Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭ :: ৪ কার্তিক ১৪২৪ :: সময়- ১১ : ২৩ পুর্বাহ্ন
Home / উত্তরবাংলা স্পেশাল / উন্নয়নের ধারায় বদলে যাচ্ছে নীলফামারী পৌরসভা চিত্র

উন্নয়নের ধারায় বদলে যাচ্ছে নীলফামারী পৌরসভা চিত্র

ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়, নীলফামারী ১২ অক্টোবর॥ ইউজিআইআইপি-থ্রী প্রকল্পের কার্যক্রমের ছোয়ায় ব্যাপক উন্নয়নে বদলে যেতে শুরু করেছে নীলফামারী পৌরসভা চিত্র। নীলফামারী পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭২ সালে “গ” শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে। ১৯৯৬ সালে “গ” শ্রেনীর পৌরসভা থেকে খ শ্রেনীর মর্যাদা পায়। এরপর ২০০৮ সালের ২৩ মার্চ প্রথম শ্রেনীর পৌরসভার মর্যাদা লাভ করে।

দিন দিন পৌর এলাকার পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভোটার সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৩ হাজার ১৫০। যার জনসংখ্যা ৮৫ হাজার ৫৯৪ ।

পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে পৌর মার্কেট, খয়রাত হোসেন মার্কেট ও শাখামাছা বাজারের অল্প সংখ্যক দোকান ঘর ভাড়া, হাট-বাজার ও গবাদী পশুর হাট ইজারা, অফিস-আদালতের পৌরকর এবং যৎসামান্য পাবলিক হোল্ডিং কর দিয়ে কোন রকমে পরিচালিত হলেও ২০১২সালের শেষ দিকে ‘‘দ্বিতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ’’ (সেক্টর) প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হলে পৌরসভাটির চিত্র চারিদিকে বিকশিত হতে থাকে। আগে পৌরসভার উন্নয়ণ কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিলনা। বর্তমানে স্থানীয় সরকার পৌরসভা আইন, ২০০৯ এর ১৪ধারা মোতাবেক পৌরসভার উন্নয়ণ কর্মকান্ডে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহনের মাধ্যমে মতামত প্রদানের অধিকতর সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ওয়ার্ড পর্যায়ে ওয়ার্ড সমন্বয় কমিটি (Ward Level Coordination Committee (WLCC) এবং ৫০সদস্য বিশিষ্ট শহর সমন্বয় কমিটি (ঞখঈঈ) গঠন করা হয়েছে। ফলে পৌরসভার উন্নয়ণ কাজে স্বচ্ছতা,জবাবদিহিতা এবং জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা বেড়েছে। আগে পৌরবাসী হোল্ডিং কর,পানির বিল,দোকান ঘরের ভাড়া দিতে আগ্রহী ছিল না।

‘‘দ্বিতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ’’ (সেক্টর) প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর পরে পৌরবাসীকে হোল্ডিংকর, পানির বিল, দোকান ঘরের ভাড়া প্রদানে উদ্বুধ করায় পৌরবাসী এখন হোল্ডিংকর,পানির বিল, দোকান ঘরের ভাড়া দিতে শুরু করেছে সর্বপরি এরই মধ্যে ইউজিআইআইপি-২ প্রকল্পের মাধ্যমে ৮কোটি টাকা ব্যয়েপৌরসুপার মার্কেট নির্মাণের ফলে পৌরসভার আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মাসে মাসেবেতন-ভাতা প্রদান করা সম্ভব হতো না এখন কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মাসে মাসেবেতন-ভাতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

অপর দিকে ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্পের কারণে এরই মধ্যে পৌরসুপার মার্কেট থেকে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পাড়া-মহল্লার অলি-গলির সব সড়কে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। এছাড়া বেশ কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণ, সড়কবাতি,

স্টিলের ডাষ্টবিন স্থাপন, বস্তি উন্নয়ন সহ আধুনিক পৌরসভায় রূপান্তর করতে যা যা করা দরকার সবই করা হচ্ছে। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের(এডিবি) অর্থায়নে বেশ কয়েকটি মেগাপ্রকল্প ছাড়াও ছোট-খাটো অসংখ্য প্রকল্পের কাজ একসঙ্গে শুরু হওয়ায় এবং শহরের সড়কগুলোর ফুটপাতে টাইলস বসানো দেখে পৌরবাসী বেশ খুশি।

ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী ২০১৬-২০১৭ইং অর্থ বৎসরে এই পৌরসভা তার নিজস্ব রাজস্ব আয়ের শতকরা ৩% হারে অর্থাৎ ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা জেন্ডার এ্যাকশন প্লান (GAP)-এর মাধ্যমে পৌর এলাকার ৭২৫জন অসহায় নারীদের শীত বস্ত্র, ১৫জন হতদরিদ্র মহিলাকে সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাইমেশিন প্রদান এবং অসহায় গরীব মেধাবী ছাত্রীদের ফর্ম ফিলাপ,বইক্রয়,বিবাহ ও চিকিৎসা খাতে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৫% হারে ২১ লাখ ৮ হাজার টাকা দারিদ্র নিরসন কর্মপরিকল্পনার (PRAP) মাধ্যমে পৌর এলাকার অসহায় দরিদ্র ব্যক্তিদের মধ্য থেকে ১০জনকে পাইপ তৈরীকরণ ও ১০জনকে অটোমেকানিক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ২০জনকে রিক্সা/ভ্যানগাড়ী এবং এক হাজার জনকে চিকিৎসা, বিবাহসহ অন্যান্য খাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আগামীতে এ খাতে আরও ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বলে মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ জানান।

এদিকে ইউজিআইআইপি-২ প্রকল্পে ১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকার কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্পে ৩২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা নির্মান কাজ চলমান রয়েছে।

নীলফামারী পৌরসভার এই সব কাজের উন্নয়ন দেখতে এলাকা ঘুরে পরিদর্শন করে গেছেন এডিপির একটি প্রতিনিধিদল। দলটি গত ২১ আগষ্ট হতে দুই দিন ধরে নীলফামারী সফর করেন।

নীলফামারী পৌর মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদের আমন্ত্রনে তারা নীলফামারী পৌরসভা এলাকার উন্নয়নে বদলে যাওয়া সমাপ্ত ও চলমান কাজ পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া পৌরসভা এলাকায় সম্প্রতিকালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ্য এলাকা ও হঠাৎ পাড়া বস্তি ঘুরে লোকদের সাথে মতবিনিময় করেন। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন এডিবির মিশন প্রধান আলেকজান্ডার ভোগল, এলজিইডির আরবান ম্যানেজম্যান্টের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম আকন্দ, ইউজিআইআইপি-থ্রি প্রকল্পের পরিচালক এ,কে,এম রেজাউল ইসলাম, সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা সহিদুল আলম, প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ স্বাসওয়াতী বেলীআপ্পা,এডিবির বিশেষজ্ঞ সুসান ফ্রান্সিসকো,নিনেত্তে পাজারিল্লেইজা, স্যোসাল উন্নয়ন অফিসার(জেন্ডার) নাসিবা সেলিম, এডিবি বিশেষজ্ঞ এ্যানিক আজমেরা, মিগুয়েল দিয়েঞ্জন, আরবান উন্নয়ন প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ মোঃ রফিকুল ইসলাম,প্রকল্পের টিম লিডার মোঃ রোকনউদ্দিন আহম্মেদ,জেন্ডার ষ্পেশালিষ্ট সুরাইয়া জেবীন।

এই সফরে প্রতিনিধি দল নীলফামারী পৌরসভা নগর সমন্বয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়কালে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের সদস্যরা নীলফামারী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের উন্নয়ন ও বস্তি উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন । পাশাপাশি পৌর এলাকায় চিত্তবিনোদনের জন্য দ্রুত একটি শিশু পার্ক স্থাপনের দাবি করে। জানা যায় শিশু পার্ক স্থাপনে ১০ একর জমির প্রয়োজন। কিন্তু জমির ব্যবস্থা না থাকায় শিশু পার্কটি স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছেনা। সদস্যরা অচিরেই ভুমি অধিগ্রহনের মাধ্যমে শিশু পার্ক স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বরোপ করে।
নীলফামারী পৌরসভার বর্তমান মেয়র, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ। তিনি একটানা তিনবারের চেয়ারম্যান ও তিন মেয়াদের মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
মেয়র বলেন নীলফামারী পৌরসভায় সম্প্রতিকালের ভয়াবহ বন্যায় ৩০ হাজার ৬০০ মিটার সড়ক ও কালভার্ট কাজের ১২ কোটি ৭ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুনভাবে সড়ক ও ব্রীজ কালর্ভাট নির্মান ও সংস্কার করা হবে।

তিনি শহরে শিশু পার্ক স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বলেন জমি অধিগ্রহনের জটিলতায় শিশুপার্ক নির্মান করা সম্ভব হচ্ছেনা। সরকারীভাবে জমি অধিগ্রহনে সহয়তা পেলে শিশু পার্কটি স্থাপনে বড় সহায়ক হবে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful