Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭ :: ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ :: সময়- ৭ : ৫৬ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / নীলফামারীতে নারী নির্যাতনের সংখ্যা বাড়ছে॥ ২৩ লাখ টাকার যৌতুকের বলি হয়েছে মৌসুমী

নীলফামারীতে নারী নির্যাতনের সংখ্যা বাড়ছে॥ ২৩ লাখ টাকার যৌতুকের বলি হয়েছে মৌসুমী

বিশেষ প্রতিনিধি ২৩ অক্টোবর॥ যৌতুকের কারনে নীলফামারীতে নারী নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ ও চলতি বছরের (২০১৭) সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত নীলফামারী জেলার ছয় থানায় নারী নির্যাতন মামলা হয়েছে ৩৫৫টি। এরমধ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১১ জন নারীর। এমন অনেক ঘটনার একটি যৌতুকের বলি গৃহবধু হোসনে আক্তার জাহান মৌসুমী (২৬)।

একটি প্রাইভেটকার কেনার জন্য যৌতুক হিসাবে ২৩ লাখ টাকা না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী মৌসুমীকে হত্যা করেছে তার স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ির লোকজন। হত্যাকান্ডটি ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য প্রচারনা চালানো হয়েছিল বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মৌসুমীর মৃত্যু হয়েছে। এমন কি লাশের ময়না তদন্ত না করার জন্য বাধ সেধেছিল স্বামীসহ তার লোকজন। কিন্তু মৌসুমীর বাবার আবেদনে লাশের ময়না তদন্ত করে পুলিশ। মৌসুমীর স্বামী কিশোরীগঞ্জ উপজেলার মহিলা কলেজের প্রভাষক। তাদের ওয়াছিব রাফসিন শাহ নামের ছয় বছর বয়সের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

মা মৌসুমেকে হত্যা করা হয়েছে এটি বুঝতে পেরে ছয় বছরের শিশুটি চিৎকার করে বলছিল আমি আমার বাবা, দাদা, দাদী, ফুপি, চাচার ফাঁসী চাই। তারা আমার মাকে মেরেছে। তারা হত্যাকারী।

চলতি বছরের ৬ আগষ্ট এই ঘটনার লাশের ভিসেরা প্রতিবেদন গতকাল রবিবার (২২ অক্টোবর) পুলিশের হাতে এসে পৌছে। ভিসা রির্পোটের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় “শক্ত কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করার কারনে হোসনে আক্তার জাহান মৌসুমী মৃত্যু হয়েছে।”

ঘটনার দিন ৬ আগষ্ট সকালে গ্রামবাসীর কাছে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়েছে প্রচারনা চালিয়ে স্বামী একটি মাইক্রোবাসে প্রথমে মৌসুমীকে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। রোগীর অনেক আগে মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে ওই হাসপাতাল কর্তৃক পক্ষ ভর্তি করেনি। এরপর মৌসুমীর মরদেহ নিয়েই স্বামী চলে যায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেও একই কথা হয় রোগীর আগেই মৃত্যু হয়েছে। তবে রংপুর মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগ কর্তৃকপক্ষ রোগীর বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মৃত্যুর কোন আলামত নেই এবং মাথায় আঘাতের চিহৃ দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ এসে মরদেহ আটক করে মৌসুমীর বাবাকে খবর দেয়। স্বামী আহাদ স্ত্রী মৌসুমীর মরদেহ ময়না তদন্ত না করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। মৌসুমীর বাবা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌচ্ছে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে ময়না তদন্ত করার আবেদন করলে পুলিশ রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে ওই দিন লাশের ময়না তদন্ত করে। ময়না তদন্ত শেষে বাবা মকবুল হোসেন মেয়ের লাশ নিজ গ্রামে নিয়ে এসে রাতে দাফন কাজ সম্পন্ন করে।

এ ব্যাপারে মৌসুমীর বাবা মকবুল হোসেন জানান, তিনি নীলফামারীর সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া বটতলা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তার মেয়ে হোসনে আক্তার জাহান মৌসুমীর সাথে ২০০৯ সালের ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেয়া হয় এ জেলার কিশোরীগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের দক্ষিন চাঁদখানা কেল্লাবাড়ি শাহপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম শাহ এর ছেলে আবুল আহাদ শাহ সাথে। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের জন্য জামাইকে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টেলিভিশন, মেয়েকে ৫ ভরি সোনাসহ সকল প্রকার আসবাবপত্র প্রদান করে। বিয়ের পর মেয়ের ঘরে একটি ছেলে সন্তান আসে। তারা সুখেই ছিল।

কিন্তু হঠাৎ করে জামাই মেয়ের উপর শারিরিক নির্যাতন চালাতে থাকে। এ নিয়ে একাধিক বার সালিশ বৈঠকও হয়েছে। সেখানে জামাই আর নির্যাতন করবেনা বলে ক্ষমা চাইলেও বারবার একই ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। সর্বশেষ জামাই ও তার বাবা-মা-ভাই-বোন একটি প্রাইভেটকার ক্রয়ের নামে চলতি বছরে ২ আগষ্ট ২৩ লাখ টাকা দাবি করেছিল। ওই টাকা আমি দিতে অস্বীকার করায় তারই রেশ ধরে সে আমার মেয়েকে ৬ আগষ্ট ভোরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তারা। তিনি কান্না বিজরিত কন্ঠে বলেন, আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

কিশোরীগঞ্জ থানার ওসি বজলুর রশিদ হাসনে আক্তার জাহান মৌসুমীর হত্যাকান্ডের ভিসা প্রতিবেদন প্রাপ্তীর কথা স্বীকার করে জানিয়ে বলেন, এ ঘটনায় মৌসুমীর বাবা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে। এতে মৌসুমীর স্বামী, শ্বশুড়, শাশুড়ি, ননদ, দেবর সহ ৬ জনকে আসামীরা করা হয়েছে। আসামীরা সকলে পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের গ্রেফতারের জন্য চেস্টা চলছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful