Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ :: ৬ আশ্বিন ১৪২৫ :: সময়- ২ : ১১ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দুর্নীতির দুরন্ত ঘোড়াকে থামান!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দুর্নীতির দুরন্ত ঘোড়াকে থামান!

মহিউদ্দিন মখদুমী

সুরঞ্জনা, “তোমার হৃদয় আজ ঘাস।” বিখ্যাত আকাশলীনা কবিতার শেষ তিন লাইনের প্রথম লাইনে জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন এই ‘ঘাস’ শব্দটি। যার অর্থ হলো সবুজ শান্তিময়তা, অথবা তোমার হৃদয় সবুজ প্রেমের বিবর্ণতা হারায়নি। দারুণ ইন্দ্রিয়ানুভূতির সমন্বয় আছে ওই ‘ঘাস’ শব্দটিতে। পৃথিবীতে লাল কিংবা অন্য কোন রংয়ের ঘাস জন্মানোর তথ্য আমার জানা নেই। এখন পরিকল্পিত ভাবে ঘাস চাষ করা হয়। ক্রমেই ঘাস একটি আকর্ষণীয় মূল্যবান চাষাবাদে পরিণত হয়েছে। ঘাস সব সময় সবুজ রংয়ের হয়ে থাকে। সবুজ রং শান্তির প্রতীক। উন্নয়ন মানেই সবুজ রংয়ের শান্তিকে স্থিরতা দেয়ার প্রচেষ্টা। আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। ৯০ এর আন্দোলনের সময় ছেলেবেলা ছিল। দেশপ্রেম, উন্নয়ন জানা ও বোঝার দক্ষতা এসেছে ২০১০ সালের পর। বাংলাদেশের উন্নয়ন বঞ্চনার কারণ ও স্বল্প সময়ে মালয়েশিয়ার উন্নয়ন মিলিয়ে দেখার পর বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে নিজেকে গৌণ মনে হয়েছিল। এখন গৌরব বোধ করি।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা আওয়ামীলীগ সরকারের চলমান টানা নয় বছরে বাংলাদেশ সামষ্টিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে খ্যাতি ও প্রাপ্তিতে এগিয়ে গেছে তা বিস্ময়কর। কেটে যাওয়া নয় বছর বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা গোল্ডেন টাইম। নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়নের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সাফল্য এখন বাংলাদেশের মুঠিতে।

বিশ্বাসযোগ্য নয়, তবু বিশ্বাসে ফিরলেই দেখতে পাবেন, পদ্মা-সেতু, রাজধানীর মেট্রো-রেল, কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভিটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত ফোরলেন সড়ক ইত্যাদি বড় বড় প্রকল্পের কাজ। রাজনৈতিক অস্থিরতাকে স্থিতিশীল করা, জঙ্গি মোকাবেলা, রোহিঙ্গা সামলানো ইত্যাদি সংকট ও সমস্যা পাশ কাটিয়ে দেশ উন্নয়নে মেগা প্রকল্প গ্রহণ প্রমাণ দেয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা আওয়ামীলীগ সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। বেড়েছে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা।

এছাড়া খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বিশ্বে খাদ্য উৎপাদনে ১০ম, ধান উৎপাদনে চতুর্থ, আলু উৎপাদনে সপ্তম, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে ৫ম, সবজি উৎপাদনে এককভাবে অবস্থান ৪র্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বিনামূল্যে ৩২ কোটি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করার কারণে বর্তমানে সাক্ষরতার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১শতাংশে। মাথা পিছু আয় বেড়েছে দাঁড়িয়েছে ২৩৭৯ ডলার। রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২বিলিয়ন ডলারে, কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রদান, বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ এবং কৃষকদের মাঠ যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ বেড়েছে। সিট মহল চুক্তি, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বৈশাখী ভাতা, ফেয়ার প্রাইজ কার্ড, বিনামূল্যে বই বিতরণ, ফ্লাইওভার নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ, উপ-বৃত্তি প্রদান, মোবাইল ও ইন্টারনেটের গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি। সোনালী আঁশ পাটের জীবন রহস্য আবিষ্কার, শিশু ও মাতৃ-মৃত্যু হার হ্রাস, বাল্যবিবাহ রোধ, গড় আয়ু বেড়ে ৭০ বছরে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষা, ক্রিরা, সামরিক, তথ্য প্রযুক্তি, যোগাযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, পর্যটন, বৈদেশিক শ্রমবাজার, শিল্প ও বাণিজ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌ, বিমান বাহিনী’র সার্বিক আধুনিকীকরণসহ সকল ক্ষেত্রের সাফল্য দৃশ্যমান। যদি বাংলাদেশের উন্নয়নের এ যাত্রা অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী দশকের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশগুলোর মতো উচ্চ আয়ের দেশ হবে তাতে সন্দেহ নেই।

এইসব উন্নয়নের ফসল জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। জনগণ সরকারের উন্নয়নের ফসল পাচ্ছেন। চালের কেজি বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ টাকা উঠে গেছে। তবু জনগণের মনে কোন ক্ষেদ নেই, ক্ষোভ নেই। এ কারণে আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহজ বিজয় অর্জনের কথা। কিন্তু দুর্নীতির ঘোড়া উন্নয়নের সব ঘাস খেয়ে ফেলছে। তাই আস্থা থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতির কারণে আওয়ামীলীগ সরকারের প্রতি জনগণের বিমুখতা স্পষ্ট বাড়ছে। মফস্বল সাংবাদিকতা করি জনগণের কথা শুনি তাই একটি উদাহরণ দেই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। নিয়ম হলো একজন সাধারণ জনগণ বিদ্যুৎ গ্রাহক হতে চাইলে তাকে আবেদন করতে হবে। আনুষঙ্গিক প্রায় ৬শত ৫০ টাকা জমা দিতে হবে। গ্রাহক নিজের খরচে বাড়ীর ওয়ারিং করাবেন। এরপর বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ লাইনটানা, সংযোগসহ মিটার প্রদানের কাজটি সেরে ওই বাড়িটিকে বিদ্যুতের আলোয় ভরে দেবেন। তবেই সফল হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। কিন্তু এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ যাচ্ছে ঠিকই। তবে তৃণমূল জনগণের রক্তে ঝরা টাকার বিনিময়ের সাথে।

একটি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিদ্যুৎ গ্রাহক হতে হলে একজন গ্রাহককে অতিরিক্ত প্রায় দশ হাজার টাকা গুনতে হয়। এর উপর আছে হয়রানী সিএমও হারিয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা। তৃণমূল জনগণের মধ্যে বিদ্যুৎ গ্রাহক হওয়া কেন্দ্রিক সমস্যা, ঘুষ দেয়া ও হয়রানীর তথ্য আমার কাছে আছে। যে কোন গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা সরকার সমর্থক উৎসাহী কোন ব্যক্তি চাইলে হাতের কাছেই প্রমাণ পেতে পারেন। অনেক কারণের মধ্যে এই একটি ছোট কারণ ও সরকার বিমুখতা সৃষ্টির কারণ হতে পারে। যার প্রভাব পড়বে আগামী নির্বাচনে।

রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কাছে থেকে দেখেছি, তাই মনে বদ্ধমূল ধারনাটির জন্ম হয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকার রংপুরের দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছে। কল্পনায় নয়। রংপুর বিভাগ করা, সিটি কর্পোরেশনে, নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নিতকরণ, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারি বিভাগ স্থাপন, বার্ন ইউনিট স্থাপন, তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণ, আধুনিক শিল্পকলা একাডেমী ভবন নির্মাণ , রংপুর এক্সপ্রেস নামে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু, দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণ, পীরগঞ্জকে পৌরসভায় উন্নিতকরণ, মেরিন একাডেমী, ন্যাশনাল সার্ভিস চালু, আইটি ভিলেজ স্থাপন, শিশু হাসপাতাল, মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনসহ প্রভূত প্রক্রিয়াধীন উন্নয়ন। তবু ভোটের সময় এই সব উন্নয়ন দাগ কাটেনি ভোটার জনগণের মনে। বরং একটি বিক্ষুব্ধতা দেখেছি।

প্রশ্ন হলো তৃণমূল জনগণের ঘুষের এই টাকা কোথায় যাচ্ছে ? কারা পাচ্ছে ? সরকার কি পায়? সরকারকে কি ঘুষ দিতে হয়? সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘুষ নিয়েই কি জনগণকে বিদ্যুৎ দিচ্ছেন? না । না । না । বরং সরকার প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগটি সফল বাস্তবায়নে অঢেল টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তাদের দুর্নীতি, লোভ কিংবা লাভের চৌকস চোখে ম্লান হতে বসেছে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ প্রদানের উদ্যোগটির সাফল্য। বিদ্যুৎ অফিস গুলোর যে বা যারা ওই ঘুষের সাথে জড়িত তাদের কারণে গোপনে বড় ক্ষতিটি হচ্ছে সরকারের।

কেউ দ্যাখে না। দেখার কেউ নেই। লিখতে গেলে হুমকি আসে। মাস্তান লাগিয়ে ভয় দ্যাখানো হয়। একজন বিবেকবান নাগরিক হিসেবে তাই নীরবেই বলে যাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ কার্যক্রমে দুর্নীতির ঘোড়া চেপে বসেছে। আপনার উন্নয়নের সব ঘাস খেয়ে ফেলছে, মানে সবুজ শান্তি খেয়ে ফেলছে। দুর্নীতির দুরন্ত এই ঘোড়াকে থামান। নইলে জীবনানন্দ দাশের আকাশলীনা কবিতার শেষ তিন লাইনের দ্বিতীয় দুই লাইন
“ বাতাসের ওপারে বাতাস
আকাশের ওপারে আকাশ”
এর মতো হয়ে উঠতে পারে আগামীর সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের পরিস্থিতি। যা আপনি নিজ হতে গড়ে তুলেছেন। আপনার উপর জনগণের নির্ভরতার শেষ আশ্রয়টি হারিয়ে গেলে আগামীর বাংলাদেশে অন্ধকার সৃষ্টি হবে। বিভীষিকাময় হবে সেই পরিস্থিতি। যা ভাবতেই পারি না।

লেখক-সাংবাদিক,দৈনিক মানবকন্ঠ।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful