Today: 20 Jul 2017 - 10:37:16 pm

ঠাকুরগাঁওয়ে পাগলা কুকুরের কামড়ে ৪০ জন জখম

Published on Friday, July 14, 2017 at 10:34 pm

ঝাঁকে ঝাঁকে কুকুর দলবেঁধে কবুতর, হাঁস-মুরগি গরু ছাগলকে কামড়ে খেয়ে শেষ করছে।

ঠাকুরগাঁও  প্রতিনিধি। ঠাকুরগাঁওয়ের পাগলা কুকুড়ের আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত তিন দিনে ৪০ জনকে কামড়ে আহত করেছে। এদিকে জেলা সিভিল সার্জন অফিসে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহে টালবাহানার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী কুকুর নিধনের দাবি জানান।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া এলাকায় পাগলা কুকুড়ের আনাগোনা  বেড়ে গেছে। ঝাঁকে ঝাঁকে কুকুর দলবেঁধে কবুতর, হাঁস-মুরগি গরু ছাগলকে কামড়ে খেয়ে শেষ করছে।

এদিকে গত তিন দিনে শিশু ও বৃদ্ধসহ ৪০ জনকে কামড়ে জখম করেছে।

গত ১১ জুলাই সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের ঘনিমহেশপুর গ্রামের শফিকুল মেম্বারের কন্যা শায়লা (৫), গোলাম রব্বানীর ছেলে নওশাদ (১০), মসলিম উদ্দীনের কন্যা সাবিনা (৬), চামড়া ব্যবসায়ী তৈমুরের স্ত্রী খায়রুন (২৮), বাবুল হোসেনের স্ত্রী লতা জেসমিন (৩৫), বাহাদুরের স্ত্রী বাচ্চাই (২২), বারঘরিয়া এলাকার সাইদুলের কন্যা সুমিকে (৭) কামড় দেয়।

১২ জুলাই একই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী শিরিন বেগম (২০), ঘনিমহেশপুর পঞ্চায়েতপাড়া এলাকার আব্দুল লতিফের স্ত্রী রসুনা, মানিকের ছেলে লাবিব (৬)।

১৩ জুলাই মধুপুর গ্রামের গনেশের কন্যা হিমাদ্রি (৬), দিলিপের ছেলে সঞ্জয় (১২), অমূল্যর ছেলে মানিক (২৮), ইব্রাহিম আলীর স্ত্রী রহিমা (৫০), গিয়াস উদ্দীনের ছেলে  ভুকুন্দি (১২), আব্দুল লতিফের স্ত্রী রহিমা (৪৫), ধীরেন্দ্র নাথের স্ত্রী কুসুম বালা (৩৫), এবং কৃষ্টচরণ বর্মনের স্ত্রী খুটাখালি (৫০) কে কুকুড়ে কামড়ে জখম করে।

আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসে নেয়া হয়। কিন্তু সরকারি ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। পরে আহতদের স্বজনরা বাইরে থেকে র‌্যাবিস নামে ভ্যাকসিন এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

সাবেক ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমার কন্যাকে পাগলা কুকুরে কামড়ে আহত করলে আমি ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন অফিসের শরণাপন্ন হলেও ভ্যাকসিন পাইনি। পরে বাইরে থেকে এক হাজার টাকার একটি ভ্যাকসিন কিনে এনে চিকিৎসা করাই।

বাবুল হোসেন নামে একজন অভিযোগ করেন, কুকুর কামড়ের চিকিৎসা সরকারিভাবে ফ্রি দেয়ার কথা। কিন্তু একটি ভ্যাকসিন নিতে এক হাজার টাকা চাওয়ায় আমি ফিরে এসে কবিরাজি মতে কলাপড়া দিয়ে আমার স্ত্রীর চিকিৎসা করি।

এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু মো. খায়রুল কবির জানান, এ জেলায় প্রতিমাসে ৩শ এম্পুল সরবরাহ পাওয়া যায়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এবং স্টোরে ভ্যাকসিন না থাকায় বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে ঢাকায় লোক পাঠানো হয়েছে। ফিরে এলেই ২-১ দিনের মধ্যে এ সমস্যা কেটে যাবে।

অবশ্য স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আখতার ফারুক জানান, রুহিয়া এলাকায় পাগলা কুকুরের কামড়গুলো বিভৎস্য আকারের। কারো গালে, কারো বাহুতে, কারো পিঠে, কারো উরুতে এবং কারো কারো কামড়ে মাংস ছিঁড়ে নিয়েছে- যা ক্যাটাগরি-৩ আওতাভুক্ত। সরকারিভাবে সরবরাহ রয়েছে ২ প্রকারের। তাই এক ক্যাটাগরির ভ্যাকসিন বাইরে থেকে কিনে একসঙ্গে তিন ক্যাটাগরির ভ্যাকসিন রোগীকে পুষ করা হয়।

প্রসঙ্গত, পরিবেশবাদীদের কুকুর নিধনের বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আদেশ থাকায় এলাকাবাসীর কুকুর নিধনের দাবি পূরণ করতে পারছে না প্রশাসন।