Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ :: ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ :: সময়- ২ : ০৮ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / রাজনীতি এবং ‘গরিবের ভাউজ’

রাজনীতি এবং ‘গরিবের ভাউজ’

সাবিহা ইয়াসমিন ইসলাম

আমার সুযোগ হলেই সরাসরি, ফেসবুক বা ইউটিউবে আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শোনা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করি না। তাঁর সহজ, সরল, হাস্যরসপূর্ণ, কৌতুকময় বক্তব্যে যে কেউ আবিষ্ট হবে নিঃসন্দেহে! তেমনি আবিষ্ট হয়ে তাঁর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে দেয়া সভাপতির ভাষণ শুনছিলাম।

তাঁর ৬ অক্টোবর ২০১৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যের কোনো এক পর্যায়ের বক্তব্য আমাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। বক্তব্যগুলো সামগ্রিকভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের কষ্টার্জিত মর্যাদাকে উচ্চতর আসনে আসীন করেছে নাকি তাঁদের আত্মসম্মানবোধকে ভূলুণ্ঠিত করেছে আমার ক্ষুদ্রজ্ঞানে বোধগম্য নয়। তবে এতটুকু বুঝেছি মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সুবিবেচনামূলক চিন্তা, চেতনায় মেধাসম্পন্ন এসব আহম্মক (?) ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আমলা রাজনীতি নামক গরিবের ‘ভাউজের’ ঘরে ঢুকে পড়া অবাঞ্ছিত যে কেউ, যারা রাজনীতি নামক ‘ভাউজের’ ঘরে উড়ে এসে জুড়ে বসা অপদার্থ হাসির পাত্র।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের এই বক্তব্যের কারণ সম্ভবত সেইসব মেধাবী ‘যে কেউদেরই’ ব্যর্থতা। কারণ তারা হয়ত এটা প্রমাণে অসমর্থ যে, তারা উড়ে এসে জুড়ে বসা অপদার্থ, অযোগ্য কেউ নন।

ছাত্রাবস্থা থেকে মেধাসম্পন্ন এসব ‘অপদার্থগণ’ সম্ভবত সবাইকে বোঝাতে অসমর্থ হয়েছেন যে, তাঁদের অবসরে যাবার বয়স ৬৭ বছর হলেও এর থেকে শিক্ষা শুরুর আগে ৪/৫ বছর পর্যন্ত শিশু বয়স এবং প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০ বছর সময় ( প্রায় ১৫/১৬ বছর বয়স পর্যন্ত ) বাদ দিলে একাদশ শ্রেণিতে উন্নীত হবার পর থেকে (১৭/১৮ বছর বয়স থেকে শুরু করে) তাদের শিক্ষাজীবনের শেষ পর্যন্ত (প্রায় ২৪/২৫ বছর বয়স পর্যন্ত) পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে তারা জড়িয়ে থাকেন।

শিক্ষাজীবন শুরু এবং শেষ করেই হোক বা না করেই হোক শখের বশেই হোক বা পেশা হিসেবেই হোক ছাত্রাবস্থাতে যারা রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন তারা অনেকে পরবর্তী সময় ব্যবসা, আইন পেশা, সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ইত্যাদির সম্মানজনক দায়িত্ববান পেশার পাশাপাশি রাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে থাকেন। আর এই ছাত্রদের মধ্যে কিছু আহম্মক (?) মেধাবি ছাত্র প্রতিযোগিতামূলক বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে আমলা বনে যান। (বিসিএস ক্যাডারভুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদেরও আমি এই তালিকাভুক্ত করছি)। আর আহম্মক (?) কিছু মেধাবী ছাত্র শুরু থেকেই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার পেশাকে ভালোবেসে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি রাজনীতি চালিয়ে যান এবং ছাত্রজীবন শেষে পেশাজীবনেও পেশার পাশাপাশি স্বীয় রাজনৈতিক দলীয় সংগঠনের সমর্থনে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলেন এবং নিজ নিজ দলের সমর্থনে শক্ত অবস্থানে থাকেন।

উদাহরণ হিসাবে- শহীদ ডা. মিলনের স্বীয় দলীয় সমর্থনে আত্মদানের কথা সম্ভবত আমরা কেউই ভুলে যাইনি। ডা. শামসুল আলম খান মিলনকে সচরাচর শহীদ ডা. মিলন হিসাবে অভিহিত করা হয়। তাঁর মত্যুকে মহান আত্মত্যাগ হিসাবে গণ্য করা হয়। মৃত্যুকালে পেশায় চিকিৎসক শামসুল আলম খান মিলন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া তিনি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব। হত্যা ঘটনাকালে দেশব্যাপী রাজপথ-রেলপথ অবরোধ আন্দোলন চলছিল। ২৭ নভেম্বর ১৯৯০ তারিখে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের একটি সভায় যোগ দিতে রিকশাযোগে পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) যাচ্ছিলেন ডা. মিলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসি এলাকা অতিক্রমকালে সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর গুলি চালায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর মৃত্যু হয়।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মহামূল্যবান বক্তব্য অনুযায়ী যারা ‘রাজনীতিকে এখন গরিবের ভাউজ ( ভাবি ) বা তামাশা , মশকারার বিষয় বানিয়ে ফেলেছেন সেসব আমলা, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারদেরও চাকরি জীবনে যেকোনো দলের সাথে সক্রিয় অবস্থানে থাকতে হয়। দলের পক্ষে কাজ করতে হয়। নিরপেক্ষতা প্রদর্শন মানে নির্ঘাত শাস্তিমূলক পোস্টিং, ওএসডি বা চাকরিচ্যুত।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিবার থেকে আসা এসব মেধাবি আমলা (মেধাবী বার বার বলছি এ কারণে যে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এদের চাকরিটি মেধার ভিত্তিতে হয়ে থাকে এবং টিকে থাকে) চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্যই হোক বা দলীয় রাজনীতির প্রতি মমত্ববোধেই হোক তারা চাকরিজীবনে যেকোনো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করে যান।

এসব আমলা যেকোনো দলের সমর্থনেই হোক সুদীর্ঘ ৩৪/৩৫ বছর ধরে রাষ্ট্র পরিচালনার খুব কাছাকাছি থেকে রাজনীতির সাথে সাথে কূটনীতিতে পারদর্শী হয়ে যান। কর্মজীবনের ৩৫ বছর বয়সের সাথে ছাত্র রাজনীতির সময়কাল প্রায় আট বছর যোগ করলে মোট রাজনৈতিক প্রজ্ঞার বয়স দাঁড়ায় প্রায় ৪৩ বছর। এই ৪৩ বছরের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন একজন দলীয় বিশ্বস্ত মেধাবী আমলা, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারকে যেকোনো দলীয় প্রধানরা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের প্রয়োজনে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, দেশের স্বার্থে অবসরে চলে যাবার পরও যেকোনো উপায়ে নিজেদের কাছে ধরে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এর মধ্যে আমি মাত্র একটি নজির তুলে ধরছি- যেমন বর্তমান এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। যিনি এলজিইডি’র সাবেক প্রতিষ্ঠাতা প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি জাতিসংঘের উচ্চ পদে আসীন ছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিদেশের চাকরি ছেড়ে দেশে এসে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এই মন্ত্রণালয়ের অধীন রুরাল ওয়ার্কাস প্রোগ্রামের প্রথম প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মোশাররফ। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ফরিদপুর থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। শুরু থেকেই মন্ত্রিসভায় স্থান পান তিনি।

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একজন খ্যাতনামা বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, লেখক এবং ভাষাসৈনিক। এছাড়াও তিনি ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব হিসেবে ছিলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। অর্থনৈতিক পরামর্শক হিসেবে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৎকালীন পাকিস্তান দূতাবাসে যোগদান করেছিলেন। চাকরিরত অবস্থায় পাকিস্তান কর্মপরিকল্পনা কমিশনের প্রধান ও উপ-সচিব ছিলেন। ওই সময় তিনি পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্য প্রতিবেদন আকারে তুলে ধরেন ও পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেসে পেশ করেন। পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে পরিকল্পনা কমিশনের সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন। এছাড়াও, ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বহিঃসম্পদ বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ এস এম শাহজাহান, সাবেক আইজিপি যিনি ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জনাব আজিজুল হক, সাবেক আইজিপি যিনি ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জনাব আনোয়ারুল ইকবাল সাবেক আইজিপি, যিনি ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া হাবিবুর রহমান নামে একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা (এসপি) যিনি ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে শেরপুর জেলার একটি নির্বাচনী এলাকা থেকে দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

সফল কূটনৈতিক, রাজনৈতিক আমলাদের অন্যতম আমাদের সাবেক স্পিকার জনাব হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী । ১৯৫৩ সালে তিনি পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। যিনি বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা কূটনীতিবিদ ছিলেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যিনি ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছিলেন।

জনাব শাহ এ এম এস কিবরিয়া, যিনি আমলা অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিবিদ এবং রাজনীতিবিদ ছিলেন। ১৯৫৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের বৈদেশিক বিভাগে যোগদান করে জনাব কিবরিয়া পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক বিষয়ক বিভাগের মহাপরিচালক হয়েছিলেন। ১৯৮১-১৯৯২ সালের মধ্যেকার সময়ে তিনি জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কমিশন (এসকাপ)-এর প্রধান নির্বাহী ছিলেন। এছাড়াও, অর্থমন্ত্রী হিসেবে কিবরিয়া ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। যিনি ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

একজন মহামান্য প্রেসিডেন্ট ডাক্তার হতে পারেন যদি তিনি ডাক্তারি পড়ে আসেন। একজন মহামান্য প্রেসিডেন্ট ফিজিক্স পড়াতে পারেন যদি তিনি ফিজিক্স পড়ে আসেন, তেমনি একজন ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার/ আমলা সক্রিয় রাজনীতি করতে পারেন কারণ তিনি ছাত্র রাজনীতি করে এসেছেন এবং কর্ম ক্ষেত্রে তিনি রাজনীতির সাথে সাথে কূটনীতিতে পারদর্শী হয়েছেন, সক্রিয় রাজনীতিতে তিনি যোগ্য ব্যক্তিত্ব নিঃসন্দেহে!

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বক্তব্যের প্রতি সম্পূর্ণ সম্মান দেখিয়ে আমি একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে খুব জোর দিয়ে বলতে পারি, কর্মজীবনে সক্রিয় রাজনীতি করা ছাড়া একজন সরকারি কর্মকর্তার ৩৪/৩৫ বছর কর্মজীবনে সম্পূর্ণ সফলতা অসম্ভব! ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আমলারা ছাত্রজীবনে যত রাজনীতি করুন না কেন কর্মজীবনে রাজনীতি ছাড়া শুধু মেধা এবং রাষ্ট্রের শান্তি রক্ষায় নিরপেক্ষ কর্মদক্ষতা সম্পূর্ণ মূল্যহীন বা গণ্য করা হয় না।

ছাত্রজীবনে এবং কর্মজীবনে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দক্ষতা ও বিশ্বস্ততা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হলেই যোগ্যতা প্রমাণিত হয়। যেকোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সুস্পষ্ট সম্পৃক্ত কর্মকর্তা যিনি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আমলারা যেই হন না কেন যেকোনো দলীয় প্রধানের সুনজরে আসেন এবং তাদের কর্মজীবন শেষ হলেও এসব দক্ষ কর্মকর্তাকে নিজেদের কাছে ধরে রাখেন এবং সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশে উৎসাহিত করেন! এসব মেধাবী কর্মকর্তা রাজনীতিতে উড়ে এসে জুড়ে বসেন না। এঁরা রাজনীতি এবং কূটনীতিতে সুদক্ষ ব্যক্তিত্ব নিঃসন্দেহে।

আদর্শগতভাবে আমার আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের দাবিতে এবং ব্যক্তিগতভাবে আইন পেশায় যুক্ত আছি সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে, কোনো সরকারি কর্মকর্তাদের যোগ্যতাকে খাটো করে দেখা বা তাদের প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্য যথার্থ বা যুক্তিসঙ্গত নয়।

সরকারি কর্মকর্তারাও দেশের সম্মানিত ভোটার। শুধু তিনি ভোটার নন তার স্ত্রী, সন্তান সন্ততি, পিতামাতা, ভাইবোনদের ভোটের বিষয়ে তার মতামতকেই প্রাধান্য দেন। ছাত্রজীবন থেকে এসব কর্মকর্তা তার আপনজন বা নিজ এলাকাতে মেধাবী হিসেবে আদরনীয়ভাবে স্বীকৃত সুতরাং তারা তাদের গ্রামের/এলাকার বা আশেপাশের নিরপেক্ষ ভোটারদের ওপরও ভোট প্রদান বিষয়ে তার মতামতকে প্রভাবিত করতে পারেন। কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত হাজার বা লাখ কর্মকর্তাদের মেধা, যোগ্যতাকে হেয় করে কারো দ্বারাই অপমানজনক মন্তব্য সুবিবেচনার পরিচায়ক হবে বলে মনে হয় না।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে যেকোনো দলের একমাত্র উদ্দেশ্য ভোটারদের খুশি করা। সারাদেশব্যাপী বিরাজমান সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে খ্যাত বা অখ্যাত ভোটারের একটি বিশাল অংশকে উদ্দেশ্য করে উপেক্ষা বা অপমানজনক মন্তব্য করা মানে ভোটারদের হেয় করে দেখা। এসব ভোটারদের ভোটার হিসেবে প্রয়োজনে ছড়িয়ে কেনা যায় না। তারা সময়মত স্ববিবেচনাতে সবপরিবারে স্বনির্ধারিত ব্যক্তিকে ভোটগুলো দিয়ে আসেন। কোনো সন্দেহ নেই তারা বর্তমান বা সাবেক যেকোনো সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যক্তিত্ব কিন্তু নিজ ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন, বরং ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে তারা তাদের আত্মীয়-পরিজন, নির্ভরশীল কাছের মানুষ, এলাকার মানুষদের নিঃশব্দ নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় আর্মি, পুলিশ বা আন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর পাশাপাশি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং আমলারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া আমাদের গর্বিত ছাত্রসমাজ এবং যুবসমাজকে মুক্তিযুদ্ধে একত্রিত করে সুপরিচালিত করেন, উৎসাহিত, উদ্দীপ্ত করেন।

লেখক: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী; ডিরেক্টর প্রশাসন, রোটারি ক্লাব আবাহনীকুঞ্জ, ঢাকা; সাবেক প্রেসিডেন্ট, রোটারি ক্লাব ঢাকা পূর্বাশা

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful