Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০ :: ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ১ : ১৭ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / বিকল্প জোট চূড়ান্ত, জাপার সায়

বিকল্প জোট চূড়ান্ত, জাপার সায়

ডেস্ক: আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে তৃতীয় বিকল্প রাজনৈতিক জোট গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত। এর সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাকে। খুব শিগরিই এ বিষয়ে ঘোষণা আসবে বলে জানিয়েছেন জোট গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা।

যে লক্ষ্য ও আদর্শকে সামনে রেখে বিকল্প এ রাজনৈতিক জোট গঠন হচ্ছে, তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছে এরশাদের জাতীয় পার্টি। পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক জোটকে স্বাগত জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি।জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসায় গত বুধবার হওয়া বৈঠকে জোট গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। এতে অংশ নেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, তার স্ত্রী তানিয়া রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জেএসডি সেক্রেটারি আবদুল মালেক রতন, বিকল্পধারার মাহী বি চৌধুরীসহ দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। এতে বিশেষ আমন্ত্রণে যোগ দেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। অবশ্য গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন অসুস্থতাজানিত কারণে এবং বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী টাঙ্গাইল থাকায় অংশ নিতে পারেননি বলে জানা গেছে।

বৈঠকে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে সমন্বয়ক করে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়। আসন্ন নতুন জোটের কমিটিতে সব দলের প্রতিনিধিই সদস্য হবেন। প্রতিসপ্তাহে একটি করে বৈঠক করারও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। আরও কয়েক দফা বৈঠক করে নতুন জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। তবে দলগুলোর যৌথ কর্মসূচি দেওয়া নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।এ প্রসঙ্গে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, দেশকে যারা ভালোবাসেন, তারাই দেশকে নিয়ে কথা বলবেন, এটাই স্বাভাবিক। এ নিয়েই আমরা কথাবার্তা বলেছি। অত্যাচার, জুলুম অনেক কিছুই হবে, এও স্বাভাবিক। আমরা দেশকে নিয়ে ভাবী, চিন্তা করি। তবে কীভাবে আরেকটু ভালো করা যায়, সবাই মিলে কীভাবে দেশকে গঠন করা যায়, সেই চিন্তা করছি। দেশের মানুষকে কথা বলার সুযোগ করে দিতে হবে। ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। এ জন্য সর্বোচ্চ পন্থা কী হবে, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। কাজটি করতে দিন।যদিও অনেক দিন ধরে দেশে তৃতীয় ধারার একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রচেষ্টা চলছে। এ প্রক্রিয়ার মূল উদ্যোক্তা হিসেবে দেখা গেছে আ স ম আব্দুর রব ও মাহমুদুর রহমান মান্নাকে। এর আগে বাম ঘরানার দলগুলো নিয়ে এমন রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার চেষ্টা করেছেন উদ্যোক্তরা। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। বামমোর্চা কোনো জোটে অন্তর্ভুক্ত হবে না, কিছুদিন আগেই জানিয়ে দিয়েছেন এর নেতারা। তবে যুগপৎ আন্দোলনে যাবে তারা।

জানা গেছে, দেশ পরিচালনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নানা ব্যর্থতা তুলে ধরে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবে নতুন রাজনৈতিক জোটের নেতারা। এ ছাড়া জনভিত্তিক বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠে থাকারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটটি। এর মাধ্যমে নতুন মেরুকরণ হবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই জোটের বাইরে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। দেশে গণতন্ত্রহীনতা, বিচারহীনতা, মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, দুরাচার, ক্রসফায়ার, দুর্নীতি গ্রাস করেছে। এর বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করবে নতুন জোট। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের কারণে মানুষ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া বিএনপিও অতীত কর্মের কারণে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। মানুষ বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির জন্য অপেক্ষা করছে।তিনি বলেন, বাম দলগুলো এ জোটে থাকছে না। তবে তারা আমাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যাওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। আমাদের জোট সারা দেশের জেলা-উপজেলায় খুব শিগরিই সভা-সমাবেশ করবে। এ ছাড়া বিভিন্ন জনভিত্তিক ইস্যুতে মাঠে থাকবে।জোটের বৈঠকে জিএম কাদেরের অংশগ্রহণের ব্যাপারে সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা তাকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাদের চিন্তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তবে জাতীয় পার্টি জোটে থাকবে, নাকি যুগপৎ আন্দোলনে যাবে, সেটি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে আমাদের জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।নতুন জোট আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা মনে করি ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করলে তা নিরপেক্ষ হবে না। তত্ত্বাবধায় সরকার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। সুতরাং কোন প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব, সেটি আমরা তুলে ধরব।

এ ব্যাপারে জিএম কাদের বলেন, বৈঠকে আমাকে বদরুদ্দোজা চৌধুরী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তার দাওয়াতেই মূলত আমি সেখানে গিয়েছিলাম। সেই বৈঠকে সরকারের দুঃশসান, নিপীড়ন, বিচারহীনতা নিয়ে আলাপ হয়েছে। সবাই মিলে কীভাবে দেশকে গঠন করা যায়, সেই চিন্তা করছে। দেশের মানুষকে কথা বলার সুযোগ করে দিতে চায়। ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চায়। তারা দেশের জন্য কিছু করতে চায়। আমরাও দেশের জন্য কিছু করতে চাই। তাদের চিন্তার সঙ্গে আমাদের চিন্তার মিল আছে। আমরাও দেশের জন্য চিন্তা করি। তাই তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছি।নতুন জোটে যাচ্ছেন কিনা, সে বিষয়ে কাদের বলেন, তাদের কথা আমি আমার দলের চেয়ারম্যানকে জানাব। এরপর দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।এদিকে নতুন জোট গঠন প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, গণতন্ত্রের শত ফুল ফুটছে, ভালো তো। এটাই গণতন্ত্রের বিউটি। জোট হবে, গ্রুপ হবে। এটা হতে থাক, অসুবিধা কী? নির্বাচনকে সামনে রেখে যা হচ্ছে, তা ভালো দিক। তবে শেষ পর্যন্ত এ মেরুকরণ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে।

বিএনপি মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যে কোনো উদ্যোগ, যা দেশের পক্ষে, জনগণের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে, তাকে আমরা সবসময় স্বাগত জানিয়েছি। এখনো মনে করি, যারা এ অবৈধ-অনৈতিক ও জুলুমবাজ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করবে, আমরা অবশ্যই তাদের স্বাগত জানাব।

নতুন জোট গঠনের ব্যাপারে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে প্রধানমন্ত্রী ইফতারের দাওয়াত করেছিলেন। তার অর্থ তিনি সরকারের বিরুদ্ধে নন, না হলে আর কাউকে তো তিনি আমন্ত্রণ করেননি। সেই অনুষ্ঠানে তিনি আমার পাশে বসেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে প্রতীয়মান হয়, তিনি মিত্রবাহিনীতে আছেন।

এদিকে বিএনপির সাবেক মহাসচিব বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার পর বিকল্পধারা বাংলাদেশ গঠন করেন। এর পর তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোটের কর্মসূচিতে অংশ নেন। আর ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগ ছেড়ে গঠন করেন গণফোরাম। নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাও আওয়ামী লীগ করেছেন এক সময়। জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful