Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ :: ১২ বৈশাখ ১৪২৬ :: সময়- ৯ : ৪৭ পুর্বাহ্ন
Home / উপজেলা নির্বাচন / রংপুরে ৬ টি আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী!

রংপুরে ৬ টি আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী!

ডেস্ক: দিনের রংপুর এখন অনেক দূরের। আজকের রংপুর যেন এক নতুন রংপুর। এক যুগের বেশি সময় আগে যারা রংপুর গিয়েছিলেন আজ তারা গেলে পুরনো অধ্যায়কে খুঁজতে হবে। মঙ্গা (তীব্র অভাব) নামের সেই দিনগুলো এখন অতীত। ২০০৮ সালের নবম সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশের সুষম সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে বৃহত্তর রংপুরের মঙ্গা দূরীকরণে বড় পরিকল্পনা নেয়া হয়। কৃষি সেক্টরে বিষের ফলন তামাক চাষ দূর করে পলি ও দোঁয়াশ মাটির জমিকে বহুমুখী ফসলের জমিতে পরিণত করা হয়। মাইগ্রেটেড কামলা কিষানদের পরভূমে যাওয়া অনেক কমে গিয়ে নিজের এলাকাতেই কর্মসংস্থান করতে থাকে। এর পাশাপাশি প্রতিটি ক্ষেত্রের উন্নয়নে এগিয়ে যায় রংপুর।

একাদশ সাধারণ নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ত্রিমুখী- আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (জাপা) ও বিএনপির মধ্যে। কোন আসনে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন জাপা প্রার্থী। সেখানে আওয়ামী লীগ নেই। কোন কোন আসনে মহাজোটের আওয়ামী লীগ ও জাপা দুই-ই আছে। নৌকা লাঙ্গল এক হয়নি। কোন আসনে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী দিয়েছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাড়ি রংপুর নগরীতে হওয়ায় রংপুরের ভাষায় ‘হামার ছাওয়ালের’ আসনটি (রংপুর-৩ সদর উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন) পঞ্চম সাধারণ নির্বাচন থেকে তারই রয়ে গেছে। একাদশ সাধারণ নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী। সেনপাড়া এলাকার একজন বয়স্ক ভোটার বললেন ‘হামার ছাওয়ালক দেখা পাওছি না বাহে।’ নির্বাচনী প্রচারে এলাকার লোকজন তাকে এখনও দেখেনি। জাপার একজন কর্মী বললেন তিনি শুনেছেন এরশাদ সাহেব চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গেছেন। ফিরেছেন কি না জানেন না। রংপুর মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসিরের কাছে শুনেছেন নির্বাচনী প্রচারের জন্য রুহুল আমিন হাওলাদারের ওপর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। বুধবার পর্যন্ত তিনি যাননি। যে কারণে নির্বাচনী প্রচারে তেমন গতি আসেনি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এলাকার সাধারণ মানুষের যে কথা তার সারমর্ম হলো- এই আসনটি এরশাদের দুর্গ। দুর্গে হয়তো শ্যাওলা জমেছে। অনেক দিন সাফসুতেরা হয়নি। তার অর্থ এই নয় দুর্গে আগাছা জন্মেছে বা ফাটল ধরেছে। এরশাদ না আসলেও লাঙ্গল তো আছে। শেখ হাসিনা যখন মহাজোটের জাপার এরশাদকে মনোনয়ন দিয়েছেন তখন শেখ হাসিনার প্রতি তো কৃতজ্ঞ থাকতেই হবে।

এই আসনে বিএনপির সরাসরি কোন প্রার্থী নেই। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের প্রার্থী রিটা রহমান ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রিটা রহমান রংপুরের মেয়ে। বিএনপি সরাসরি কোন প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে সুপ্ত ক্ষোভ আছে। তারপরও বিএনপির হাইকমান্ড যখন রিটা রহমানকে ধানের শীষের প্রতীক দিয়েছে তখন অগত্যা তার পক্ষেই প্রচারে নামতে হচ্ছে, এমন বক্তব্য বিএনপির এক নেতার। রংপুর সিটি কর্পোরেশেনের এই আসনে লাঙ্গল ও ধানের শীষের প্রচার এখন পর্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুন্দর। কেথাও কোন হট্টগোল নেই। কেউ কারও পোস্টার ছিঁড়েছে এমন কোন অভিযোগ নেই। লাঙ্গলের পোস্টার ও ধানের শীষের পোস্টারে ছেয়ে গেছে রংপুর-৩ আসনের প্রতিটি এলাকা। এই আসনে মোট প্রার্থী ৮ জন। বাকিরা হলেন প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাব্বির আহম্মেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান পিয়াল, বাসদের আনোয়ার হোসেন বাবলু, জাকের পার্টির আলমগীর হোসেন আলম, খেলাফত মজলিশের তৌহিদুর রহমান ম-ল, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোঃ ছামসুল হক।
রংপুর-১ আসনে (গঙ্গাচড়া ও রংপুর সিটির কিছু অংশ) আওয়ামী লীগের সরাসরি কোন প্রার্থী নেই। এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন জাপার মহাসচিব প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা। আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী হওয়ার সুবাদে উন্নয়নের অংশীদার হয়েছেন তিনি। মসিউর রহমান রাঙ্গা নবম নির্বাচনে জাপার প্রার্থী হয়ে এই আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় এমপি হন। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৫ জন। বাকিরা হলন বিএনপির শাহ্ মোঃ রহমতুল্লাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী সিএম সাদিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোক্তার হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইশা মোহাম্মদ সবুজ। এদের মধ্যে রাঙ্গা ছাড়া বাকি চারজনই নির্বাচনে নতুন মুখ।

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ) আসনে ভোটের লড়াইয়ে আছেন ১০ জন। এদের মধ্যে, আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক এবারও প্রার্থী। এই আসনে জাপার প্রার্থী আসাদুজ্জামান লাঙ্গল প্রতীকে লড়ছেন। এ ছাড়াও এক সময়ের জাপার সাবেক এমপি আনিসুল ইসলাম ম-ল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছেন। বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার একসময় জাপার এমপি ছিলেন। এখানে বিকল্প ধারার প্রার্থী হয়েছে হারুনুর রশীদ। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আশরাফ আলী, বিএনএফের জিল্লুর রহমান, জাকের পার্টির আশরাফুজ্জামান, এনপিপির ওয়াসিম আহমেদ। ভোটারদের মনোভাবে বোঝা গেল এই আসনে নৌকা লাঙ্গল ও ধানের শীষের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।

রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন। আওয়ামী লীগের নবম ও দশম নির্বাচনের নির্বাচিত এমপি টিপু মুনশী এবারও প্রার্থী। জনপ্রিয়তার তিনি হেভি ওয়েটের। তার সঙ্গে লড়ছেন বিএনপি ও জাপার দুই তরুণ প্রার্থী। যথাক্রমে তারা হলেন এমদাদুল হক ভরসা ও মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল। বাকিরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বদিউজ্জামান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাদেক আলী, জাকের পার্টির লায়লা আঞ্জুমান বেগম। বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থী বয়সে তরুণ এবং এই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা শিল্পপতি রহিম উদ্দিন ভরসার ছেলে। বার্ধক্যের কারণে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তার ছেলেকে অনুসারী করেছেন। এলাকাবাসীর কাছে রহিম উদ্দিন ভরসা অতি পরিচিত মুখ। তার ব্যক্তি ইমেজ আছে। এমদাদুল হক ভরসার ভোট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এই ইমেজটি কাজে আসবে। জাতীয় পার্টির মোস্তফা সেলিম বেঙ্গলের আরেক পরিচিতি তিনি আওয়ামী লীগ নেতা শিল্পপতি মহসিন বেঙ্গলের ছেলে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দ্বিমুখী ইমেজ সেলিম বেঙ্গলের জন্য সহায়ক হবে। অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শিল্পপতি টিপু মুন্সী গত দুই টার্মে এমপি থাকায় এলাকায় যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। রাজনীতির স্বচ্ছতা তাকে জনপ্রিয় ও প্রশংসিত করেছে। সব মিলিয়ে এ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ে আছেন তিন প্রার্থীই। বহুমুখী কারণে জনপ্রিয়তায় তিন জনই সমানে সমান।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের এইচ এন আশিকুর রহমান এবাও প্রার্থী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাপার প্রার্থী এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর। এই আসনের মোট ৫ প্রার্থীর মধ্যে অন্যরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শফিউল আলম ভোলা ম-ল, বাসদের মমিনুল ইসলাম, জাকের পার্টির শামীম মিয়া। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আশিকুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী নেই। এবারও এই আসনে নৌকা ও লাঙ্গলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, লোকজনের সরাসরি মন্তব্য এমনটিই।

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ও স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, এনপিপির হুমায়ুন ইজাজ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান বেলাল, সিপিবিরি কামরুজ্জামান, বিএনএফের এজিএম মাসুদ সরকার মনজু। এই আসনটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ^শুরবাড়ির। নবম সাধারন নির্বাচনে এই আসনে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। দশম সাধারণ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে এমপি হন ড. শিরীন। একাদশ নির্বাচনে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা নবীন। এ আসনের সকলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাদের পুত্রবধূ হিসেবে মনে করেন। যে কারণে বরাবরই নৌকার পক্ষেই সমর্থন পান প্রার্থীরা। কৃতজ্ঞ এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তাদের ভালবাসা এবং সমর্থন আগের তুলনায় অনেক বাড়িয়েছে। সাধারণের ভালবাসা ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে বিজয়ী করে তুলবে এমন মন্তব্য নবীন-প্রবীণ সকলেরই।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful