Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ :: ১২ বৈশাখ ১৪২৬ :: সময়- ১০ : ০৩ পুর্বাহ্ন
Home / কুড়িগ্রাম / কুড়িগ্রামে ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী

কুড়িগ্রামে ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী

সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টির পানিতে কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৩১ সেন্টিামিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ফলে কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়ী উপজেলায় ধরলা নদীর অববাহিকার চরাঞ্চলের প্রায় ৪০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। এসব এলাকার রাস্ত-ঘাট তলিয়ে থাকায় নৌকা ও কলাগাছের ভেলাই একমাত্র ভরসা।
এদিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মধ্যকুমরপুর এলাকায় কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়কের নির্মানাধীন ব্রীজের পাশে যান-বাহন যাতায়াতের বেলী ব্রীজটি বন্যার পানির স্রোতে ঝুকিপুর্ন হয়ে পড়ায় বাস-ট্রাকসহ ভারী যান-বাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বেলী ব্রীজের ওপর দিয়ে ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলাসহ সোনাহাট স্থল বন্দরের পন্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে সদর উপজেলার ভোগডাঙঙ্গা ইউনিয়নের ধরলা নদীর অববাহিকার চর জগমন ও চর বড়াইবাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, চর বড়াইবাড়ী গ্রামের সবগুলো বাড়িতেই বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এ অবস্থায় এসব ঘর-বাড়ীর মানুষজন তাদের গবাদি পশু উঁচু স্থানে রেখে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ঘরের উঁচু মাচান ও চৌকির উপর রেখে কষ্ট করে বাড়িতে অবস্থান করছে। কিছু কিছু বাড়ির মানুষ পাশ্ববর্তী উচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে।
এ অবস্থা শুধু চর জগমন বড়াইবাড়ী চরের নয় এমন অবস্থা এখন কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়ী উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ধরলা নদীর অববাহিকার সকল চরাঞ্চলগুলোতে।
বন্যা কবলিত এলাকার বানিবন্দী মানুষজন জানান, গত ৩দিন ধরে বন্যার পানি ঘরে প্রবেশ করায় পরিবার পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে দিনানী পাত করলে এখন পর্যন্ত সরকারী বা বে-সরকারী কোন সহায়তা পাননি।
সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চর বড়াইবাড়ী গ্রামের ছকমত আলী, আমিনুর ইসলাম, আব্দুস ছালাম জানান, বন্যার পানি ঘরে প্রবেশ করায় আপাত চৌকি উঁচু করে সেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে অপেক্ষা করছি। পানি আরো বৃদ্ধি পেলে বাড়ি-ঘর ছেলে পরিবার পরিজন নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্র নিতে হবে।
চর বড়াই গ্রামের ছাবিজন জানান, কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় গত ৩দিন ধরে তার অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে ঘরে পানির ওপর অবস্থান করছি। রান্না করতে পারছি না। উঁচু জায়গা থেকে অন্যের রান্না করা খাবার এনে কোন রকমে দিন পার করছি।
ঐ এলাকার খোতেজা বেগম জানান, বন্যার পানি ঘরের ভিতর ঢুকে পড়ায় থাকার চৌকি উঁচু করে কোন রকমে থাকতে পারলেও রান্না করার কোন জায়গা নেই। সকালে উঁচু বাড়িতে যা আছে তাই রান্না করে নিয়ে এসে তাই দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে।
সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ সাইদুর রহমান জানান, আমার ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দী জীবন-যাপন করছে। এখনও সরকারের পক্ষ থেকে কোন ত্রান সহায়তা পাওয়া যায়নি।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পরভীন জানান, আমাদের নিকট ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার আছে। আরো শুকনো খাবার জিআর চাউল ও ক্যাশের বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি। তারা জানালে যেখানে যা প্রয়োজন দেয়া হবে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শফিকুল ইসলাম জানায়, শক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ৪৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রাবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানিও।
এদিকে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গত ৩ দিন থেকে এ অঞ্চলে বৃষ্টি না হলেও গত ৩দিন আগে তেতুলিয়াতে ২শ মিমিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেই পানির তিস্তা নদী দিয়ে নেমে আসছে। অন্যদিকে একই ভারতে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় তা দুধকুমার ও ধরলা নদী দিয়ে নেমে আসায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful