Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ :: ৩ পৌষ ১৪২৫ :: সময়- ৯ : ৪১ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / সবার পাশে প্রধানমন্ত্রীকেই কেন দাঁড়াতে হবে?

সবার পাশে প্রধানমন্ত্রীকেই কেন দাঁড়াতে হবে?

ইফতেখার ইফতি

কয়েকদিন ধরে একজন সাবেক সংসদ সদস্যের মানবিক জীবন যাপন ও শারীরিক দুরারোগ্যের সংবাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কানেও পৌঁছায়। যার ফলশ্রুতিতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইউসুফের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আশা করি সাবেক সাংসদ ইউসুফ সাহেব দ্রুতই সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। এই সাবেক সাংসদ সম্পর্কে ব্যক্তিগত আগ্রহের ফলে একটু জানার চেষ্টা করি।

স্থানীয় কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারি গণপরিষদের সাবেক সদস্য ইউসুফ বিএনপির আধিপত্যের আমলেও নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অবস্থা সম্পন্ন কৃষক পরিবারের সন্তান তাই রাজনীতি করেছেন যৌবনের শুরু থেকেই। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মরিয়মনগরে জন্মগ্রহণ করা এই বীর মুক্তিযোদ্ধা এখনও পাকা দালান করতে পারেননি। লোকমুখে শোনা যায় এমপি থাকাকালীন অবস্থায় কখনও কেউ তার কাছে গিয়ে খালি হাতে ফেরেনি। লাঙ্গল জোয়াল নিয়ে ক্ষেতে কাজ করেছেন আগের মতোই। একসময়ের তুখোড় বামপন্থী নেতা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ধস নামিয়েছিলেন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাম্রাজ্যে। বয়সের ধকল নিতে পারেননি বলেই তার এই অবস্থা। দেশের কোনো যুদ্ধাপরাধীর পরিবার গরীব না থাকলেও এই মুক্তিযোদ্ধার অবস্থা মানবেতর।

বর্তমান প্রচলিত নিয়মে ব্যক্তিস্বার্থে হালুয়া-রুটির ভাগে ব্যস্ত হননি, দুঃসময়ে ছেড়েও যাননি দলকে, সর্ব্বোচ্চ নেতৃত্বের বিশ্বাসের অমর্যাদাও করেননি। যাকে স্পর্শ করতে পারেনি দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ব্যক্তিস্বার্থের লোলুপতা। জনসেবাকে ব্রত হিসেবে নিয়ে আন্তরিক, নিবেদিত প্রাণ হিসেবেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। যার প্রতিদান তিনি পেলেন চরম দারিদ্র, রোগ-শোক আর শেষ জীবনে হতাশার মধ্য দিয়ে। সাংসদ ইউসুফরা আমাদের এই ঘুণেধরা জন প্রতিনিধিদের কাছে আদর্শ বলে বিবেচিত হবার যোগ্য।

এবার আসি ভিন্ন প্রসঙ্গে, এমপিওভুক্তির দাবিতে টানা ছয় দিনের আমরণ অনশন শেষ করলেন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসার শিক্ষকরা। এই দাবি মেনে নেয়ার ফলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় বেড়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। প্রথমদিকে অনশনরত শিক্ষকদের নিজে গিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। কিন্তু তার এই আশ্বাসকে মোটেও গ্রাহ্য করেনি আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন প্রথম থেকেই। এর মানে যা দাঁড়ায় তার সারমর্ম হলো, প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত আর কারো প্রতি তাদের আস্থা নেই। এর মানে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন ? তিনি নিজে গিয়ে আশ্বাস দিলেন, তাতে পাত্তা দেন নি শিক্ষক নেতারা, অথচ প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে কত সহজেই সমস্যার সমাধান হয়ে গেলো।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। এই চট্টগ্রামে রয়েছে দেশসেরা বিভিন্ন ধনী ব্যক্তি ও পরিবার। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বর্তমান এমপি একজন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের গণমাধ্যমের মুখপাত্র। তিনি বিভিন্ন সময়েই খোঁজ নিয়েছেন সাবেক সাংসদ ইউসুফের, যদিও তা যথার্থ ছিলো না। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগে রয়েছেন অনেক নামকরা রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক কারণেই সিপিবি থেকে আওয়ামী লীগে এসেছিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ। তার সমসাময়িক বাম নেতাদের অনেকেই মন্ত্রী হয়ে শুল্কমুক্ত গাড়ীতে চড়ে সচিবালয়ে অফিস করলেও কেউ একটি বারের জন্য তাদের রাজনৈতিক সহকর্মীর খোঁজ নেননি।

সকল কাজের কাজির দায়িত্ব পালন করেছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। এত রথি-মহারথী থাকার পরেও কেউ একটিবারের জন্য মোহাম্মদ ইউসুফের খোঁজ নিতে পারলো না।

ধরে নিলাম তারাও সৎ(!), গরীব অসহায় মন্ত্রী। তারা দামি গাড়িতে চড়েন না, সরকারি পেট্রোলে চলেন, রেশনের চালে-ডালে দুটো খিচুড়ি ফুটিয়ে খান। তারা কী একটিবারের জন্য পারলেন না প্রধানমন্ত্রী বরাবর মোহাম্মদ ইউসুফের দুর্দশার খবর পৌঁছে দিতে? তারা রাঙ্গুনিয়ার যান, অনুষ্ঠান করেন, হাততালি নেন, মুখচন্দ্রের ন্যায় ফটোসেশনও করেন। কিন্তু ভুলে যান উত্তরসূরিদের। একটিবারের জন্যও ইউসুফ সাহেবের কথা তাদের মনে পড়লো না। ফেসবুকের কল্যাণে এই খবর প্রধানমন্ত্রীকে শুনতে হয়, দায়িত্বও নিতে হয়।

সম্ভবত বছর দুয়েক আগে মোহাম্মদ ইউসুফের নামে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বরাদ্দকৃত দুই লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। কোনো এক জটিলতায় সম্ভবত সে চেক ক্যাশ করতে পারেননি মোহাম্মদ ইউসুফ।

শিক্ষকদের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী, ইউসুফ সাহেবের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদের শিরোনাম পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী। সবার পাশেই দাঁড়ান তিনি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বাইরেও তার পরিচয় তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা। বাকীরা কী তবে চিনির পুতুল? সব দায় কী শুধুই প্রধানমন্ত্রীর? সব যদি প্রধানমন্ত্রীই করতে হয় তবে বাকীরা আছেন কী করতে? সবার পাশে কেন প্রধানমন্ত্রীই দাঁড়াতে হবে?

সবাই সব কিছুতেই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায়। সবাই এখন চায় প্রধানমন্ত্রী পাশে দাঁড়াক। কদিন আগে সংবাদ মাধ্যমের অন্যতম হট ইস্যু ছিলো সাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের দাম্পত্য জীবন। তাদের দাম্পত্য জীবনের সমস্যা সমাধানেও অপু বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন! কী করে সম্ভব! কার সংসার থাকবে না ভাঙবে সেটাও প্রধানমন্ত্রীকে ঠিক করে দিতে হবে? একটি দেশের রাষ্ট্রনায়কের কী অন্যকোনো কাজ নেই? কে কি করবে, কার স্থান কোথায় কে কোথায় যাবে এসবও ঠিক করে দিতে হবে তাঁকে!

তবে একজন মানবিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজের অবস্থান অনেক উঁচুতে প্রতিষ্ঠিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সব দিকের খোঁজ খবর রাখার চেষ্টা করেন। পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। স্বপ্ন দেখের একটি উন্নত বাংলাদেশের। কিন্তু তার উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন তাদের মানসিকতা কতটা উন্নত সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful