Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭ :: ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ :: সময়- ১০ : ২৭ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / আত্মহত্যা নয়, একটু ভাবুন

আত্মহত্যা নয়, একটু ভাবুন

আতাউর রহমান

স্বামী ইমরুল হাসানকে মোবাইল ফোনে ভিডিও কল দেন গৃহবধূ রিসিলা বিনতে ওয়াজের। বলেন- দেখ, আমি কী করি! তার পর তিনি চেয়ারে দাঁড়িয়ে ফ্যানের সঙ্গে নিজের ওড়না বাঁধেন। এর পর ফাঁস লাগান নিজের গলায়। স্ত্রীকে এভাবে আত্মহত্যা করতে দেখে বাসার বাইরে থাকা স্বামী সঙ্গে সঙ্গে ফোন দেন স্বজনদের। ততক্ষণে রিসিলার দেহ নিথর হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের ৩১ জুলাই ঢাকার গুলশানে ঘটেছে আত্মহত্যার এ ঘটনা। এর মাসখানেক আগে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসী স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন গৃহবধূ সাবিনা ইয়াসমিন।

শুধু রিসিলা বা সাবিনা ইয়াসমিন নন; পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১০ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত গত সাড়ে সাত বছরে সারাদেশে ৮০ হাজার ১৮৫ জন আত্মহত্যা করেছেন। এ হিসেবে বছরে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার এবং দিনে গড়ে ২৯ জনের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করছেন। পুরুষের চেয়ে নারীরা আত্মহত্যা করছেন বেশি। শুধু চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ২৯৭৮ জন আত্মহত্যাকারীর মধ্যে এক হাজার ৭৮৯ জনই নারী।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অন্তত ২৬ রকমের মানুষ বিশেষত ২৪টি কারণে আত্মহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন। যাদের মধ্যে এ প্রবণতা চরম আকার ধারণ করে, তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। উদ্বেগজনক এমন সব তথ্য সামনে রেখেই আজ রোববার পালিত হচ্ছে ১৫তম আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস ২০১৭।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশনের (আইএএসপি) তথ্যমতে, সারাবিশ্বে বছরে আট লাখ মানুষ আত্মহত্যা করেন। এদের প্রত্যেকেই আত্মহত্যার আগে গড়ে অন্তত ২৫ বার এই অপচেষ্টা চালান। তাই এবারের প্রতিপাদ্য- ‘টেক এ মিনিট, চেঞ্জ এ লাইফ।’

ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হয়নি : আত্মহত্যা প্রতিরোধে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বেসরকারি সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, বছরে যে সংখ্যক মানুষ আত্মহত্যা করছেন, তার অন্তত ১০ গুণ লোক আত্মহত্যার অপচেষ্টা চালান। বিষয়কে সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা উদ্বেগের চোখে দেখলেও সরকারি পর্যায়ে আত্মহত্যা প্রতিরোধে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।

আইএএসপি’র বাংলাদেশ জাতীয় প্রতিনিধি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো এ দেশেও আত্মহত্যা একটি জনস্বাস্থ্যজনিত সমস্যা। এটি প্রতিরোধযোগ্য। তবে দেশে সরকারি পর্যায়ে আত্মহত্যা প্রতিরোধে কোনো কার্যক্রম নেই। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে একটি ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

জাহিদুল ইসলাম জানান, তাদের গবেষণা অনুযায়ী, বছরে গড়ে ১১ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করলে ধরে নিতে হবে, একই সময়ে অন্তত আরও এক লাখ মানুষ আত্মহত্যার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।

ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার সংখ্যা বেশি :পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা এ দেশে সবচেয়ে বেশি। এর পরই রয়েছে কীটনাশক বা বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনা। সম্প্রতি কথিত জিহাদের নামে নারী ও শিশু নিয়ে জঙ্গি সদস্যদের কেউ কেউ আত্মঘাতী হচ্ছে। যদিও কোনো ধর্মই আত্মহত্যাকে সমর্থন করে না। বিশেষত ইসলাম ধর্মে আত্মহত্যা মহাপাপ হিসেবে চিহ্নিত। কোরআনে বলা হয়েছে, আত্মহত্যাকারীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে আত্মহত্যা চেষ্টাকারীর শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এ আইন প্রয়োগের কোনো উদাহরণ এখন পর্যন্ত নেই বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আত্মহত্যার কারণ ও প্রতিরোধ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সমাজবিজ্ঞানী ড. নেহাল করিম বলেন, বিষণ্নতাসহ নানা কারণে দুর্বল চিত্তের ব্যক্তিরা নিজেকে নিজেই হত্যা (আত্মহত্যা) করে মুক্তি খোঁজেন। তবে এটা কোনো সমাধান নয়। বরং বেঁচে থেকে লড়াই করার নামই জীবন।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সক্রিয় সোসাইটি ফর ভলান্টারি অ্যাকটিভিটিজের (শোভা) সাম্প্রতিক একটি জরিপে আত্মহত্যার ২৪টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহ, বাল্যবিয়েজনিত সমস্যা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, জটিল রোগ, প্ররোচনা, অবমাননা ও অবহেলা, যৌতুক চেয়ে নির্যাতন, চরম দারিদ্র্য, অন্যের কষ্টদায়ক মন্তব্য, প্রেমে ব্যর্থতা, ঋণগ্রস্ত থাকা, ব্যবসায় ক্ষতি, অন্যায় তালাক, যৌন নির্যাতন, মিথ্যা অপবাদ বা সন্দেহ, পরীক্ষায় অকৃতকার্য, উপহাসের পাত্র হওয়া, স্বামী-স্ত্রীতে অনৈক্য, বহু বিয়ে, পরকীয়া উল্লেখযোগ্য। সংস্থাটি বলছে, আত্মহত্যা করার আগে প্রত্যেকেই নিজের মনের সঙ্গে যুদ্ধ করে। চরম সিদ্ধান্তহীনতায় যে ব্যক্তি পরাজিত হয়, সে-ই আত্মহত্যা করে।

আত্মহত্যার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে চাইলে সাউথ এশিয়ান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ট্রেজারার ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, বেশির ভাগ আত্মহত্যাকারী বা চেষ্টাকারী মানসিক রোগে ভোগেন। কাছের লোকজন একটু সতর্ক হলে তাদের বাঁচানো সম্ভব। আত্মহত্যা পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলেও কমিউনিটি কাউন্সেলিং ব্যবস্থা গড়ে তুলে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আত্মহত্যার ঝুঁকিতে যারা: আত্মহত্যা প্রতিরোধে কার্যক্রম পরিচালনাকারী শোভা ও আইএএসপি’র বাংলাদেশ চ্যাপ্টার জানাচ্ছে, নির্যাতনের শিকার নারী, নিয়মিত বা প্রায় পারিবারিক কলহ হয় এমন পরিবারের সদস্য; বাল্যবিয়ে, বহুবিয়ে ও যৌতুকের শিকার নারী, যৌতুক লেনদেন হয়েছে এমন পরিবারের সদস্য, পরীক্ষা বা প্রেমে অকৃতকার্য, আত্মহত্যার ইতিহাস রয়েছে এমন পরিবারের সদস্য, সহজেই ত্রুক্রদ্ধ কিংবা আবেগাপ্লুত ব্যক্তি, দীর্ঘ মেয়াদি দরিদ্রতার শিকার, ব্যক্তিত্বে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে বা কোনো ব্যর্থতায় নিজেকে অপরাধী মনে করছেন এমন ২৬ রকমের মানুষ আত্মহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশনের জাতীয় প্রতিনিধি (বাংলাদেশ) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আর বাঁচতে চাই না, আমি এই জীবনকে ঘৃণা করি, বেঁচে থেকে কী লাভ, আমি মরে সবাইকে মুক্তি দিতে চাই, এ জীবনের কোনো মূল্য নেই, কাউকে পরোয়া করি না’- এমন অভিব্যক্তি প্রকাশকারী ব্যক্তিরাও আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকেন। এ ছাড়া অমুক মরে বেঁচে গেছে, আমি কেন বেঁচে আছি- নিজেই বুঝি না, আমার বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই বা আমি এ সমাজের যোগ্য নই- এমন চিন্তার মানুষও আত্মহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

গত বছর প্রবণতা কমেছে: পরিসংখ্যানমতে, ২০১০ সালে বাংলাদেশে আত্মহত্যা করেছেন ৯ হাজার ৬৬৫ জন। ২০১২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৬৪২। তবে ২০১২ সালে ১০ হাজার ১০৮ জন, ২০১৩ সালে ১০ হাজার ১২৯ জন, ২০১৪ সালে ১০ হাজার ২০৬ জন এবং ২০১৫ সালে আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৬২৩ জনে। ২০১৬ সালে এ প্রবণতা একটু কমে আসে। এ বছর ৯ হাজার ৮১৪ জন আত্মহত্যা করেন। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে আত্মহত্যা করেছেন ২৯৭৮ জন।

আত্মহত্যার শীর্ষে ঝিনাইদহ : বেসরকারি সংস্থা শোভার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঝিনাইদহে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ১৮৫ জন আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে নারী ১০৪, পুরুষ ৮১ জন। বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ঝিনাইদহে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২শ’ ৪৭ জন। বেসরকারি সংস্থা শোভা বলছে, এখানকার মানুষ একটু বেশি আবেগি। ক্ষুদ্র কারণেও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে এখানে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ি থানাকেও আত্মহত্যাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এ তিন থানায় গত দুই বছরে ৯০ জন আত্মহত্যা করেছেন, যা ওই এলাকায় মোট নিহত হওয়া মানুষের ৫৫ শতাংশের বেশি।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের (কুলাউড়া সার্কেল) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউছুফ বলেন, একেবারে তুচ্ছ কারণে এখানকার মানুষ আত্মহত্যাপ্রবণ হচ্ছে। এটা প্রতিরোধে মসজিদে বয়ান দিতে ইমামদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful