Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৮ :: ১০ বৈশাখ ১৪২৫ :: সময়- ৫ : ৪৩ অপরাহ্ন
Home / ঠাঁকুরগাও / পঞ্চগড়ের চার সীমান্তে দুই বাংলার মিলনমেলায় হাজার মানুষের ঢল

পঞ্চগড়ের চার সীমান্তে দুই বাংলার মিলনমেলায় হাজার মানুষের ঢল

ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়, পঞ্চগড় সীমান্ত থেকে ১৫ এপ্রিল॥ বছরের বিশেষ কোনো দিনে ভারত-বাংলাদেশের বাঙালিরা সুযোগ পেলেই মিশে যায় একে অন্যের সঙ্গে। ভৌগোলিক সীমারেখার বেড়াজালে বন্দি হাজার হাজার মানুষ মিলিত হন কাঁটাতারের বেড়ার উভয়পাশে। কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি বিনিময় করেন নানান উপহার সামগ্রী। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের কাছে পেয়ে আবেগে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অনেকে। আকাশে-বাতাশে ভেসে উঠে তাদের কান্নার শব্দ।

নববর্ষ পহেলা বৈশাখে উপলক্ষে প্রতি বছরের মত এবারও পঞ্চগড়ে বাংলা নববর্ষ উপলে দুই দেশের বাঙালিদের এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার একদিন পরে দুই বাংলার জেলা প্রশাসন, বিজিবি এবং বিএসএফের সমন্বয়ে মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।
আজ রবিবার সকাল থেকে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া ও সদর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তে মিলিত হন নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী বাঙালিরা।

পঞ্চগড় ১৮ ও নীলফামারী ৫৬ বিজিবি সূত্র জানায়, আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন তেঁতুলিয়া উপজেলার ভুতিপুকুর সীমান্তের মেইন পিলার ৭৩৪ এর ৬ নম্বর সাব পিলার এলাকা থেকে ৪ নম্বর সাব পিলারের ৫০০ গজ ও নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন একই উপজেলার ভারতীয় শুকানী সীমান্তের মেইন পিলার ৭৪১ এর ৬ নম্বর সাব পিলার হতে ৭ নম্বর সাব পিলার সংলগ্ন ৪০০ গজ, মাগুরমারী সীমান্তের মেইন পিলার ৭৪২ এর ১১ নম্বর সাব পিলার হতে ১২ নম্বর সাব পিলার সংলগ্ন ৩০০ গজ এবং সদর উপজেলার অমরখানা সীমান্তের মেইন পিলার ৭৪৩ এর ৩ নম্বর সাব পিলার হতে মেইন পিলার ৭৪৪ এর ২ নম্বর সাব পিলার পর্যন্ত এক হাজার ৫০০ গজ এলাকা জুড়ে এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মেলা চলাকালীন এপারে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা এবং ভারতের ওপারে বিএসএফের পাশাপাশি ভারতীয় পুলিশ সদস্যরা আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে সকাল হতে না হতে মিলন মেলায় পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও টাঙ্গাইল, বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার বাঙালি নারী-পুরুষ সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে যান। একই সময় ভারতের কুচবিহার, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভারতীয় বাঙালিরা জড়ো হন কাঁটাতারের ওপারে।

দুপুরের মধ্যে কাঁটাতারের উভয় পাশে জড়ো হয় দুই বাংলার লাখো মানুষ। দুই পাশে দুই দেশের নাগরিক হলেও জাতীতে তারা এক। এরা সবাই বাঙালি। একে অন্যের আত্মীয়। দীর্ঘদিন পর কাছের মানুষদের দেখতে পেয়ে তারা ভুলে যান সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া। বেড়ার ফাঁক পেরিয়ে একে অন্যের হাত ধরেন, কথা বলেন।

মিলনমেলায় এসময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ শামছুল আরেফীন (পিএসসি), পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আল হাকিম মো. নওশাদ, নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার নয়নব্রুজ এলাকার সুমিতা রানী চোখের পানি মুছতে মুছতে জানান, বাবা-মাসহ আরও অনেকে ভারতের জলপাইগুড়ির চাউলহাটি এলাকায় থাকেন। এই একটি দিনের জন্য অপোয় থাকি। এই দিনে আমার বাবা-মাকে একপলক দেখতে পাই। এখানে যদি একটি সীমান্ত হাট হয় তবে প্রায়ই বাবা মার সাথে দেখা করতে পারবো। টাকা পয়সাতো নেই যে পাসপোর্ট ভিসা করে যাবো।

ঠাকুরগাঁওয়ের জগন্নাতপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব হর মহন রায় বলেন, ভারতের জলপাইগুড়ি এলাকায় আমার ছোট ভাই প্রহল্লাদ চন্দ্র থাকেন। তাকে দেখার জন্য এসেছি। খবর পেয়ে সেও এসেছে কাঁটাতারের ওপারে। আমাদের দেখা হয়েছে। কথা হয়েছে। প্রতি বছর একবার এভাবেই আমরা দেখা করি।

একই জেলার পীরগঞ্জ এলাকার সিনোতি রানী বলেন, আমরা গরিব মানুষ। পাসপোর্ট ভিসা করে ভারতে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমার ভাই সুবোল রায় ছোটবেলায় ভারতে চলে যায়। তাকে দেখতে এখানে এসেছি।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আবুল কালাম আজাদ বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বাংলা নববর্ষ উপলে এমন মিলন মেলা হলেও পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি এবং নীলফামারী ৫৬ বিজিবির প থেকে এবারই প্রথম এবারই প্রথম জেলা প্রশাসন, বিজিবি এবং বিএসএফের সমন্বয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

কয়েক যুগ ধরে এই মিলনমেলা বসছে। আমরা জেনেছি এই এলাকার মানুষ নাওঘাটায় একটি সীমান্ত হাট দাবি করেছে। তাদের দাবি যৌক্তিকতা বিবেচনা করে আমরা উপরের চ্যানেলে কথা বলবো এবং দ্রুত একটি সীমান্ত হাট স্থাপনের চেষ্টা চালাবো।

এছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে মিলন মেলায় আগতদের মাঝে আমরা খাবার পানি, খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হয়। এছাড়া মিলন মেলায় বিজিবির প থেকে জরুরি স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আল হাকিম মো. নওশাদ জানান, ১৯৪৭-এ পাক-ভারত বিভক্তির পূর্বে পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া, বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার অধীনে ছিল। ১৯৭৪ সালের পর এ এলাকাগুলো পাক-ভারত বিভক্তির আগে ভারতের দণি দিনাজপুর জেলার অধীনে ছিল। পাক-ভারত বিভক্তির পর এসব এলাকা বাংলাদেশের অর্ন্তভূক্ত হয়। এ কারণে দেশ বিভাগের পর আত্মীয়স্বজনরা দুই দেশে ছড়িয়ে পড়েন। তাই সারা বছর কেউ কারও সঙ্গে দেখা সাাৎ করতে পারেন না। অপোয় থাকেন এ দিনটির জন্য।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও দুই দেশের নাগরিকরা তাদের আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাওয়া-আসার সুযোগ পেলেও ভারত সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করায় অবাধ যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে উভয় দেশের নাগরিকদের অনুরোধে প্রায় কয়েকযুগ ধরে বিজিবি ও বিএসএফের সহযোগিতায় অমরখানা সীমান্তের নাওঘাটা এলাকায় দুই বাংলার মিলনমেলা বসছে। এছাড়া মাগুড়মারি, ভূতিপকুর ও শুকানী সীমান্তেও এই মিলনমেলা বসে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful