Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭ :: ৪ কার্তিক ১৪২৪ :: সময়- ১১ : ১৫ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / একজন উপাচার্য যখন কারাগারে! প্রসঙ্গ: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

একজন উপাচার্য যখন কারাগারে! প্রসঙ্গ: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

॥ এম এ মিল্লাত ॥

উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, বিতরণ, সম্প্রসারণ এবং গবেষণার তীর্থস্থান বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া উচ্চশিক্ষা গ্রহনেচ্ছুদের কাছে সোনার হরিণ। বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়াদের মধ্যে যারা মেধার ক্রমে শীর্ষে থাকে বলা যায় তারাই পরবর্তীতে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। এই শিক্ষকদের মধ্যে যাদের নেতৃত্বদানের যোগ্যতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং মানষিকতায় উচ্চ তাঁদেরকেই কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এই নিয়োগ চুড়ান্ত করেন।

উপাচার্য পদটি যেমন সম্মানের, তেমনি এই পদে মনোনয়ন দেওয়ার সময় তাঁর পুর্বাপর সকল আমলনামা বিশ্লেষণ করেই নিয়োগের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সুপারিশ করা হয়ে থাকে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সুষ্ঠু পরিচালনা সরকারের বড় একটি চ্যালেঞ্জ। সুতরাং এক্ষেত্রে নেতৃত্বদানের যোগ্যতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং মানষিকতা বিবেচনায় কোন ছাড় দেয়া হয় না। জানামতে, এক্ষেত্রে সরকারী বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীর কাছ থেকেও প্রতিবেদন নেওয়া হয়। আমাদের বিশ্বাস, সরকারের এমন আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন কখনো ভুল হতে পারে না।

কিন্তু এরপরও প্রায় প্রত্যেক উপাচার্যের বিরুদ্ধেই আলোচনা, সমালোচনা, আন্দোলন, মামলা, হামলা এমনকি পদত্যাগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়ার মতো অঘটনও ঘটে। কিন্তু কেন? তাহলে কি সরকারের মনোনয়ন ভুল? অযোগ্যরা উপাচার্য হচ্ছেন? নাকি সরকারের সিদ্ধান্তকে কারো ভুল প্রমাণের চেষ্টা। বিষয়গুলো ক্ষতিয়ে দেখা দরকার।

এক.
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। একেবারেই নবীন এই বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে উপাচার্য ইস্যুতে আলোচনার শীর্ষে ওঠে এসেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে শীর্ষ সংবাদ হিসেবে বহুবার প্রচার ও প্রকাশ হয়েছে। রংপুরের গণমানুষের প্রাণের দাবি ও সংবাদকর্মীদের প্রত্যক্ষ ভূমিকায় ২০০৮ সালে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামে প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিলো। কোন এক সফরে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান মঈন ইউ আহমেদ ও শিক্ষা উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান রংপুরের আসলে স্থানীয় সাংবাদিকরা এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি আদায় করেন। প্রথম উপাচার্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান ছয় মাস দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর সময়ে নগরীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজে মাত্র ১১জন শিক্ষক, হাতেগোনা কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী আর ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে।

দুই.
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নারী জাগরণের অগ্রদুত মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার নামানুসারে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা দিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই উপাচার্য পরিবর্তন হলো। দ্বিতীয় উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. মু. আব্দুল জলিল মিয়া। তিনি প্রথম যেদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন; তখন ধূ-ধূ মাঠ ছাড়া আর কিছুই ছিলো না। তাঁর সার্বক্ষনিক তদারকিতে সেই ধূ-ধূ মাঠ মাত্র চার বছরে আধুনিক কারুকার্য খচিত নান্দনিক ভবন ও সবুজ-শ্যামল সৌন্দর্যে ভরপুর এক অপরূপ ক্যাম্পাসে পরিণত হয়। তাঁর দায়িত্বের মাত্র চার বছরে ছয়টি অনুষদ, ২১টি বিভাগ ও একটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। চার বছরেই চারটি চারতলা একাডেমিক ভবন, একটি লাইব্রেরি ভবন, শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি আবাসিক হল, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য চারটি ডরমিটরি, পরিবহন সুবিধা, উপাচার্যের বাসভবন, প্রশাসনিক ভবন, ক্যাফেটেরিয়া, কেন্দ্রীয় মসজিদ, নিরাপত্বা প্রাচীরসহ আভ্যন্তরীন রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এমনকি ২০১৬ সালে শেখ হাসিনা হল এবং ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নামে যে দুটি ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে সেও প্রফেসর আব্দুল জলিল মিয়ার আমলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার সুপারিশকৃত।
প্রতিষ্ঠার নয় বছরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যা কিছু দৃশ্যমান সবই তৎকালীন উপাচার্য আব্দুল জলিল মিয়ার চার বছরে অক্লান্ত পরিশ্রমের অবদান। তাপরও আজ প্রফেসর ড. মু. আব্দুল জলিল মিয়া জেলখানায় বন্দি। কিন্তু কেন? তিনি কি অপরাধী? তিনি কি দুর্নীতি করেছেন? নাকি তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার?

তিন.
নিয়োগে আর্থিক লেনদেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। সেই মামলায় হাজিরায় জামিন চেয়ে জামনি না পেয়ে বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। সাথে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার শাহজাহান আলী মন্ডলও রয়েছেন। কিন্তু প্রফেসর ড. জলিল মিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে কোন অনিয়ম করেননি বলেই আমাদের ধারণা। কারণ, চার বছরে ২১টি বিভাগ খোলাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকান্ডের প্রসারে যে পরিমান জনবল ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদন প্রয়োজন ছিলো তা ইউজিসি দেয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার স্বার্থে সিন্ডিকেট সভার অনুমোদন সাপেক্ষে জরুরী প্রয়োজনেই জনবল নিয়োগ দিতে হয়েছে। এসব নিয়োগ দেওয়া না হলে বিশ্ববিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভব হতো না। এক্ষেত্রে তিনি কোন ধরণের দুর্নীতি করেননি বলেই আমাদের বিশ্বাস। ওই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরী ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে গিয়ে ক্ষমতাসীন মন্ত্রী, এমপি, আমলা, ইউজিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও কর্মকর্তার সুপারিশেও কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এই নিয়াগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলেও এর সাথে সংশ্লিষ্ট তদবিরকারী জড়িত থাকতে পারেন। এর সাথে সাবেক উপাচার্য প্রফেসর আব্দুল জলিল মিয়া সংশ্লিষ্ট থাকার কথা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক ও কর্মকর্তা তাঁর কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ষড়যন্ত্রমুলকভাবে এই মামলায় ইন্ধন দিয়ে তাঁকে হয়রানী করছেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।
সর্বোপরি একটি বাচ্চা যখন হাটতে শিখে তখন বার বার পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েই শিখে। যখন পড়তে শিখে বার বার ভুল করে। তেমনি এটি একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। যাত্রার শুরুতে এখানে সকলেই নবীন। প্রক্রিয়াগত ভুল হয়তো থাকতে পারে। তাই বলে কি এমন উচ্চ পর্যায়ের একজন শিক্ষাগুরুকে কারাগারে বন্দি মানায়?

চার.
তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে প্রফেসর ড. আব্দুল জলিল মিয়া বিদায় নিয়েছিলেন। পরে তৃতীয় উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের প্রফেসর ড. এ কে এম নূর-উন-নবী। এক বছর পার হতে না হতেই তাঁর বিরুদ্ধেও আন্দোলন শুরু হয়ে গেল। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে প্রায় চার মাস বিশ্ববিদ্যালয় একেবারেই বন্ধ হয়ে পড়লো। তারপরও তিনি নানা কৌশলে তাঁর চার বছর পার করেছেন। কিন্তু তাঁর বিদায়ও সুখকর ছিলো না। তিনিও সম্মান নিয়ে যেতে পারেন নি। বর্তমান যিনি উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন তিনি মাত্র দুই মাস পার করছেন। আমাদের বিশ্বাস বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ অবশ্যই তাঁর দায়িত্বের চার বছর ভালোয় ভালোয় অতিবাহিত করবেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় উত্তর জনপদের আশা-আকাঙ্খা পূরণে অনন্য ভূমিকা পালন করবে। যে স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়, সেই স্বপ্ন পূরণ করবে। এমনটিই প্রত্যাশা উত্তরের শিক্ষানুরাগী সকল জ্ঞান পিপাসুদের।

লেখক: গবেষক ও মিডিয়া কর্মী

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful