Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ :: ২ কার্তিক ১৪২৫ :: সময়- ৮ : ০১ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / লোকাল বাস যাত্রার উদ্দেশ্য | তারানা হালিম

লোকাল বাস যাত্রার উদ্দেশ্য | তারানা হালিম

তারানা হালিম

 পুরো লেখাটা পড়ে মন্তব্য করবেন প্লিজ। আমি তারানা হালিম-একজন মানুষ, বাবা- মার সন্তান, একজন মা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি করি, পেশায় আইনজীবী (এম.পি হবার পর থেকে ছেড়ে দিয়েছি আইন পেশা), ৯ম ও ১০ম সংসদের এম.পি, এখন প্রতিমন্ত্রী।
রাজনীতি আমার পেশা নয়। মানুষের জন্য কিছু করার বাসনা আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবীত হয়েই রাজনীতির পথচলা। উত্তরাধীকারসূত্রে মোটামুটি স্বচ্ছল থাকার মতো অবস্থা আমার প্রয়াত বাবা-মা করে গেছেন। এমপি হিসেবে বরাদ্দকৃত সরকারি প্লটও নেইনি। এটুকু শুধু আমার back ground জানার জন্য একটি ভূমিকা। ‘আমৃত্যু ঘুষ খাবনা’-মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের যোদ্ধা হিসেবে ‘কাজ করবো’-নীতির প্রশ্নে আপোষ করবো না-বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও দলকে ভালোবাসবো- এগুলো আমার আমৃত্যু নীতি-এর কোনো উদ্দেশ্য, বিধেয় নেই, এর মধ্যে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসেবও নেই। তৈল মর্দনের বদ মতলবও নেই। এটি সত্য। সত্য বলবই।

এত কথা লেখার কারণ হলো ‘তারানা হালিমের লোকাল বাস যাত্রা’ নিয়ে অসংখ্য উৎসাহব্যঞ্জক কমেন্টের পাশাপাশি কয়েকটি মন্তব্যে আমার চোখ আটকে গেল- মন্তব্যগুলো দেখার আগে যে ভাবনা আমি ভাবিনি ,আমার সে সব না ভাবা ভাবনাগুলো নিয়ে মানুষ ভাবলো কীভাবে? নেতিবাচক সমালোচনার কয়েকটি হলো-নির্বাচনের আগে স্ট্যান্টবাজি- অভিনয়- আবার মন্ত্রী হতে চায়।
এক বাসে চড়েই এত কিছু পাওয়া যায় নাকি? জানতাম না তো!
এবার আসল কথাগুলো লিখি-
৫ বছর আগে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমি, আমার বোন ও আমার বোনের গড়া সংগঠনের সদস্যরা প্রেসক্লাব থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত হেঁটে গেছি। শ্যামলীর কাছাকাছি যেতে আমার পায়ের গোড়ালির ওপরের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় (এখনও শক্ত হয়ে গোল হয়ে আছে) অসহ্য ব্যথা হচ্ছিল তার পরও রিক্সা বা ভ্যানে চড়িনি। হেঁটে গেছি আমিনবাজার ব্রিজ পর্যন্ত। কারণ আমি বলেছিলাম ‘হেঁটেই যাবো’।

৫ বছর আগেই মহান জতীয় সংসদে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক ৭১ বিধির নোটিশ দেই, সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়। আমরা আইন মন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন প্রস্তাবও দেই। যোগাযোগ মন্ত্রীর কাছে ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করার প্রস্তাব দিলে তিনি তা ঠিক করে দেন ।
আমি যখন মহান জাতীয় সংসদে “হিজরাদের “3rd gender “হিসাবে স্বীকৃতি দেবার দৃষ্টি আকর্ষণী বিল আনি-তার আগে দুই দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ওদের বস্তিতে বসে থেকেছি। জানি না, কোথা থেকে অসম্ভব চুলকানি শুরু হলো। ওরা বললো-ঘুণে ধরা বাঁশ থেকে কণা ওড়ে, তাতে অভ্যাস না থাকলে চুলকানি হয়। তাদের জীবন-যাত্রা দেখার পরই নোটিশটি দিয়েছেলাম।

সোজা বিষয়কে সোজা হিসেবে দেখতে ভুলে যাচ্ছি কি আমরা? সব কাজের পেছনেই কি জটিল উদ্দেশ্য থাকতে হবে? বাচ্চারা যখন সড়ক নিরাপত্তার জন্য কাজ করছিল তখন অনেক বাচ্চারা পোস্ট দিয়েছিল মন্ত্রী, এম.পিরা তো পাবলিক বাসে চড়েনা- কষ্ট বুঝবে কী করে।

রাজনীতিবিদরা কষ্ট বোঝেন দেখেই সড়ক তৈরি হয়, দাবী পূরণ হয়, ব্রিজ হয়, দেশ এগিয়ে যায়। দেশ স্বাধীনও কিন্তু ছিল একটি রাজনৈতিক সংগ্রাম। আমাদের জন্য বঙ্গবন্ধু ১৫ বছর জেলের জীবন বেছে নিয়েছিলেন। আমরা যারা রাজনীতি করেছি এসি রুমে বসে করিনি-রোদে হেঁটেছি সবাই, ট্রাকে চেপে মাইলের পর মাইল গেছি, কখনো পুলিশের তাড়া খেয়েছি, রাসেল স্কয়ার-বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সারাদিন না খেয়ে থেকেছি সবাই। বঙ্গবন্ধু কন্যা এহেন গ্রাম নেই যেখানে যাননি। কখনো তিনি পায়ে হেঁটেছেন, কখনো নৌকায় চড়েছেন-কষ্ট করেই রাজনীতি করেছেন। ৪৭-৫২, বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ-সব দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সংগ্রামেরই ফসল।কিন্ত সমাজের সব ক্ষেএে কিছু ব্যতিক্রমও আছে সেটাও স্বীকার করব।
আমি কিছু তথ্য দিয়ে রাখি-
সেদিন লোকাল বাসে কোনো সাংবাদিক আমার সঙ্গে ছিলেন না। যাত্রীরা খুশি হয়ে সেলফি তুলেছেন। FB -তে ভাইরাল হয়েছে। সাংবাদিকরা অফিসে থাকা আমার পিআরও কে ফোন দিয়েছে। উনি কথা বলেছেন। অনেক সাংবাদিক আমাকে ফোন দিয়েছেন। আমি সত্য-টাই বলেছি যে -হ্যাঁ চড়েছি। বাসের আসনে তেল চিটচিটে কভারটা পরিবর্তন করার, ইন্ডিকেটর লাইট ঠিক করার অনুরোধটা মালিককে বলার জন্য চালককে অনুরোধ করেছি।
এবার আমার যেহেতু একটি Face Book page আছে-তাই আমিও লিখতে পারি এমন দাবী থেকে ক’টি প্রশ্ন করি-

* আমি যখনই সুযোগ পাব-লোকাল বাসে যাব। কারো কোনো সমস্যা আছে?
* আমার কলিগরাও খুশি হয়েছেন। এতে অন্য কারো কোনো সমস্যা আছে?
* ছাত্ররা চেয়েছিল- ঐ পোস্ট দেখে আমি লোকাল বাসে চড়ে দেখেছি-সময় বেশি লাগে, বেশ গরম, ভেতরটা পরিচ্ছন্ন নয়। দেখাটা অন্যায় হয়েছে?
* আপনারা চেয়েছিলেন পাবলিক বাসে আমরা চড়ি-চড়েছি-কথা শুনলেও দোষ, না শুনলেও দোষ?
* যখন প্রায়ই আমি লোকাল বাসে যাতায়াত করব-মন্ত্রী থাকলেও করব,না থাকলেও করব, এম.পি থাকলেও করব, না থাকলেও করব…সমস্যা আছে?

আমরা কি হনু রে ভাবিনা। পদ পদবী দুই দিনের। আমি কে? মানুষ কেমন? এটাই চিরস্থায়ী। আমি এভাবেই ভাবি। সমস্যা আছে?
[বি: দ্র: এক সাংবাদিক ভাই গতকাল ফোন করে বলেছেন-আপা পরের বার একটু আমিও যেতে চাই, বলেছি কেন নয়-সমস্যা আছে?]

—তারানা হালিম, বাংলাদেশের স্বাধীন, একজন সাধারণ নাগরিক।

লেখক: তারানা হালিম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful