Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০ :: ১০ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৪ : ৫৬ পুর্বাহ্ন
Home / আলোচিত / নারী কি আইটেম?

নারী কি আইটেম?

আহমেদ সামাদ

girlসময়ের যন্ত্রণা, অসহায়তা, চালচ্চিত্রের বর্ণনা থাকে উপন্যাসে। সিনেমাও কি তা নয়। আপনি যদি বাংলা উপন্যাসের নিয়মিত পাঠক হোন তবে খেয়াল করবেন, এক যুগ আগে লেখা উপন্যাসে একটি নিয়মিত দৃশ্য থাকতো এমন-নায়ক খেয়াল রাখছেন নায়িকার ওড়না কখন একটু সরে পড়ে অথবা পড়ে যায়। সমকালে লেখা বাংলা উপন্যাসে সে বর্ণনা এখন আর পাওয়া যায় না। কিন্তু কেন? এর বিপরীতে নারীর দেহ সৌন্দর্যের বর্ণনা আর নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্কের ডিটেইলসের উপন্যাসের সংখ্যা বেড়েছে ক্রমশ।

বাংলা সিনেমা গত বছরগুলোতে ক্রমশ দর্শক হারিয়েছে। সমাজের বোদ্ধা মানুষেরা সমালোচনা মুখর হয়েছেন সিনেমার।

তারা বলছেন, সিনেমা ক্রমশ অশ্লিল হয়ে পড়েছে। এর বিপরীতে তারা তৈরি করেছেন থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বারের মত সুশীল সিনেমা। যে সিনেমা স্বামী কারাগারে গেলে নারীকে পরকিয়ায় উদ্ধুদ্ধ করে। অথবা বিয়ে না করেই একসঙ্গে বাস করতে প্রেরণা যুগায়। যদিও সে বিতর্ক আলাদা।

সাহিত্য আর সিনেমার বাইরে গিয়ে আমরা ঘুরে আসি আমাদের সংবাদপত্রের পাতায়। বাংলাদেশের শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলোর ফিচার পাতা নকশার দিকেই নজর দেই। নকশাতে নারীর উপস্থাপনাই বা কেমন?

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সুস্মিতা চক্রবর্তী লিখেছেন, নকশার পাতাগুলো একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে এতে নারীর চেহারা-সুরত কী বিপুল পরিমাণে প্রদর্শিত হয় পুরুষের তুলনায়। এটাও পুঁজিবাদী পুরুষতান্ত্রিক সমাজেরই বৈশিষ্ট্য। নারীকে আইটেম বানিয়ে নানাভাবে (ফ্যাশনে, সুন্দরী প্রতিযোগিতায়, রূপনকশায় বা অসংখ্য পণ্যের বিজ্ঞাপনে) উপস্থাপন করার মধ্যদিয়ে পাঠককে আকর্ষণ করার চেষ্টা।

গল্প-উপন্যাস আর সংবাদপত্রের বাইরে নারী স্বাধীনতার চিত্রই বা কেমন?

একসময় গৃহবন্দী নারী ক্রমশ মুক্ত জীবনের সন্ধান লাভ করে। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের হাত ধরে আসলে যে বিদ্রোহের সূচনা। চাকরি-ব্যবসা বাণিজ্যসহ নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ছেলেদের সমান। তবে কিছু দুঃখজনক চিত্রও পরিলক্ষিত হয়।

বাঙালি মুসলমান নারী, হয়তো সারাজীবনই বাস করেছেন এক শালীন আবহে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে সে আমুল বদলে যায়। তার জামা হতে থাকে ছোট, ওড়না ক্রমশ আবদ্ধ হতে থাকে গলায়। নিজের অজান্তে নিজেকে সে তৈরি করে ফেলে এক আইটেমে।

আপনি যদি বসুন্ধরা সিটিতে যান, সেখানে বাংলাদেশের অনেক তরুণীকে যে ড্রেসে দেখবেন বাংলা সিনেমার নায়িকার ড্রেস ওই তুলনায় তেমন ছোট নয়। সমাজ বদলের ছাপ কি সিনেমাতে পড়বে না।

শাবানা, ববিতার যুগে নিশ্চয়ই বাংলাদেশের তরুণীরা এমন পোশাক পরতেন না। সময়ের চেয়ে নিশ্চয়ই পোশাকের দিক থেকে এগিয়ে ছিলেন তারা।

গ্যেটে ফাউস্টে লিখেছেন, একজন স্বাধীনতা চায়, আরেকজন নিজেকে স্বাধীন মনে করে। বাংলাদেশের অনেক তরুণী পোশাকের স্বাধীনতার নামে নিজের স্বাধীনতাকেই বিসর্জণ দিয়েছেন। পিতা-মাতার চাপে কেউ পরছেন বোরকা, যে বোরকা আবার ক্রমশ টাইট হচ্ছে আর স্রোতে গা ভাঁসিয়ে কেউ হচ্ছেন কথিত আধুনিক। যেন নিজের বলতে তাদের কিছুই নেই। নিজ বিশ্বাস আর সংস্কৃতিকে ভুলে তারা পাল্লা দিয়েছে ছেলেদের সঙ্গে। আসক্ত হয়েছে ইয়াবায়। নারীদের সিগারেট খাওয়াও এখন ফ্যাশন। শুধু পুরুষই নয়, নারীও আজ বহুগামী।

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বাংলাদেশের তরুণপ্রজন্ম আজ বিপদগামী। মানুষ না হয়ে যন্ত্র হওয়ার সাধনা তাদের। তারা ভুলে গেছেন মানুষের মুক্তি আর শান্তি একমাত্র মানুষ হওয়াতেই। যদিও মানুষের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ মানুষ হওয়া।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful