Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৯ :: ৯ চৈত্র ১৪২৫ :: সময়- ৮ : ১৩ পুর্বাহ্ন
Home / নীলফামারী / নীলফামারী শহর এখন খুঁদে চিত্র শিল্পীদের রংতুলিতে নতুন রূপে রঙ্গীন হচ্ছে

নীলফামারী শহর এখন খুঁদে চিত্র শিল্পীদের রংতুলিতে নতুন রূপে রঙ্গীন হচ্ছে

ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়,নীলফামারী ১২ জানুয়ারি॥ খুঁদে চিত্র শিল্পীরা তাদের নিজ জেলা শহরকে নতুনরূপে সাজাতে ফের নেমে পড়েছে। রংতুলির আচড়ে সাজিয়ে চলেছে শহরের বিভিন্ন দেওয়াল। তাদের আঁকা চিত্রকর্মের ফুটে তুলেছে ফুল,ফল ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য। শুক্রবার (১১ জানুয়ারী) সকাল হতে দুপুর পর্যন্ত দেখা যায় নীলফামারী জেলা শহরের প্রধান সড়ক,পিটিআই সড়ক কলেজ ষ্টেশন সড়ক, গাছবাড়ি সড়কের বিভিন্ন দেওয়ালে তারা ছবি অংকন করেছে। নিজের শহর সাজাতে ছোটদের এই দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম প্রভাব ফেলেছে বড়দের মনে। শিশুদের হাতের ছোঁয়ায় সাজানো শহর দেখে আনন্দিত অনেকে। দেওয়ালে দেওয়ালে আঁকা বিভিন্ন ছবি মন কেড়েছে শহরের মানুষসহ পথচারিদের। ছবিতে ছবিতে সুন্দর এ শহর সাজানোর কাজটি যে স¤পন্ন হচ্ছে ক্ষুদে শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় সেটি অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য। তবে সুন্দর এ শহর সাজানোর চেতনা ছড়িয়ে পড়েছে সবার মাঝে।

মজার বিষয় হলো শিশুদের এই ছবি আঁকা দেখে পথচারীরাও থমকে যায়। পথচারীরা থমকে থেকে শিশুদের এই কার্যক্রম দেখে আনন্দ উপভোগ করে তা যেন সঙ্গে নিয়ে যায়।
ভিশন- ২০২১ নামে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে গত বছরে(২০১৮) মার্চ মাস হতে শহর রাঙ্গানোর এ কাজটি শুরু হয়। সে সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ বিখ্যাত মানুষদের প্রতিকৃতি, জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রিয় জম্মভূমি বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা হয়েছিল।সে সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে ১৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল নীলফামারী শহরে এসে ক্ষুদে শিল্পীদের ছবি আঁকার দিকনির্দেশনা দেন। সেই থেকে আজও থামেনি ক্ষুদে ওই শিল্পীদের রংতুলি। লেখাপড়ার পাশাপাশি ছুটির দিনে রংতুলির আঁচড়ে তারা রঙ্গিন করে তুলেছে নীলফামারী শহরের বেশীরভাগ দেওয়াল। ৮৮ জন ক্ষুদে চিত্র শিল্পী বিভিন্ন দেওয়ালে আঁকছে ছবি।

শিশুদের দৃষ্টিনন্দন এমন চিত্রাঙ্কন দেখে নীলফামারী শহরের বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বুলবুল বলেন, পথ দিয়ে হাঁটলে দেওয়ালে দেখা যায় ছবি আর ছবি। তাতে শোভা পেয়েছে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, বিখ্যাত অনেক ব্যাক্তি, জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ প্রাকৃতিক বিভিন্ন দৃশ্যের ছবি। এসব ছবিতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বৃদ্ধি পাবে, দেশ প্রেম জাগরিত হবে। পোস্টার আর দেওয়াল লিখনের পরিবর্তে সুন্দর ছবি দেখে মানুষের মন প্রফুল্ল থাকবে, চেতনার পরিবর্তন ঘটবে।

দেওয়ালে দেওয়ালে ছবি আঁকতে পেরে আননন্দিত ক্ষুদে শিল্পীরা। তাদের মধ্যে অদিতি রায় ঊর্মি, উর্শিতা, আশিকুর রহমান, নির্জনা বৈরাগী, মেধা, ইভা, অথৈ আপনসহ অনেকে বলেন আমাদের কোন ক্লান্তি নেই, নিজের শহর সাজাতে পেরে আনন্দ পাচ্ছি, এমন সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি আমরা কখনো ভাবতে পারিনি।ওই ক্ষুদে শিল্পীরা জানায়, আগে ছবি এঁকেছিল কাগজে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তাদের চিত্রাঙ্কন। রংতুলির আঁচড়ে নিজের শহরকে রঙ্গিন করে তুলতে পারবে এটা তারা ভাবতেই পারেনি কখনো।

কাজটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভিশন-২০২১ এর এক ঝাঁক তরুণ সংগঠক। ওই সংগঠকদের মধ্যে আল-মামুন করিম সুমেল, সহিদুল ইসলাম সেতু, তপন রায় বর্ষণ, সাগর শারিয়ার বলেন শিশুদের সাথে কাজ করে আমরা আনন্দ পাচ্ছি। তাদের কাছে রং ও ছবি আঁকার কাজ শিখতে পারছি। এমন একটি কাজের সাথে যুক্ত হতে পেরে আমরা নিজেকে ধন্য মনে করছি।

সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী ওয়াদুদ রহমান জানান, ওই উদ্যোগের প্রধান পৃষ্টপোষক নীলফামারীর কৃতি সন্তান নীলফামারী সদর আসনের একাধারে চারবারের সংসদ সদস্য সাদা মনের সাবেক সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। তাঁর সহযোগিতায় একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শহরের ৮৮ জন ক্ষুদে শিল্পীকে বাছাই করে গত বছরের মার্চ থেকে জেলায় জাতীয় রবীন্দ্র সম্মেলন ঘিরে চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে শহরের দেওয়াল সাজানোর কাজ শুরু করে এই ক্ষুদে শিল্পীরা। সেটি শেষ হলেও ক্ষুদে এই শিল্পীদের উদ্যম থামেনি। তাদের ছবি আঁকার আগ্রহে সুন্দর শহর সাজাতে অন্যান্য দেওয়াল রাঙ্গানোর কাজ হাতে নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে শহরের ৬০ভাগ দেওয়ালে খুদে শিল্পীদের তুলির আঁছড়ে সৌন্দর্য দৃশ্যমান হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ নতুন করে চালু করা হয়েছে। ওয়াদুদ বলেন লেখাপড়ার পাশাপাশি শুক্রবারসহ অন্যান্য ছুটির দিন সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ছবি আাঁকার কাজটি করছে শিশুরা।

এ ব্যাপারে কথা বলা হলে সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর বলেন,শিশু মনের সৃজনশীলতার এই যে আলো, তা ছড়িয়ে যাবে লাল-সবুজের দেশটা জুড়ে- তারা জাগিয়ে দিয়েছে তেমনই শুভ প্রত্যাশা।তিনি বলেন, নীলফামারী আমাদের ভালোবাসার শহর, আমাদের গর্বের শহর। এটাকে আমরা সুন্দর রাখতে চাই, পরিচ্ছন্ন রাখতে চাই। বাইরের মানুষ যারা আসবেন তারা যেন বলতে পারেন আমরা একটা ভিন্ন ধরণের শহরে গিয়েছিলাম। এই চেষ্টা আমরা অব্যাহত রাখছি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful