যে মেতে উঠেছেন জেলা রেজিস্টার। এক্ষেত্রে প্রতিজন নিকাহ রেজিস্টারকে অগ্রীম হিসেবে গুনতে হয়েছে ১০ হাজার টাকা । কাজ শেষে আরও ৪০ হাজার টাকা হরে দিতে হবে বলেও নিকাহ রেজিস্টারদের অভিযোগ। স্থায়ী করনের আবেদন না করলে তাদেরকে বাতিল করারও হুমকী দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নিকাহ রেজিস্টার জানান, স্থায়ী করনে প্যানেল ভুক্ত করতে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা গুনতে হবে তাদের। এরই মধ্যে ফয়ছালের মাধ্যমে ৪৫জন নিকাহ রেজিস্টার ১০ হাজার হারে জমা দিয়েছেন। স্থায়ী করনের আবেদন না করলে নিকাহ রেজিস্টার হিসেবে বাতিল করা হবে বলেও ফয়ছালের মাধ্যমে হুমকী দিচ্ছেন জেলা রেজিস্টার লুৎফুল কবির।

ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্টার এজাজুল ইসলাম জানান, কোন তথ্য গোপন করা হয় নি। জেলা রেজিস্টার তাকে পছন্দ করে একাধিক দায়িত্ব দিয়েছেন বলেই তিনি পালন করছেন বলেও জানান তিনি।

জেলা নিকাহ রেজিস্টার সমিতির সাধারন সম্পাদক ফয়ছাল আহমেদ জানান, নিকাহ রেজিস্টারদের স্থায়ী করনের প্যানেল তৈরীর কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে উৎকোচ নেয়ার বিষয়টি সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

লালমনিরহাট জেলা রেজিস্টার সরকার লুৎফুল কবির জানান, কেউ দায়িত্ব না নেয়ায় এজাজুলকে ভাদাই ইউনিয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। স্থায়ী করনের প্যানেল উৎকোচ গ্রহনের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি জানান, স্থায়ী করনের প্যানেল করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সাব রেজিষ্টারদের। এর বাহিরে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি।