Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ :: ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ :: সময়- ৩ : ১১ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, রংপুর উন্নয়নের কৃতিত্ব অন্য কারো হাতে তুলে দেবেন কি?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, রংপুর উন্নয়নের কৃতিত্ব অন্য কারো হাতে তুলে দেবেন কি?

মহিউদ্দিন মখদুমী

ভুলে যাওয়া একটি রোগ। আমি ওই ভয়ানক রোগটির রোগী। ভুলে যাই। শত চেষ্টায়ও মনে পড়ে না। ক‘দিন আগে পুরনো ফাইল খুঁজতে গিয়ে ২০১১ সালে লেখা “রংপুর উন্নয়ন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা” লেখাটি পেলাম। সাথে প্রধানমন্ত্রীকে স্যালুট দিয়ে তোলা একটি ছবিও। সে সময় যা লিখেছিলাম- (সংক্ষিপ্তরূপ)

“অনিবার্য সত্য তাই যে কারো শুনতে খারাপ লাগতে পারে। রংপুর বিভাগ না হলে বগুড়ায় করা হতো। রংপুর সিটি কর্পোরেশন না হলে বগুড়ায় হতো। রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় না হলে বগুড়ায় চলে যেত। কেন হতো এমন প্রশ্ন করবেন না প্লিজ। কারণ উত্তরটি আপনার জানা আছে। যদি প্রশ্ন করি শিক্ষা বোর্ড স্থাপনের জন্য কোন জেলা উপযুক্ত ছিল? নিশ্চয়ই বলবেন রংপুর। কিন্তু কোথায় স্থাপিত হয়েছে? কেন হয়েছে? বারবার রংপুরকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। কামেলপীর আশেকে রাসুল(সাঃ) হযরত কারামতিয়া (রহঃ) শুয়ে আছেন রংপুরের মাটিতে। তাই অবজ্ঞা উন্নয়নে ফিরে এসেছে। অদৃশ্য টানে রংপুরবাসীর প্রত্যাশা পূরণের দূত হিসেবে এগিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১১ সালের ৮ জানুয়ারি রংপুর জিলা স্কুল মাঠের জনসভায় বলেছিলেন“ রংপুরের পুত্রবধূ হিসেবে রংপুর উন্নয়নের সার্বিক দায়িত্ব আমি আমার নিজ হাতে তুলে নিলাম।” মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, রংপুরকে খুব আপন, খুব কাছের ভেবেছেন বলেই হয়তো ক্ষমতার উচ্চ আসনে বসে রংপুর উন্নয়নের সার্বিক দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তা বাস্তবায়ন করাও আপনার পক্ষে সম্ভব। কারণ আপনি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী। আমরা বিশ্বাস করি, আপনি রাজনৈতিক লাভ লোকসানের হিসেব না করে রংপুর উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করবেন। কারণ রাজনৈতিক যোগ বিয়োগের হিসেব নিকেশের কারণে বারবার রংপুর উন্নয়ন বিয়োগ হয়ে যায়। অর্থাৎ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনের পর্যাপ্ত দলীয় আসন না পাওয়ায় রংপুর উন্নয়ন বিয়োগ। এটাই ছিল একটি সরকারের আগের বাস্তবতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ২০১১ সালের ৮ জানুয়ারি রংপুরের জনসভায় রংপুর উন্নয়নের বিষয়টি খতিয়ে দেখবো, বিবেচনা করা হবে, আবার ক্ষমতায় গেলে করবো এমনটি বলেননি। আপনি বলেছেন-রংপুরের পুত্রবধূ হিসেবে রংপুর উন্নয়নের সার্বিক দায়িত্ব আমি আমার নিজ হাতে তুলে নিলাম। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে রংপুর উন্নয়নের সার্বিক দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নেয়া মানেই হলো রংপুরের উন্নয়ন কার্যক্রম শত ভাগ বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গিকার করা। অথবা যে কোন মূল্যে তার সফল বাস্তবায়ন। আমরা জানি যে কোন উন্নয়ন কাজ হাতে নিলে আপনি তার সফল বাস্তবায়ন করেন। রংপুর সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার মাধ্যমে তা শুরু করলেন হয়তো। আপনাকে শান্তির স্যালুট।’’

২০০৮ সালের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে রংপুরের দৃশ্যমান উন্নয়ন শুরু হয়। রংপুরের পুত্রবধূ হিসেবে রংপুর উন্নয়নের সার্বিক দায়িত্ব আমি আমার নিজ হাতে তুলে নিলাম ২০১১ সালে এ ঘোষণা দেয়ার পর ৭ বছর পেরিয়ে গেছে। রংপুরের উন্নয়ন মিলিয়ে দেখতে গিয়ে দেখাতে পেলাম প্রতিশ্রুতি রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রংপুর বিভাগ করা, রংপুর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণ, নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারি বিভাগ স্থাপন, বার্ন ইউনিট স্থাপন, তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণ, আধুনিক শিল্পকলা একাডেমী ভবন নির্মাণ , রংপুর এক্সপ্রেস নামে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু, দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণ, পীরগঞ্জকে পৌরসভায় উন্নীতকরণ, মেরিন একাডেমী, ন্যাশনাল সার্ভিস চালু, আইটি ভিলেজ স্থাপন, শিশু হাসপাতালসহ প্রভূত উন্নয়ন এখন প্রক্রিয়াধীন। অপেক্ষায় আছে মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনসহ কয়েকটি মেগা প্রকল্প। সব চেয়ে বড় কথা রংপুর থেকে অভাব পালিয়েছে। ৪০ থেকে ৬০টাকা চালের কেজি। কোন দ্বিমত না করেই কিনছে রংপুরের মানুষ। এসেছে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। জীবনমান হয়েছে আগের চেয়ে উন্নত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতায় মেয়র সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুর তত্বাবধানে রংপুর সিটিতে গত প্রায় সাড়ে চার বছরে ২শত ৯১ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাস্তবায়নাধীন আছে ৩শত ৯১ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ। এটি কম নয়। আগামী বছরগুলোতে চাহিদা মতো বরাদ্দ আরও বাড়বে। আওয়ামীলীগ ঘরানার মেয়র সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে অনড় ভূমিকায় আছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রংপুর উন্নয়নের কাজগুলো রক্ষকের মতো পাহারা দিচ্ছেন। সিটির রাস্তা, কালভার্ট, ড্রেন, শৌচাগার, উচ্চ জলধারা নির্মাণ, সিটি ভবন সম্প্রসারণ, বিনোদন পার্ক নির্মাণ ও হাসপাতাল স্থাপন, ডাস্টবিন স্থাপন, ৭ একর জমি ক্রয়, ওয়াইফাই চালু, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, সড়ক বাতি স্থাপনসহ মৌলিক উন্নয়ন হয়েছে। প্রয়োজন উন্নয়ন ধারাবাহিকতা। রংপুর উন্নয়নের সব কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের। ঘনিয়ে আসছে রংপুর সিটির দ্বিতীয় নির্বাচনের দিন। প্রধানমন্ত্রীর এইসব উন্নয়ন কৃতিত্ব কে পাহারা দেবে? কে দায়িত্ব পাবে? কাকে মনোনয়ন দিয়ে উন্নয়ন ধারাবাহিকতা রক্ষা করবেন? নাকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর উন্নয়নের কৃতিত্ব অন্য কারো হাতে তুলে দেবেন ? সেটি সচেতন রংপুরবাসীর কাছে এখন বিরাট প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ বলছেন, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের উপর রংপুরবাসীর আস্থা কমেছে। সাধারণ ভোটার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, উন্নয়ন কাজ হয়েছে বলেই রংপুর সিটিতে আওয়ামীলীগের ভোটার ও সমর্থক সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু এই ভোটার সংখ্যা দিয়ে সিটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থীর জয়লাভ সম্ভব হবে না। মেয়র পদে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে জয়লাভ করাতে হলে নৌকা প্রতীকের সাথে ব্যক্তি ইমেজ সম্পন্ন, নির্বাচনী মাঠে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং নিজস্ব ভোট ব্যাংকের অধিকারী প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিতে হবে। তাহলেই আওয়ামীলীগ মেয়র প্রার্থীর বিজয় সহজ হবে। রংপুর সিটি মেয়রের পদটি আওয়ামীলীগের ঘরে থাকলে রংপুর উন্নয়নের গতি মুঠি-বদ্ধ থাকবে। নইলে হাতছাড়া হয়ে যাবে সব।

আসন্ন রংপুর সিটি নির্বাচনে দেড় ডজন আওয়ামীলীগ নেতা মেয়র প্রার্থী হতে পোষ্টার ব্যানার সেঁটেছেন। জনসংযোগের সাথে চলছে পাড়ায় মহল্লায় মিছিল। কেউ কেউ এটিকে শুভদৃষ্টিতে দেখলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ভোটার মন্তব্য করছেন“ দলীয় মনোনয়ন পাবেন একজন। এতো প্রার্থী কেন? সরকারী দলের প্রার্থী হলেই নির্বাচনে জিতে যাবেন এমনটি ভাবা হবে বোকামি। রংপুরের ভোটারগণ আওয়ামীলীগ সরকারের রংপুর উন্নয়নের পক্ষে রায় দিতে প্রস্তুত। কিন্তু ভাসমান জনপ্রিয় প্রার্থীকে নয়। প্রকৃত যোগ্যতা সম্পন্ন ও অভিজ্ঞ প্রার্থীকে মনোনয়ন পেতে হবে। যে প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজ ও নিজস্ব ভোটা ব্যাংক আছে তার সাথে দলীয় কর্মী সমর্থকদের ভোট, উন্নয়ন পক্ষের ভোট যুক্ত হলেই আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

রংপুরের রাজনীতি সচেতন জনগণ মনে করেন, দেশের বড় দল আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমীক্ষাটি বড় রকমের হয়ে থাকে। সিদ্ধান্ত আসে সঠিক বিবেচনায়। রংপুর সিটির মেয়র পদটি নিজ ঘরে রাখার ব্যাপারে আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সু-বিবেচিত সিদ্ধান্ত নেবেন। নাকি নিজ হাতে করা রংপুর উন্নয়নের সব কৃতিত্ব অন্য কারো হাতে তুলে দিতে অনভিজ্ঞ দুর্বল প্রার্থী দেবেন সেটি তার একান্ত ইচ্ছার ব্যাপার। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর উন্নয়নের সব কৃতিত্ব নিজের করে রাখুক। তাঁর অনুগত, যোগ্য, দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং জনপ্রিয়তার মানদণ্ডে সেরা প্রার্থীর হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিক। যার বিজয় হবে বিপুল জনরায়ে।

মহিউদ্দিন মখদুমী: সাংবাদিক, দৈনিক মানবকন্ঠ,রংপুর অফিস। 

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful