Today: 20 Jul 2017 - 10:36:19 pm

গাইবান্ধায় ৯৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী

Published on Wednesday, July 12, 2017 at 5:48 pm

খায়রুল ইসলাম গাইবান্ধা থেকে: গাইবান্ধার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি বুধবার আরও অবনতি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ি গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৭ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপদসীমার ৫৫ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসময় ঘাঘট নদীর পানি ১৭ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪১ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা, যমুনা ও করতোয়া নদীর পানি এখন বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাওয়ায় ৪ উপজেলার ৯৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো. আমির আলী জানান, আমাদের প্রায় ১ হাজার জনের ১২০টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা বন্যা দুর্গত এলাকায় কাজ করছে। কন্ট্রোল রুম খোলার কাজ চলছে। এছাড়া খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ রয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম মন্ডল বলেন, নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের ৬১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়গুলোর শ্রেণিকক্ষে পানি উঠেছে। এছাড়া আরও ৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে বিদ্যালয়গুলোকে খুলে দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকদের বলা হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার ২৩টি ইউনিয়নের ঘরবাড়ি, আবাদি ফসল তলিয়ে গেছে। এতে ৭০ হাজার ৯শ’ ২৯টি পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকে সাবেক ফুলছড়ি উপজেলা হেডকোয়ার্টারে পানি উঠেছে। ফলে ওই বন্দরে চলাচলের এখন বাহন হয়ে পড়েছে নৌকা। নৌকায় করে সেখানে কেনাকাটার জন্য যাতায়াত করছে। এছাড়া ভরতখালী থেকে ফুলছড়ি বন্দরে যাওয়ার রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লোকজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া বন্যা কবলিত ৪ উপজেলায় ৮২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এরমধ্যে ১৭টিতে বন্যা কবলিত মানুষ আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।

জেলা প্রশাসন থেকে আরও বলা হয়েছে, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত ২শ’ ২৫ মে. টন চাল ও ১৫ লাখ টাকা দুর্গত মানুষদের মধ্যে বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ মে. টন চাল ও ৬ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার বিকেলে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার পাঠানো হয়েছে। এসব খাদ্য সামগ্রী বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে বিতরণের কাজ চলছে।