Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ :: ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ :: সময়- ১ : ৩১ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / ঝন্টু ভাইয়ে যে স্মৃতিগুলো অমলিন

ঝন্টু ভাইয়ে যে স্মৃতিগুলো অমলিন

মহিউদ্দিন মখদুমী
প্রচণ্ড রাগে ফেটে পড়েছেন তিনি। সকাল ১০টার আগে তার গুপ্তপাড়ার বাসায় চিৎকারের শব্দ হওয়ার কথা নয়। নীচের রুমে বসে থাকা পুলিশ সদস্যরা উৎকণ্ঠিত। আমি দ্বিতীয় তলায় তার রুমের সামনে চলে গেলাম। রুমের ভিতরে প্রবেশ না করে বাইরে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। রুমে তিনজন পুরুষ ও দুই নারী ছাড়া আর কেউ নেই। তিনি পুরুষটিকে বলছেন- এ- এ্যাই ব্যাটা ধর- পা ধর। আবার রেগে উঠছেন। শেষবার বলার আগেই পুরুষটি নারীর পায়ের কাছে হাত দিয়েছে। পায়ে হাত দেয়ার আগেই নারী পুরুষটির হাত দুটো ধরে ফেলেছে। বলছে- তুমি আর কোন দিন আমার সাথে ওরকম করো না। কমপক্ষে সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে। তারপর নারী ও পুরুষটি জড়াজড়ি করে ধরে কাঁদছে। রুমটিতে থাকা নারী-পুরুষ সবাই কাঁদছে। ঝন্টু ভাই ছাদের দিকে মুখ করে আছে। তাঁর চোখ ভিজে গেছে। কিছুক্ষণ পর তিনি নারী ও পুরুষটির দিকে আঙুল তুলে বলছেন- এ্যাই আমি ঝন্টু কিছু না। আল্লাহকে ভয় করিস। সংসারটি টিকে রাখিস। আর কোন দিন যেন আমাকে তোদের বিচার করতে না হয়। কিছুক্ষণ পর সবাই চলে গেলে আমি রুমে প্রবেশ করি। আমাকে তিনি বলেছিলেন, একজন মেয়র আমি। আমাকে জনগণের দাম্পত্য কলহের বিচার করতে হয়। সবাই বলে মামলা না করে ঝন্টুর কাছে গেলে সব সমাধান হবে। মানুষের এই বিশ্বাস রক্ষা করা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ঠিক না সাংবাদিক। তিনি বলেছিলেন, আমার জীবনে এতো স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য কলহের মীমাংসা করে দিয়েছি হিসাব রাখলে কয়েক হাজার পার হয়ে যেতো। পরে জেনেছি খটখটিয়ার ওই স্বামী স্ত্রীর কলহ চলছিল ৫ বছর ধরে। স্বামী স্ত্রীকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিল। গরীব পরিবারের স্ত্রীর কোন মামলা করতে পারে নাই। ঝন্টুর ভাই তার সমাধান এক দিনেই করে দিয়েছিলেন।

আর একদিন শনিবার ছিল। মেয়র স্যার বাসায় আছেন ভেবে দুপুরে স্যারের বাসার দিকে হাঁটা শুরু করি। ঠিক স্যার বাসায় আছেন। দোতলার উপর স্যারের বেড রুমে গিয়ে দেখি প্রেস ক্লাবের সাবেক সম্পাদক ইত্তেফাকের সাংবাদিক ওয়াদুদ ভাই ও চ্যানেল আইয়ের মেরিনা লাভলী আপা বসে আছেন। সংস্কারের কাজ চলছে তাই বিদ্যুৎ নেই। দরজা-জানালা দিয়ে আসা শরতের আকাশের আলোয় নিজ বিছানায় আধশোয়া হয়ে স্যার কবিতা আবৃত্তি করছেন। রুমে থাকা পাঁচজন তন্ময় হয়ে শুনছে। ওয়াদুদ ভাই ও তপু ভাই তা মোবাইলে ভিডিও করছেন। আমি সালাম দিয়ে দূরের সোফায় বসে শুনছি। এরই মধ্যে মেরিনা লাভলী আপা চলে গেলেন। আজ চলছে আবৃত্তির দুপুর। স্যারের কণ্ঠে আবেগ ভর করেছে। ছোট বেলায় আবৃত্তি করা কবি জসিম উদ্দিনের “কবর” কবিতা আবৃত্তি করে প্রথম স্থান অধিকার করার স্মৃতি চারণ করলেন। তিনি বললেন,“কবর” কবিতাটির কিছু লাইন খুব দুঃখময় স্মৃতির। আমি আবৃত্তি করার সময় সেই লাইন গুলোতে কণ্ঠ দিতেই আমার চোখে পানি এসে যায়। আমি আবৃত্তি করছি আর কাঁদছি। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে আমার গাল বেয়ে। আবৃত্তি শুনে এবং ওই দৃশ্য দেখে উপস্থিত বিচারকসহ শ্রোতাদের চোখ আবেগী কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছিল। আমাকে আবৃত্তিতে প্রথম ঘোষণা করা হলো। তপু ভাইয়ের অনুরোধে “কবর” কবিতা থেকে তিনি আবৃত্তি করছেন“

এই খানে তোর বাপজি ঘুমায়, এই খানে তোর মা,
কাঁদছিস তুই ? কী করিব দাদু পরাণ যে মানে না,
সেই ফাল্গুনে বাপ তোর এসে কহিল আমারে ডাকি
বা-জান আমার শরীর আজিকে কী যে করে থাকি থাকি,
ঘরের মেঝেতে সপটি বিছিয়ে কহিলাম বাছা শোও,
সেই শোওয়া তার শেষ শোওয়া হবে তাহা কী জানিত কেউ?
গোরের কাফনে সাজায়ে তাহারে চলিলাম যবে বয়ে,
তুমি যে কহিলা বা-জানরে মোর কোথা যাও দাদু লয়ে—

সবাই চুপচাপ। স্যারের চোখে পানি। ওয়াদুদ ভাই টিসু দিয়ে নিজের চোখ মুছে নেন। দুপুর তিনটা বাজে। স্যারের স্ত্রী খাবার নিয়ে এসেছেন। স্যার দুপুরের খাবার খাবেন। ওয়াদুদ ভাই তাই বিদায় নিয়ে চলে যায়। তপু ভাই, বাবলু ভাই. অচেনা একজন ও আমি থেকে যাই। নিজ হাতে খাবার দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। তিনি খাচ্ছেন। আমরা বসে আছি। সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে তাঁর স্ত্রী একটি কথা বললেন। স্যার তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “কথায় শত্রু বাড়ে” চুপ থাকাই ভালো। এরকম অনেক স্মৃতি কথা জমে আছে। রংপুরের মাটি মানুষের উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করে গেছেন তিনি। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর গংগাচড়াকে উন্নয়নে আমূল বদলে দিয়েছেন তিনি। স্থানীয় জনগণ সেই কথার সাক্ষ্য দেয় এখনো। সিটির প্রথম মেয়র হিসেবে সীমাবদ্ধতাকে দাবিয়ে রেখে ফোর লেন রাস্তা, চিকলি পার্ক, বর্ধিত এলাকার যোগাযোগ রাস্তা পাকা করণ,সিটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান, মসজিদ- মন্দির- স্কুল -মাদরাসা নির্মাণে সহায়তা,রাস্তা ফুটপাত, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ও বাতির ব্যবস্থা করন, আবর্জনা ব্যবস্থার উন্নয়ন, পাবলিক টয়লেট স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপন. বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ড্রেন নির্মাণ, বাস টার্মিনাল উন্নয়ন, বাজার উন্নয়ন, বৃক্ষ রোপণ, জন নিরাপত্তা নিশ্চিত করন, সমাজ কল্যাণ শিক্ষা ও সংস্কৃতি উন্নয়ন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন,জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন, সালিশ, কমিউনিটি উন্নয়ন, ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার ও নগর পরিকল্পনা গ্রহণ, বস্তি উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছিলেন। জন্মের মাত্র ৬৫ বছর ৬ মাস ১৮ পর পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে যেখান থেকে এসেছিলেন সেই খানে তার আত্মœা ফিরে গেছে। ঝন্টু ভাই, আপনার হাতে তৈরি পায়রা চত্বর, শাপলা চত্বর ও নব নির্মিত সিটি ভবনটিসহ বিভিন্ন স্থাপনার সামনে দাঁড়িয়ে এবার কান্নার পালা। সত্যি রংপুর বাসী একটি অভাব বোধ থেকে কাঁদবেন। জনে জনে জমা রাখা যে স্মৃতিগুলো আছে তা অমলিন। জনগণ স্বীকার করবেনই- রংপুরের লৌহ মানব, পাওয়ার অব দ্যা রংপুর, ঝন্টু দ্যা হিরো, রংপুর উন্নয়নের কাণ্ডারি ইত্যাদি নামে খ্যাত সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু ব্যক্তি জীবনে ছিলেন নির্লোভ আপোষহীন। ভালো থাকবেন ওপারে। তাকে মাফ করে দিয়ে জান্নাত দান করো আল্লাহ।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful