Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০ :: ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ২ : ০৯ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / বন্যায় রংপুর বিভাগে ক্ষতি দশ হাজার কোটি টাকার ওপরে

বন্যায় রংপুর বিভাগে ক্ষতি দশ হাজার কোটি টাকার ওপরে

 নজরুল মৃধা: রংপুর বিভাগে বন্যায় ফসল, গবাদিপশু, মৎস্য, বসতভিটা ও সড়কসহ বিভিন্ন খাতে ক্ষতি হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে তা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। বন্যায় মানুষ ত্রাণ পেলেও গবাদিপশু গরুর বেলায় জুটেছে গড়ে ৬ গ্রাম খাদ্য। সড়ক-মহাসড়কের ক্ষতি হয়েছে ১১০০ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এ বিভাগে ১০ হাজার কোটি টাকার ওপর ক্ষতি হয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের অফিসসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেওয়ার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

রংপুর কৃষি অফিস ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগে ৩ লাখ ৪১ হাজার হেক্টর জমির আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। এসব জমিতে গড়ে ৩ টন করে আবাদ হলে মোট ধানের ক্ষতি হয়েছে ১০ লাখ টনের ওপরে। এ ছাড়া শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতিও অনেক।

এ পর্যন্ত বিভাগের ৮ জেলায় ৫৬টি উপজেলার ৩৯৪টি ইউনিয়নের ৫ লাখ ৩৬ লাখ ৯৮৭টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের অধিকাংশের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। কয়েক হাজার পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারকে পুনর্বাসন করতে গেলে ১৫০০ কোটি টাকা ওপর লাগবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে প্রাণিসম্পদ অফিসসূত্রে জানা গেছে, এ বিভাগে বন্যাকবলিত এলাকায় ৪ লাখ পশু বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পশু চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে। অনেক খামারি এসব পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছিল। কিন্তু বন্যার কারণে খাদ্য সংকট ও পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় গবাদিপশুগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই খামারিরা আশঙ্কা করছেন এবার কোরবানির ঈদে গরুতে তাদের লোকসান বইতে হবে শতকোটি টাকা। ৪ লাখ পশুর বিপরীতে দানাদার খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ২৪ টন। গড় হিসেবে একটি পশু বরাদ্দ পেয়েছে মাত্র ৬ গ্রাম।

মৎস্য অফিসসূত্রে জানা গেছে, বন্যায় রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ৯০ হাজার মাছের পুকুর ও খামার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শুধু মৎস্য খাতেই ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে।

কৃষি তথ্য সার্ভিস আঞ্চলিক অফিস রংপুরের আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আবু সায়েম বলেছেন, বন্যামুক্ত উঁচু জায়গায় বীজতলা এখনই তৈরি করা দরকার। উঁচু জায়গার অভাবে কলাগাছের ভেলা বা চাটাইয়ের ওপর কাদামাটির প্রলেপ দিয়ে ভাসমান বীজতলা তৈরি করে দড়ির সাহায্যে খুঁটি বা গাছের সঙ্গে বেঁধে বীজতলা করতে হবে।

এ ছাড়া আলোক সংবেদনশীল স্বল্পমেয়াদি জাত যেমন, ব্রি ধান-৩৪ চাষ করার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। রোপা আমনের ক্ষেত্রে ভাদ্র মাসের পর আর কোনো ধান রোপণ করা যাবে না। আলোক অসংবেদনশীল জাত যেমন, বিআর-১১ বা ব্রি ধান-৫১/৫২ কোনোভাবেই আর এ সময় বীজতলাতে ফেলে চারা করা যাবে না।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের উপপরিচালক মীর মাহাবুব হোসেন জানান, বন্যার সময় গরু, ছাগল, ভেড়াকে যথাসম্ভব উঁচু জায়গায় রাখতে হবে। এ বিভাগে এ পর্যন্ত ২৪ টন দানাদার খাদ্য ৬০০ খামারিকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরেই দেওয়া হয়েছে ১০ টন। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের তালিকা তৈরি করে ঢাকায় তাদের সহায়তার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক অদ্বৈত চন্দ্র রায় জানান, বন্যায় রংপুর বিভাগের ৮টি জেলায় ৯০ হাজার মাছ চাষের পুকুর-খামার তলিয়ে গেছে। মৎস্যচাষিদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হবে বলে প্রাথমিক জরিপে জানা গেছে। তিনি আরও জানান, মৎস্য বিভাগ বন্যার সময় পুকুরের পাড় ডুবে গেলে ছোট ফাঁসযুক্ত জাল দিয়ে বা বাঁশের বেড় দিয়ে মাছ রক্ষা করতে আহ্বান জানাচ্ছে। সুযোগ থাকলে উঁচু পাড়বিশিষ্ট নিরাপদ পুকুর যেখানে বন্যার পানি উঠবে না এমন পুকুরে ঘন করে হলেও মাছ স্থানান্তর করতে হবে।

সড়ক বিভাগসূত্র জানায়, রংপুর বিভাগের ১১০০ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব রাস্তা কোথাও পুনঃসংস্কার আবার কোথাও নতুনভাবে করতে হবে। এ খাতে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকার ওপর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রংপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুব রহমান জানান, শুধু রংপুর জেলায় ৮০ কিলোমিটার মহাসড়কের ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত করা হচ্ছে।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কাজি হাসান আহমেদ জানান, বিভাগে ১১শ কিলোমিটার রাস্তাসহ প্রায় সাড়ে ৩ লাখ হেক্টরের ফসল ও কয়েক হাজার মানুষের বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমরা বিভিন্ন দপ্তরে চাহিদা পাঠিয়েছি। এ ছাড়া রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংগুলোকে কৃষকদের ঋণ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

বিশেজ্ঞদের মতে, এবারের বন্যায় রংপুর বিভাগে ফসল, গবাদিপশু, মৎস্য, বসতবাড়ি, মহাসড়ক-সড়কসহ ১০ হাজার কোটি টাকার ওপর ক্ষতি হয়েছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful