Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ২৫ জুন, ২০১৮ :: ১১ আষাঢ় ১৪২৫ :: সময়- ৪ : ১৮ অপরাহ্ন
Home / পঞ্চগড় / পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার হাকিমপুর গ্রামে মাদকের থাবা !

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার হাকিমপুর গ্রামে মাদকের থাবা !

বিশেষ প্রতিনিধি॥ কথায় আছে, সৎ সঙ্গে সর্গবাস আর অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বেশীর ভাগ তরুন যুবক মহানন্দা নদী হতে পাথর উত্তোলন করে জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে নদীতে পানির স্রোত বেশী হলে তারা পাথর উত্তোলন করতে পারেনা। দুই একদিন বসে থাকার পর হাতে নগদ অর্থের টান পড়ে। আর তখনি পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু তরুণ যুবক বাধ্য হয়ে সীমান্ত গলিয়ে মাদক বহন করা শুরু করে। জীবনের ঝুকি নিয়ে তারা মাদক ব্যবসায়ীদের বাসায় পৌছে দেয় মাদকের চালান। আবার কেউ কেউ ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানেনা, এমন তরুন যুবকও সীমান্ত হতে মাদক বহন করে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পৌছে দিচ্ছে। আবার কেউ ভাল মানুষ সেজে হাটবাজারে দোকান করছে-সেই দোকানেই গোপনে বিক্রি করছে মাদক।

অনেক অভিভাবক আবার তাদের সন্তানদের সাহসীকতা বা মাস্তানীকে সায় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। এদের কে আবার দেখা যায় মাথায় টুপি, কেউবা গ্রাম সর্দার। এদের অত্যাচারে গ্রামের সাধারন মানুষজন টু-শব্দ পর্যন্ত করতে পারেনা।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার রণচন্ডি, সিপাইপাড়া, হাকিমপুর, গুয়াবাড়ি, ভজনপুর, বাংলাবান্ধা যেন মাদকের আখড়া। প্রায় প্রতি পরিবারেরই দু-একজন কিশোর-যুবক মাদকাসক্ত। দেশের সর্বউত্তরের সীমান্তবর্তী এ জেলার প্রতিটি গ্রামগঞ্জেই রয়েছে মাদকের হাট।
বর্তমানে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে আইশৃ্খংলা বাহিনী। বন্দুকযুদ্ধে নিহত ও আহতর ঘটনা ঘটছে। পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্পটে মাদক হাওয়া হলেও এই সময় মাদক পাওয়া যাচ্ছে হাকিমপুর, সিপাইপাড়া, গুয়াবাড়ি ও শালবাহান হাটে।

এলাকার সাধারন মানুষজন অভিযোগ করে শনিবার (২৬ মে) জানায়, ওদের দাপটে এমনি থাকা দায়। তার উপর ওদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গেলে গ্রামে বাস করতে পারবো না।
নাম প্রকাশ না করার সর্ত্বে তারা জানায় তিরনই ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামে এখনও চলছে ফেন্সিডিল,গাঁজা ও ইয়াবার জমজমাট ব্যবসা। ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে এই মাদক ব্যবসা চলছে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক। এলাকাবাসী সাংবাদিকদের জানায় হাফিজ উদ্দিন মেম্বার খুব চালাক। নিজে মাদকের ব্যবসায় করে গ্রামে গ্রামে ছোট ছোট সাইনবোড ঝুলিয়ে লিখে দিয়েছে মাদক মুক্ত সমাজ চাই, সোনার বাংলা গড়তে চাই। এই সাইনবোডের ভাষাগত দিক চমৎকার হলেও সাইনবোডের উল্টোদিক হলো – হাফিজ উদ্দিনের কাছে মাদক পাওয়া যায়। তাই তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সাইনবোড লাগিয়ে নিজেই মাদক বিক্রি করছে। শুধু হাফিজ উদ্দিন যে মাদক বিক্রি করে তা নয়, হাকিমপুরের দুলাল হোসেন দুলাল, আহমেদ দালালের ছেলে সহিদুল, হাসু মিয়ার ছেলে নুরুজ্জামান মাদক বিক্রি করছে। তারা বিভিন্ন সীমান্ত গলিয়ে মাদক নিয়ে আসছে। আর মাদক বহনকারী হিসাবে কাজ করছে গুয়াবাড়ি গ্রামের মৃত কমরুলের ছেলে রিপন, মৃত ইসলামের ছেলে সাহাদত হোসেন ওরফে সারদা, সারওয়ার জাহানের ছেলে নসিব সহ আরো অনেকে বলে এলাকাবাসী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে জানায়। তারা বলেন পঞ্চগড় জেলায় কোথাও মাদক পাওয়া না গেলে হাকিমপুরে সহজে পাওয়া যায়।

এলাকাবাসী জানায়, গতকাল শুক্রবার (২৫ মে) মাদকবহনকারীহোতা সারদা ও নসিবের ভয়ভিতি ও হুমকীর মুখে গুয়াবাড়ির নবীর পরিবারের দশম শ্রেণীর ছাত্রকে দিয়ে জোড়পূর্বক ২০বোতল ফেন্সিডিল বহন করা হয়। এসময় পেদিভিটা বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যদের হাতে আটক হয় ওই স্কুল ছাত্রটি। তাকে তেঁতুলিয়া থানার মাধ্যমে পঞ্চগড় জেলহাজতে পাঠানো হয়। এঘটনায় বেচেঁ যায় মাদকবহনকারী লিডার সারদা ও নসিব। এলাকার সাধারণ মানুষজন মাদকবহণকারী এই দুই লিডারের শাস্তি ও গ্রেফতারের দাবি করেছে।

তেঁতুলিয়ার অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদক আসক্ত সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা দারুণভাবে শঙ্কিত। ছেলেরা স্কুলে যাওয়ার কথা বলে গাঁজার আসরে চলে যায়। তাদের নানাভাবে বোঝানোর পরও কোনো লাভ হচ্ছে না।

তেঁতুলিয়া উপজেলার জনপ্রতিনিধি উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করীম শাহীন, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ, ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আনিসুর রহমান, রাজনীতিবিদ কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু, শাহাদাত হোসেনসহ এলাকার বিশিষ্ট নাগরিকরাও মাদক নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। তারা জানান, যে কোনো মূল্যেই হোক মাদক থেকে কোমলমতি ছেলেদের সরাতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম বৈরাগীগজ। সেখানকার জালাল উদ্দিন নামে এক বয়োবৃদ্ধ বলেন, মদ-গাঁজা কী জিনিস আমরা জানতামই না।
কিন্তু এখনকার ছেলেরা সবাই এগুলো খায়। এ নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে পর্যন্ত নাজেহালের শিকার হতে হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে এসব ব্যবসা চলছে। জেলার আটোয়ারী উপজেলার সীমান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি গাঁজা প্রবেশ করছে। এই উপজেলায় মাদকের ব্যবসাও জমজমাট। পুরাতন আটোয়ারী, ধামোর, মির্জাপুর, বারোঘাটিসহ আরও কয়েকটি এলাকায় গাঁজার ব্যবসা জমজমাটভাবে চলছে। এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ততপরতা লক্ষ্য করা গেলেও তাদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ধৃতদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীগঞ্জ সদর, কালিগঞ্জ, চেংটি হাজরা, সোনাহার, চিলাহাটিসহ বেশ কিছু এলাকায় চলছে প্রকাশ্যে গাঁজার ব্যবসা। বোদা উপজেলার মাড়েয়া, রানীগঞ্জ, নতুন হাট, ময়দান দিঘী, পঞ্চগড় সদর উপজেলার রত্নিবাড়ি, হাড়িভাসা, মডেলহাট, জগদল বাজার, গোয়ালঝারসহ নানা এলাকায় এখন গাঁজার রমরমা ব্যবসা চলছে।
এক বছর আগেও গাঁজার এরকম প্রকাশ্য হয়ে ওঠার খবর ছিল না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ ততপরতার জন্য এই এলাকার মাদকের রুটগুলো দিয়ে ফেনসিডিল আসা কিছুটা বন্ধ হলেও এখন তা বেড়েছে। এর আগে বিভিন্ন নেশাজাতীয় ইনজেকশন নিত মাদকসেবীরা। এখন তা কিছুটা কমলেও গাঁজা এবং ইয়াবাসেবীর সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশি ইয়াবা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের একটি বড় চক্র কাজ করছে এই জেলায়। ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের নামও জড়িত। সদর উপজেলার ভিতরগড় এলাকার বিধবা নমিজন বেওয়া জানান, তার ১৯ বছরের একমাত্র ছেলে ট্রাক্টর চালিয়ে সংসার চালায়। এখনো বিয়ে হয়নি। সে প্রতিনিয়িত গাঁজা খেয়ে উপার্জনের টাকা শেষ করে ফেলে। এখন সংসার ভালো চলে না। ছেলেটা বাড়িতে শুধু বকাবকি করে।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, যেখানে মাদক সেখানেই পুলিশের অভিযান। মাদকে কোনো ছাড় নয়। আমরা মাদককে নিরুৎসাহিত করতে নানা পদপেও নিচ্ছি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful