Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০ :: ১০ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ০৭ পুর্বাহ্ন
Home / রকমারি / প্রেম-ভালবাসা, নাকি শুধুমাত্র শারীরিক আকর্ষণ!

প্রেম-ভালবাসা, নাকি শুধুমাত্র শারীরিক আকর্ষণ!

Romantikজেসমিন খান : জুলির তিন নম্বর বয় ফ্রেন্ডটিও আজ ওকে ছেড়ে চলে গেলো। অবশ্য ও চলে গেলো বলা ঠিক হবে না। বলা যায় জুলিই ওকে তাড়িয়ে দিয়েছে। সকালেই দেখেছি ওর বয়ফ্রেন্ড অড্রিয়ান এর কাপড় চোপড় ও জিনিস পত্র সব কিছু ও ঘরের বাইরে ফেলে দিয়েছে। অড্রিয়ান তখন কাজে সারাদিন ওগুলো পড়ে রইল রাস্তার পাশে। ভাগ্যিস আজকে বৃষ্টি হয়নি। আমার খুব চিন্তা হচ্ছিল ওগুলোর জন্য। অড্রিয়ানের জন্য। বেচারা হঠাৎ বিকেলে ফিরে এসব নিয়ে যাবে কোথায়? সে চিন্তা সংক্রমিত করলাম ঘরের মানুষটিকেও। সে যারপরনাই বিরক্ত। এত বছর ধরে আমার সকলের জন্য এই চিন্তার বিষয়টি নিয়ে সে মহা যন্ত্রণায় থাকে। প্রবল বিরক্তি তাঁর সুরে। বললেন- ওদের যাওয়ার জায়গার অভাব আছে নাকি? আরেকটা গার্লফেন্ড খুঁজে নেবে আধ ঘন্টায়। তারপর হানি হানি করে ঝুলে যাবে। তোমার ঐ জুলিও হয়ত ২ দিনও অপেক্ষা করবে না। ওরও একটা জুটে যাবে।
জুলির জন্য আমার একটা প্রবল মমতা আছে। মেয়েটিকে আমি সত্যই খুব পছন্দ করি। ওর জীবনযাত্রা আমাদের সাথে মেলে না। এমন বোহেমিয়ান জীবন যাপন পদ্ধতি আমাদের প্রচণ্ড অপছন্দ হলেও মানুষ হিসেবে জুলিয়ান সত্যিই খুব ভাল। ওর গভীর একটা হৃদয় আছে। হৃদয় আছে বলেই ভালবাসার বড় কাঙাল মেয়েটা। তাই তো মেলে না সবার সাথে। আজ ও খুব মন খারাপ করে থাকবে। সত্যি তাই। ফোন এসে গেলো। জাসমিন- কি করছ? প্লিজ একটু সময় দেবে। চলো একটু ড্রাইভে যাই। প্লিজ। আমি ওর গলার স্বরে না করতে পারলাম না। বললাম যাবো এক শর্তে। লম্বা ড্রাইভে যাবো না। তুমি অনেক স্পিডে গাড়ি চালাবে। তার চেয়ে চলো শান্তা মনিকার দিকে চলে যাই। সমুদ্রের ধারে বসে দু’জনে কফি খেয়ে গল্প করবো। আজ ওর কিছুতে না নেই। সব শর্তে রাজী। একাকিত্ব আজ ওকে গ্রাস করেছে। ও মুক্তি চায় তা থেকে। শান্তা মনিকার পিয়ারস এ কাছেই একটা পার্কিং গাড়ি পার্ক করে আমরা হেঁটে চলে গেলাম ব্রিজ বেয়ে অনেকটা ভেতরে। পথের পাশে দোকান-পাট মেলার মত সব আলোক সজ্জা, সার্কাস এর এরিয়া সব ছেড়ে চলে এলাম অনেকটা দূরে। সামনে প্যাসিফিক সমুদ্র। সমুদ্র এখানে খুব ঠাণ্ডা। বরফগলা পানি। সুন্দর একটা বিকেল। আনমনা জুলিকে বললাম- কেনো তাড়ালে ওকে? এখন এত মন খারাপ করছ। আবার ডাকবে? জুলির বিষন্ন চোখে জল। বললো- তুমি তো জানো ওর বৌ আছে। এখনো ডিভোর্স হয়নি। ও হয়ত ডিভোর্স করবে না শেষ পর্যন্ত। বৌ এর জন্যও মায়া, আবার একে তাকেও চাই। তাই আজ তাড়িয়ে দিয়েছি। ওর সংসারে একটা বাচ্চা আছে। পারলে থাকুক সংসারে। বললাম জুলি- তুমি কি অড্রিয়ানকে সত্যিই ভাল বেসেছিলে? নাকি শুধু শরীরের জন্য চেয়েছিলে? ভেবে দেখেছো? আমাদের ভাষায় একটা গান আছে-
“যেনো কিছু মনে করো না, কেউ যদি কিছু বলে-
কত কিছু সয়ে যেতে হয়- ভালবাসা হলে ॥”
ভালবাসা তো অনেক বড় ব্যাপার জুলি। তোমারা আমেরিকানরা এত অস্থির কেনো? কেনো অড্রিয়ানকে একটু সময় দিলে না? একটু বুঝলে না ওকে? ও নিজেও তো ওর বৌ ফেলে, সন্তান ফেলে তোমার কাছেই এসেছিলো। হয়ত তোমার কাছে শান্তি চেয়েছিলো। কেনো ফেরালে এমন করে তাকে? কেনো জুলি?
খুব মন খারাপ নিয়ে জুলি চুপ করে রইল। আমি জানি ও এখন প্রচণ্ড অনুতপ্ত। অথচ কিছুতেই নত হবে না। এত ইগো প্রবলেম ওদের। যত আমেরিকান বন্ধু এ পর্যন্ত দেখেছি কিছুতেই নিজে নত হবে না। অথচ পরে আফসোস করবে সারাক্ষণ। এরা এত পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়। তবু কোনো ধৈর্য নেই। কেনো এত অস্থির সব কিছুতেই।
বললাম- জুলি, মন খারাপ না করে নিজেকে প্রশ্ন করো, তুমি কি চাও। যদি সত্যই অড্রিয়ানকে চেয়ে থাক, তাহলে ওকে ফিরিয়ে নাও জীবনে। ভুল বুঝে অভিমানে জীবন নষ্ট করো না। ভালবাসার মানুষের কাছে হার জিত নেই। অড্রিয়ানের বৌ আছে। অবশ্য স্থির করতে দাও ও কি করবে। ভালবাসায় কত কিছু ছাড়তে হয়। সবাই তো পারে না। বিশেষ করে সেলিব্রিটিরা। ওরা সম্মানের জন্য, সমাজের জন্য ভালবাসাকে প্রকাশ করতে পারে না। অথচ চুরি করে নেওয়ার লোভটুকু ষোলআনা, যেই প্রকাশ হয়ে যায়, সব দায়টুকু মেয়েটির ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজে হয়ে যায় দায়মুক্ত। অড্রিয়ান তো সেলিব্রিটি নয় জুলি। ও তো সব ছেড়েই তোমার কাছে এসেছিলো। ওকে ভুল বুঝে কষ্ট দিচ্ছ কেনো? জুলি জলভরা চোখে আমায় বললো, আমি যদি খুব বড়লোকের মেয়ে হতাম, যদি এত সাধারণ না হতাম, আমি হয়ত জীবনটা অন্যভাবে কাটাতে পারতাম। আমার প্রেম ভালবাসা কেউ অস্বীকার করতে পারতো না। আমি খুব অবাক। বললাম- এ কি বললে তুমি? একজন আমেরিকান হয়েও। তোমাদের অভিধানে এ কথাগুলো আছে কি?
এ দেশের সর্বশক্তিমান যে মানুষ, সেই মানুষের প্রেমেও তো বঞ্চনা ছিলো। তিনিও বঞ্চিত করেছিলেন তাঁর প্রেমিকাকে। তিনি দাঁড়াতে পারেননি তাঁর প্রেমিকার পাশে। জুলির প্রশ্নভরা চোখের উত্তরে বললাম- তুমি তো জানো তার নাম। তোমাদের জনপ্রিয় সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। তাঁর প্রেমিকা মনিকা লিউনস্কি কিন্তু খুব সাধারণ ঘর থেকে আসেন নি। জানো নিশ্চয়ই। তোমাদের এ শহরের বেশির ভাগ ছেলে মেয়েদের কাছেই যা স্বপ্নের সেই অভিজাত বেভারলী হিলস এর দশ লক্ষাধিক ডলার মূল্যের এক বাড়িতে বড় হয়েছে সে। মনিকার সফল আঙ্কোলিজস্ট বাবা বার্নাড লিউনস্কি ছিলেন অনেক বড়লোক। দামি গাড়ি, বাড়ি কোন কিছুরই অভাব ছিলো না তার। তবুও তিনি মনিকার মাকে সন্তুষ্ট করতে পারেননি। মনিকার বয়স যখন ১২ বৎসর তখন তার বাবা মায়ের সম্পর্ক ভেঙে যায়। মনিকা সে বয়স থেকেই আমেরিকার আর দশটি মেয়ের মতো শরীর সচেতন হয়ে ওঠে। শান্তা মনিকার কলেজে পড়বার সময় সে বেবী সিটিং করে ঘণ্টায় আয় করত তিন ডলার। তারপর এক পারিবারিক বন্ধুর সুপারিশে হোয়াইট হাউজে কাজ পায় সে। তার কাজ ছিলো ডাকে আসা চিঠিপত্রের খাম খোলা আর বাছাই করা। তাকে দেওয়া হয়েছিলো একটা নীল রঙের “হার্ড পাস।” এটা থাকার জন্য হোয়াইট হাউজের করিডোরে সে স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করতো। সম্ভবত শরীর দেখিয়ে সে সবকিছু জয় করতে চেয়েছিলো। একবার খুব লো-কাট শরীর দেখানো পোশাক পরবার জন্য তাকে অফিস থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। তারপরও তো সে জয় করতে সক্ষম হয়েছিলো পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষটিকে। মনিকা দাবি করেছিলো, শুধু শারীরিক সম্পর্কের কারণে নয়, প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তাকে ভালোবেসেছিলেন। প্রেসিডেন্টের সাথে তার শারীরিক সম্পর্কের অনেক খোলামেলা বিবরণ মনিকা তার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বর্ণনা করেছিলো।

loveজুলি আমরা জানি না এটা প্রেম ছিলো, নাকি শুধুমাত্র শারীরিক আকর্ষণ ছিলো। তবে যাই হোক না কেনো- এটাকে একজন নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। সে জন মনিকা। অন্যজন এর দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে প্রথম থেকেই মিথ্যে বলেছেন। অবশ্য সেটা না করে তার উপায় ছিলো না। তোমরা আমেরিকানরা নিজেরা যত অবৈধ সম্পর্ক ইচ্ছে মত গড়ে তুলতে পারো অথচ দেশের প্রতিনিধিদের দেবতার আসনে দেখতে চাও। কিন্তু এত কিছুর মধ্যে তৃতীয় একজনের ভালবাসা আমায় অসাধারণভাবে মুগ্ধ করেছে সে হলো হিলারী ক্লিনটন। তিনি তার অসাধারণ ভালবাসায় স্বামীকে ক্ষমা করে সব দুর্ভোগের হাত থেকে তাকে রক্ষা করেছেন আমাদের দেশের মেয়েদের মতো। স্বামীর পরকীয়া সমর্থন করতে পারে না কোন নারী। সে যে দেশেরই হোক না কেনো। প্রিন্সেস ডায়নাও স্বামীর পরকীয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেও পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েছিলেন। মাঝে মাঝে আমার মনে হয় হিলারী ক্লিনটন কি শকুন্তলা ও সীতার গল্প জানতেন? ভারতীয় এই মিথ তাকে কি আবেগপ্রণোদিত করেছিলো? তাই কি তিনি পরম সহিষ্ণুতায় ক্ষমা করেছেন স্বামীর সব অপরাধ? কে জানে।
হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদের জন্য আমরা, বাংলাদেশের অনেক পাঠক পাঠিকা চোখের জল ফেলেছি যখন জেনেছি অত্যন্ত প্রতিভাবান এই সাহিত্যিক মানুষটি গুলতেকিনকে ছেড়ে নতুন করে জীবনে গ্রহণ করেছেন আরেকজন নারীকে। আমাদের সংস্কারবদ্ধ মন এতে সায় দেয়নি সঙ্গত কারণেই। হুমায়ূন আহমেদের সুখের সংসার ভেঙে গেছে। আমরা পাঠক সমাজ তাতে আহত হয়েছি। তার সন্তানদের জন্য ব্যথিত হয়েছি। বাংলাদেশে এমন অনেক হয়। কিন্তু সেলিব্রেটিদের তো অনেক সমস্যা। তাদের জীবন আর ব্যক্তিগত থাকে না। আমাদের মন তাঁর নতুন প্রেমকে খুব সহজে স্বাগত জানাতে পারে নি। কিন্তু আমরা জানি- প্রতিভাবান ও বুদ্ধিজীবী মানুষের জীবন এমনই। এক প্রেমে সীমাবদ্ধ থাকে না তাদের জীবন। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেন এর জীবনে দুঃখের দিনের সাথী ছিলেন স্ত্রী নবনীতা দেব সেন। প্রখ্যাত এই লেখিকা অমর্ত্য সেনের প্রেমে বিভোর হয়ে তাকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সুখের দিন হাতে এলেই অমর্ত্য সেন বিয়ে করলেন ইভাকে। ইভার পরে এম্মা রথচাইল্ড। নবনীতা রয়ে গেলেন একা।
মাইকেল মধুসূদন দত্তও নিজে পছন্দ করে বিয়ে করেছিলেন মাদ্রাজের শেতাঙ্গীনী সুন্দরী রেবেকা ম্যাকটাভিসকে। কিন্তু কিছুদিন পরে রেবেকা ও তার দুই সন্তানকে ত্যাগ করে কোলকাতায় ফিরে বিয়ে করলেন ইংরেজ রমণী হেনরীয়েটাকে।

ইংরেজ রোমান্টিক কবি বায়রন প্রেমে পড়লেন উইলিয়ম ল্যাম্বের স্ত্রী ক্যারোলিন ল্যাম্বের। উইলিয়াম পরে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এডভেঞ্চার বিলাসী বায়রন এক নারীতে আবদ্ধ থাকবার মানুষ নন। প্রেম করলেন নিজের সৎ বোনের সাথে। কবি বন্ধু শেলীর শ্যালিকার সাথেও ছিলো তাঁর গভীর প্রেম।

অসাধারণ কবি ও বুদ্ধিজীবী এলিয়েটের স্ত্রীও পাগল হয়েছেন এভাবেই। পৃথিবীখ্যাত দার্শনিক ও লেখক বাট্রান্ড রাসেলের প্রেমে পড়লেন এলিয়েটের স্ত্রী ভিভিয়েন। বিশ্ববিখ্যাত এই দার্শনিক বেশী দিন সে প্রেমের মূল্য দিলেন না। স্বামী এলিয়েটও ছেড়ে গেলেন তাকে। প্রেম ও প্রেমহীনতার অবসানে মানসিক রোগে ক্লিষ্ট ভিভিয়ন প্রায় পাগল হয়ে গেলেন। লন্ডনের সাহিত্য মহলে পরিচিত হলেন- চিলেকোঠার উম্মাদিনি হিসেবে।
এমনতর উদাহরণের শেষ নেই। প্রেম তো এমনই। আমরা শুধু শুধু পরকীয়া প্রেমের দোষ দেই। কিন্তু প্রেম তো নিজে কোন দোষ করে না। জীবনের সব সম্পর্কগুলো কখন কীভাবে তার স্বর্গীয় আলো হারিয়ে ফেলে আমাদের আগোচরে তা আমরা নিজেই বুঝতে পারি না। তখন দোষ হয় প্রেমের।
শুনছিলাম শিবাজী চট্টোপাধ্যায়ের সেই জনপ্রিয় গান,
তুমি অপরের আমি জানতাম,
ভালবাসলাম তবু তোমাকেই ॥

গানটি শুনতে শুনতে মনে হলো অনেক সময় অমোঘ সত্য জেনেও মানুষ ফিরতে পারে না। ফেরাতে পারে না নিজেকে। প্রেমের তীব্র আকর্ষণে ভেসে যায় ন্যায় অন্যায় বোধ। অথবা অন্যভাবে বলা যায় নিষিদ্ধ বলেই হয়ত পরকীয়ার আকর্ষণ এত তীব্র। মানুষ পারে না নিজেকে প্রতিহত করতে। পরকীয়া নিয়ে তো আলোচনার শেষ নেই।

পরকীয়ার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে অন্য সম্বন্ধিয়। পরকীয়ার সব প্রেমই কিন্তু নিন্দিত নয়। অনেক মহান প্রেমও তো আছে। যা অন্যের ক্ষতি না করে প্রেমকে আরও মহান করেছে। তেমনই এক প্রেমিক ভারতের প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু। জহরলাল নেহেরু ও লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনের স্ত্রী এডুইনার প্রেম তো অবিস্মরণীয়। বিপত্নীক ও নিঃসঙ্গ জহরলাল নেহেরু প্রচন্ড ভালো বেসেছিলেন এডুইনাকে। এডুইনার অকাল মৃত্যু ভারতের প্রচন্ড এই ক্ষমতাবান মানুষটিকে একেবারেই নিঃস্ব করে দিয়েছিলো। এই প্রেমে কাম ছিলো না। স্বার্থ ছিলো না। শুধু হৃদয় ছিলো। তাই হয়ত এডুইনার স্বামী লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন পরোক্ষভাবে এ প্রেমকে অনুমোদন দিয়েছিলেন অনেকটা।

পরকীয়া প্রেমের দায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ওপরেও এসে যায়। বৌদি কাদম্বিনী দেবীকে তিনি উৎসর্গ করেছিলেন জীবনের প্রথম প্রেম। বিলেত থেকে ফিরে দেবর রবীন্দ্রনাথ প্রতীক্ষায় রত বৌদিকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন- গানে, কাব্যে, প্রণয় নিবেদনে। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে বললেন- শ্রাবণের ধারার মত, পড়ণ্ডক ঝরে, পড়ণ্ডক ঝরে তোমারি সুরটি আমার মুখের পরে, বুকের পরে॥
এ প্রেমের কথা জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে রবীন্দ্রনাথকে বিয়ে দেওয়া হয়। রবীন্দ্রনাথের বিয়ের চার মাস পর আফিম খেয়ে আত্মহত্যা করলেন কাদম্বিনী দেবী। স্কান্ডাল এড়াতে মর্গে পাঠানো হয়নি কাদম্বিনীর দেহ। জোড়াসাকোর ঠাকুর বাড়িতেই করোনারি কোর্ট বসানো হয়েছিলো। সে রিপোর্ট আর কখনো আলোর মুখ দেখেনি।

লেবাননের চিরহরিৎ বনভূমির কাছে বিসাররীতে জন্ম গ্রহণকারী অতিন্দ্রবাদী বিখ্যাত কবি খলিল জীবরান, যিনি পৃথিবীব্যাপী তাঁর “দ্য প্রফেট” বইটির জন্য বিখ্যাত, তিনিও অবিস্মরণীয় এক প্রেমের জন্য বিখ্যাত ও বরণীয় হয়ে আছেন পাঠকের হৃদয়ে।
খলিল জীবরানের প্রেমিকা মে জিয়াদহ গত তিন দশক ধরে আরবী সাহিত্যের মহিলা লেখক হিসাবে খ্যাত। তাঁর রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন গদ্য রচনা, প্রবন্ধ, আলোচনা অনুবাদ, আত্মজৈবনিক রচনা, কবিতা ও চিঠিপত্র।
পৃথিবীর দুই জায়গায় বসবাস করেও এই দুই লেবানীয়কে একত্রিত করেছিলো যে প্রেম বন্ধন তা খুবই বিরলতম ঘটনা। এ সম্পর্ক শুরু হয়েছিলো চিঠিপত্র লেখালেখির মাধ্যমে। তাদের মধ্যে আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর সাহিত্য রুচির বিনিময় হতো এবং এক গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক ছিলো।
জীবিত অবস্থায় তারা কেউ কাউকেই দেখেন নি। কিন্তু হৃদয়ের এই গভীর প্রেম তাদের দুটি আত্মাকে একত্রিত করেছিলো।
খলিল জীবরানের মৃত্যুর পর মে জিয়াদহ মানসিকভাবে এতটাই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন যে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সে সময় তার মস্তিষ্ক বিকৃতির লক্ষণও দেখা দেয়। এইভাবে বন্ধুহীন ও নিঃসঙ্গ থাকা অবস্থায় কায়রোতে তার মৃত্যু হয়।
এমনইতর প্রেমের দৃষ্টান্ত, অনেক আছে পৃথিবীতে। সত্যিকারের প্রেম কখনো, অন্য সম্পর্কগুলোকে আহত করে বা অস্বীকার করে নিজের স্বার্থকে বড় করে তোলে না।
তারপরও পরকীয়ায় নিন্দা আছে। অধর্ম আছে। পরকীয়ার সেরা উপখ্যান সম্ভবত বৃন্দাবনে রাধা কৃষ্ণ লীলা বাংলাদেশেও রথযাত্রা উৎসবের মাধ্যমে এ পরকীয়াকে পূজার মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যুগে যুগে কবিকূল কল্পনায় সেই লীলা ভারতবর্ষের হিন্দু জনগোষ্ঠির সম্মেলক স্মৃতি ও কল্পনায় এসে দাঁড়িয়েছে। তাতে অবশ্য পরকীয়ার দোষ কাটেনি। কারণ পরকীয়া প্রেম পরিমিতির বাইরে গেলে দুঃখ ছাড়া আর কিছুই দেয় না। এমন কি বাৎসায়ন মুনিও বলেছেন যুগে যুগে পরকীয়া প্রেম থাকবেই। তবে তা থেকে মানুষ ভালো ও মন্দ দুটোকেই বেছে নেবে। দুর্বল চিত্তের মানুষই শুধু পরলোকের ভয় না করে অধর্মের পথে যাবে। যারা সবল, তারা রইবে ধর্মের পথে।
অনেক কথাই মনে হলো। অনেক কথাই হয়ত বলা হলো ন্যায় অন্যায় এর জটিল তত্ত্ব কথা আমরা বুঝি না। কামনা করি প্রেম তার জাদুকরী উজ্বলতায় পথ করে নেবে সুন্দরের। মানব হৃদয়ে যে প্রেম সে প্রেম উৎসর্গ হবে পরম স্রষ্টার কাছে। যুগে যুগে সুরভিত হবে তা হৃদয়ে হৃদয়ে। পরম নিবেদনে নিবেদিত হবে অসীমের সন্ধানে।

(পুনশ্চ : স্বর্গীয় হুমায়ূন আহমেদ স্যার এবং তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন এর ভালোবাসার প্রতি আমাদের অবিরাম শ্রদ্ধা।)

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful