Today: 20 Jul 2017 - 10:30:44 pm

একটি মানুষও না খেয়ে মরবে না- চিলমারীতে মায়া

Published on Monday, July 17, 2017 at 4:57 pm

তৈয়বুর রহমান, কুড়িগ্রাম: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুলী মায়া, এমপি বলেন দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার সব সময় প্রস্তুত রয়েছে,যথেষ্ট পরিমানে খাদ্য গুদামে মজুত রয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকার কোন মানুষ নাখেয়ে থাকবে না, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ও নদী ভাঙ্গনের শিকার প্রত্যেকটি পরিবারকে পুর্নবাসন করা হবে।

সোমবার সকালে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার প্রত্যন্ত ব্রহ্মপূত্র নদের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে দ্বীপচর শাখাহাতি’র আশ্রয়ণ প্রকল্প মাঠে এবং উলিপুর উপজেলার চাঁদনী বজরা সরকারি প্রাথমিক মাঠে পৃথক পৃথক সমাবেশে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

তিনি হুসিয়ারি উচ্চারন করে বলেন, বানভাসি মানুষের ত্রান নিয়ে কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না। পুর্ণবাসন প্রক্রিয়া যাতে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে এ জন্য প্রশাসনসহ দলীয় নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের সজাগ থাকার আহবান জানান। এর ব্যত্যয় ঘটলে সে যেই হউক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। মন্ত্রী আরও বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে শতর্ক থাকতে বলেছেন। তিনি গৃহহীণ সকলকে গৃহ নির্মাণ করে দিতে বলেছেন। পানি না নামা পর্যন্ত প্রকৃত অসহায় ও দুর্গতদের তালিকা তৈরী করে সরকার সহায়তা অব্যাহত রাখবে। তিনি আরো বলেন বিএনপি বানভাসীদের পাশে না দাঁড়িয়ে চিকিৎসার নামে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। দুর্যোগের সময় তারা দুঃখী মানুষের পাশে থাকে না, এদেরকে চিনে রাখুন।

চিলমারীর শাখাহাতিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ১ হাজার ও উলিপুরের বজরা ইউনিয়নে তিস্তার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ১২শ পরিবারের মাঝে ত্রান বিতরন করেন। সমাবেশে এান মন্ত্রনালয়ের সচিব মোঃ শাহ কামাল বানভাসিদের পুর্নবাসনে দিক নির্দেশনামুলক বক্তব্য রাখেন।। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত সচিব খালেদ মাহমুদ, যুগ্ম সচিব মোঃ মোহসিন, যুগ্ম সচিব আলী রেজা, কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলী, জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান,পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, উলিপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হায়দার আলী মিঞা, চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। এর আগে সকালে মন্ত্রী চিলমারী উপজেলার চর শাখাহাতী গ্রামে ব্রহ্মপুত্রের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ১ হাজার পরিবারের মাঝে এান বিতরন করেন।

কুড়িগ্রামের জন্য বিশেষ ত্রাণ বরাদ্দ
মন্ত্রী আগেরদিন রোববার রাত ১০টায় কুড়িগ্রামে পৌছে জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় মিলিত হন। তিনি পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে তাৎক্ষণিক ভাবে আরও ৫শ’ মে.টন চাল, নগদ ১০ লাখ টাকা, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং নদী ভাঙ্গনের শিকার মানুষের জন্য ৫শ’ বান্ডিল ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণ বাবদ ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন।