Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ :: ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ :: সময়- ২ : ৫৬ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / বিশেষ প্রতিবেদন: রংপুরের উন্নয়ন কতদূর?

বিশেষ প্রতিবেদন: রংপুরের উন্নয়ন কতদূর?

মুরাদ মাহমুদ

১.

সময়ের সাতে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।  ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।  ওই সময়ে মধ্য-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তারা।  ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারো জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ধরে রাখে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা।  তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে।  মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যতার হার  ২২ শতাংশে নেমে এসেছে।  মাত্র এক দশক আগেও বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটত বড় একটি জনগোষ্ঠীর।  অধিকাংশ অঞ্চল ছিল বিদ্যুতহীন অন্ধকারাচ্ছন্ন।  মাত্র ৯ বছরেই পাল্টে গেছে দেশের সার্বিক দৃশ্যপট।

তবে সামগ্রিক উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মান এখনও পিছিয়ে রয়েছে এক সময়ের মঙ্গা পীড়িত রংপুর বিভাগে।  ২০১৭ সালের অক্টোবরে একই প্রতিষ্ঠানের খানা আয়-ব্যয় নির্ধারণ জরিপে আরও করুণ চিত্র উঠে আসে।  এতে বলা হয়, ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ নিয়ে সব বিভাগের মধ্যে রংপুর বিভাগের দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি। বিবিএসের প্রতিবেদন অনুসারে, জেলাওয়ারি দারিদ্র্য হারের শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে ৫টিই রংপুর বিভাগের। ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ নিয়ে দারিদ্র্যের শীর্ষ জেলা কুড়িগ্রাম। কুড়িগ্রাম ছাড়া এই তালিকায় আছে রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট।

তাহলে প্রশ্ন ওঠে, দেশের সব বিভাগে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও কেন বাড়ছে রংপুর বিভাগে? দেশের অর্থনীতির সঙ্গে রংপুরের কেন এমন বৈপরীত্য? দেশের অনঅগ্রসরমান এলাকাকে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।  আমাদের সংবিধানে আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণের বিষয়ে অনুচ্ছেদ ১৯-এ বলা আছে ‘১. সব নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হবে। ’ সদ্য পেশকৃত বাজেটেও পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ কোন বরাদ্দ রাখা হয়নি।  দেশের মোট খাদ্য চাহিদার ৫০ শতাংশ শুধু উত্তরাঞ্চল থেকে সরবরাহ হয়।  আর পোশাক শিল্প শ্রমিকদের চার ভাগের তিন ভাগই রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার। বেকারত্বের অভিশাপ মোচনের লক্ষ্যে আমার রংপুরের অসংখ্য শ্রমিকের প্রাণ যায় ঢাকা, সাভার, নবীনগর, আশুলিয়ার গার্মেন্টস ও কারখানায়।

২.

যে কথাটি না বললেই নয় সেটি হলো পিছিয়ে পড়া রংপুর বিভাগের মানুষের জন্য বর্তমান সরকার যা করেছে তার অর্ধেকও যদি আগের সরকারগুলো করতো তাহলে হয়তো দারিদ্র্যতার পরিসংখ্যান এভাবে উপহাস করতো না।  তিস্তা নদীতে ইতিমধ্যে দুইটি সেতু এবং ধরলা নদীতে একটি সেতু নির্মিত হয়েছে।  এসব সেতু লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে খুলে দিয়েছে পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলের সম্ভাবনার নতুন দ্বার।  যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সাথে সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ পুরো অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও জীবনযাত্রার মানে বিশেষ ভাবে প্রভাব ফেলছে।  এছাড়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ওপর ৩০৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।  সম্প্রতি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়।

বহু প্রতীক্ষিত বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাশে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল থেকে রংপুর হয়ে বুড়িমারী পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।  এই মহাসড়কটি চারলেনে উন্নীত হলে রংপুর থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগবে ৫ ঘণ্টার মত।

সব থেকে আশার বিষয় হচ্ছে, রংপুর অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।  রংপুর ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন অংশে এই গ্যাস সরবরাহের জন্য ১৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় মোট ৭৫ কিলোমিটার বিতরণ লাইন বসবে।  সরকার যদি সঠিক ভাবে গ্যাস সরবরাহ দিতে পারে তাহলে এ অঞ্চলে গড়ে উঠবে শিল্প-কারখানা।  কমে আসবে বেকারত্ব।

৩.

গত ২৪ জুলাই জেলা প্রশাসন সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশেই তৈরি হবে হেলিকপ্টার, বিমানসহ সব ধরনের আকাশযান।  এসব আকাশযান তৈরির কারখানা স্থাপনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে দেশের উত্তরের জেলা লালমনিরহাট জেলাকে। জেলার পরিত্যক্ত এয়ার স্ট্রিপে প্রথমে অ্যারোনেটিক্যাল সেন্টার স্থাপন করে প্রাথমিকভাবে বিমান ও হেলিকপ্টারগুলো মেরামত ও ওভারহোলিংয়ের কাজ করা হবে, পরে সেখানে এসব আকাশযান তৈরিও করা হবে।

গত ২১ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেয়া গণসংবর্ধনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে চারটি রুটে দ্রুতগামী বুলেট ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।এই ৪ রুটের মধ্যে রয়েছে  ঢাকা-দিনাজপুর।

এ দিন আরও ঘোষণা দেন রংপুর বিভাগের অধীনে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এয়ারপোর্ট হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।  এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে সৈয়দপুর বিমানবন্দর।

প্রধানমন্ত্রীর এসব ঘোষণায় সংশ্লিষ্ট জেলার মানুষ যে আনন্দিত সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।  তবে কিছুটা হলেও মন খারাপ প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুড় বাড়ির এলাকাবাসীর।  কারণ রংপুর জেলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কোন ঘোষণা আসেনি।  একটি বিভাগীয় শহরে যে সকল সুবিধা থাকা দরকার তার অনেক কিছুই নেই রংপুরে।

রংপুরকে বলা হয় উত্তরবঙ্গের রাজধানী। বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন বিভাগের অন্য ৭ জেলা থেকে লক্ষাধিক মানুষের আগমন ঘটে এই বিভাগীয় শহরে। এত লোকের সামাজিক প্রয়োজনীয়তা মিটানোর জন্য রংপুরকে উন্নত নগরী করা দরকার। বিভাগীয় শহর হিসেবে যতটা গুরুত্ব পাওয়ার কথা ছিলো রংপুরের ততটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

রংপুরের মানুষের স্বার্থে সরকারের যে বিষয়গুলি ভেবে দেখা দরকার

ক. রংপুর-ঢাকা দিবাকালীন আন্তঃনগর ট্রেন চালু: রংপুর-ঢাকা রুটে বর্তমানে রংপুর এক্সপ্রেস নামে একটি রাত্রিকালীন ট্রেন সাপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করছে। এই একটি ট্রেন দিয়ে রংপুর বাসীর প্রয়োজন মিটে না। প্রতিনিয়তই টিকেটের সংকট থাকে।  তাই রংপুর-ঢাকা দিবাকালীন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা প্রয়োজন।

খ. রংপুরের জন্য বুলেট ট্রেন বরাদ্দ: প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন রুটে বুলেট ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন।  যেখানে রংপুরের নাম বলা হয়নি।  বিভাগীয় শহর হিসেবে রংপুরও বুলেট ট্রেন পাওয়ার অধিকার রাখে।

গ. রংপুরে একটি বিমান বন্দর নির্মাণ: রংপুর থেকে সৈয়দপুরের ফ্লাইট ধরতে হলে অন্তত ২ ঘন্টা আগে রওয়ানা হতে হয়।  অর্থাৎ রংপুর থেকে সৈয়দপুর হয়ে ঢাকা পর্যন্ত বিমানে যেতে প্রায় ৩ ঘন্টা সময় লেগে যায়। এছাড়া ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে যে পরিমান যাত্রী যাতায়ত করে তার প্রায় ৪০ শতাংশ যাত্রীর লক্ষ্য বিভাগীয় শহর।  তাই সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করার পাশাপাশি রংপুরে একটি অাভ্যন্তরিন বিমানবন্দর করা প্রয়োজন।

ঘ. বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ ৬০ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণ: রংপুর থেকে ট্রেনে ঢাকা যেতে বর্তমান সময় লাগে ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা। রংপুর-ঢাকা যেতে শান্তাহার, নাটোর, ঈশ্বরদী ঘুরে বঙ্গবন্ধু সেতুতে আসতে হয়।  অথচ বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ ৬০ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণ করলে ট্রেনে রংপুর- ঢাকা যাতায়াতের সময় অন্তত ৪ ঘণ্টা কমিয়ে আনা সম্ভব।

এছাড়া রংপুর স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়ন আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে উন্নয়নের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন, সর্বোপরি পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর জন্য নর্থ বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রণালয় করা যেতে পারে।

লেখক: প্রকাশক, উত্তরবাংলা ডটকম

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful