Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০ :: ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৪ : ৫৬ অপরাহ্ন
Home / কুড়িগ্রাম / কুড়িগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা

কুড়িগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা

তৈয়বুর রহমান, কুড়িগ্রাম থেকে: শিশু আরজিনা অপহরণ ঘটনার ১৭ দিন পর অবশেষে একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীসহ ৩ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

অভিযোগ উঠেছে, ধরনীবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান অপহরণকারীদের রক্ষা করতে শিশুটিকে উদ্ধারের পর থানায় হাজির না করে ও অপহরণকারীদের নাম গোপন করে ১ দিন পর পরিবারের হাতে তুলে দেন। শিশুটির পিতার অভিযোগ,অপহরণকারী আয়শা চক্র তার ভাই পুলিশ কর্মকর্তার অসুস্থ্য ছেলের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্যই তার মেয়েকে অপহরণ করেছিল। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামের দরিদ্র আক্কাছ আলী ও মরিয়ুম বেগমের কন্যা আরজিনা (৭)কে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের রুপার খামার গ্রামে শিশুটির নানা মমিজ উদ্দিনের বাড়ীতে রেখে তারা উভয়ে ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করেন। শিশুটি নানার বাড়ীতে থেকে রুপার খামার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। গত ৬ আগষ্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার নানী পাশ্ববর্তী বাড়ীর এক প্রতিবেশী বিবিজান নামের নানীকে ডাকতে তাকে পাঠান। এরপর শিশুটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ব্যাপারে পরদিন ৭ আগষ্ট শিশুটির নানা মমিজ উদ্দিন উলিপুর থানায় সাধারণ ডায়রী লিপিবদ্ধ করেন।কিন্তু শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ নির্বিকার থাকে বলে গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন। হতদরিদ্র পরিবারটি শিশুটিকে পাওয়ার জন্য স্থানীয় ফকিরের দ্বারস্থ হলে জনৈক ফকির শিশুটি আছে বলে আশ্বস্থ করেন।

এ দিকে গত শুক্রবার ১৮ আগষ্ট রাত ৮টার দিকে আর্কষিক ভাবে খবর পেয়ে ধরনীবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ফুলু’র বিষয়টি স্থানীয় থানায় কিংবা শিশুটির পরিবারের কাউকে না জানিয়ে স্থানীয় ৫ ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে মাইক্রোবাস যোগে রংপুরে যান। রংপুর পৌঁছে আরজিনার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে রংপুর শহরের মুন্সীপাড়াস্থ পুলিশের এস.আই আবুবক্কর এর ভাড়া বাসা “ক্ষণিকালয়” থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। কিন্তু রাতে রহস্যজন কারনে শিশুটিকে তারা থানায় হস্তান্তর না করে নিজের কাছে রেখে দেন। পরদিন ১৯ আগষ্ট আরজিনা অপহরণের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সহশ্রাধিক লোক ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে জড়ো হয়। উপস্থিত লোকজন চেয়ারম্যানের কাছে অপহরণকারীদের প্রকৃত পরিচয় জানতে চাইলে তিনি অভিনব কৌশলে তাদের পরিচয় গোপন রেখে শিশুটিকে পরিবারের হাতে তুলে দেন এবং দ্রুত অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। এদিকে শিশু উদ্ধারের ৬ দিন পরও ঐ চেয়ারম্যান অপহরণ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় তার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ উঠেছে, অপহরণের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের রক্ষা করতে চেয়ারম্যান পুলিশের ঐ এস.আই আবু বক্করের সাথে মোটা অংকের অর্থের লেনদেন করায় রহস্যজনক নিরবতা পালন করেন। তবে শিশু আরজিনা অপহরণকারীদের নাম পরিবারের কাছে ফাঁস করে। এ পরিস্থিতিতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও আরজিনার পরিবারের লোকজন গত মঙ্গলবার উলিপুর থানায় মামলা দায়েরের জন্য যান। কিন্তু থানা পুলিশ এ ঘটনার সাথে একজন এসআই ও তার স্ত্রীর সংশ্লিষ্টতার কারনে অপহরণ মামলা দায়েরে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে তারা বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান। এরপর গত মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ মামলা রেকর্ড করে গতকাল বুধবার সকাল ১০ টার দিকে শিশুটির জবানবন্ধি রেকর্ড করতে কুড়িগ্রাম আদালতে প্রেরণ করেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে,অপহরণের সাথে জড়িত নাজমার স্বামী গোবিন্দগঞ্জ থানায় কর্মরত এসআই আবু বক্কর মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য শিশুটির পরিবারকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।

ধরনীবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ফুলু শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজ হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা।

উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এসকে আব্দুল্লা আল সাইদ বলেন,অপহরণ মামলা দায়েরের কথা স্বীকার করে বলেন, অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful