Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৪ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৭ : ৩৫ পুর্বাহ্ন
Home / আলোচিত / ক্ষমা সমাবেশ

ক্ষমা সমাবেশ

Press-Akborডেস্ক: একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী। তিনদিন ধরে মৃত্যুর সাথে লড়েছে বি. বাড়ীয়া সদর হাসপাতালে।  কোন ধরনের চিকিৎসা না পাওয়ায় ১৩ তারিখ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী আকবর আলীকে নিজেদের উদ্যোগে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে সন্ধা ৭ টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ নিয়ে আসেন। তারপর এই স্বেচ্ছাসেবীদের ২হাজার টাকায় সিটি স্ক্যান করা হয়। রাত ৯টায় কর্মরত চিকিৎসক জানান, রোগীকে আইসিইউতে রাখতে হবে। অবস্থা আশংকাজনক, ঢাকা শহরের সকল সরকারী হাসপাতালে সারা রাত ছোটাছুটি করেও এই মুক্তিযোদ্ধার জন্য একটা আইসিইউ বেড জোগাড় করা যায় নি।

১০৩ নং ওয়ার্ডে সাধারণ বেডে সারা রাত ছিলেন আকবর আলী। ১৪ তারিখ বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে আমাদের এই সুবিধাভোগী স্বার্থপর, অকৃজ্ঞ মানুষগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন।

তার চলে যাওয়ার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো আমরা স্বাধীন জাতির যোগ্যতা এখনো অর্জন করতে পারিনি।

আমরা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় পেয়েছি, শুধু মাত্র কতিপয় ব্যক্তির সাধ ইচ্ছা অভিলাষ পূরণ করার জন্য। প্রতিটি জেলায় জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল রয়েছে, যা কিনা শুধু মাত্র একজন কর্মচারী (জেলা প্রশাসক) এর মনের  খুশিমত বিজয়দিবস, স্বাধীনতা দিবস পালন করার জন্য।

অন্য কোন কাজ তাদের আছে বলে কোন ধরণের প্রমাণ সাধারণ মানুষ জানতে পারে না। আসলে কতজন মুক্তিযোদ্ধা এখনো বেঁচে আছেন- তার হিসাব কারো কাছে নেই। তার প্রমাণ বি. বাড়ীয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট আলী আকবরের জন্য ৩ দিন এর মধ্যে কোন ধরনের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি।

মাত্র ৩৬০ টাকার জন্য আকবর আলীর একটা এক্সরে করা সম্ভব হয়নি। ঢাকায় আসার পরও  মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে ইমেইল করে, ফ্যাক্স করে ফোন করে জানানোর পর কোন ধরণের সাড়া মেলেনি।

যার ফলে প্রশ্ন উঠেছে এই মন্ত্রনালয় কার জন্য? জেলায় জেলায় কমান্ড কাউন্সিল কাদের জন্য? যারা দায়িত্বে আছেন তারা কাজ করেন কি নিয়ে?

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা বিনা চিকিৎসায়, না খেয়ে দিনাতিপাত করবে আর মন্ত্রণালয়ে বসে বসে মুক্তিযোদ্ধাদের নাতী পুতী দূতীদের চাকুরীর কোটা বরাদ্ধের ইস্যু নিয়ে দৌঁড়ঝাপ করবেন। নানা বরাদ্দের আবেদন করবেন, একাধিক বাড়ী, প্লট, গাড়ী, ব্যবসা, ইজারা নেয়ার মত এধরনের ভন্ডামী প্রতারণা করা ছাড়া কি কাজ করছেন তারা এখন প্রশ্ন জনমনে।

মরহুম আলী আকবর নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে আমাদের একটা স্বার্থপর জাতি উপহার দিয়ে গেছেন।

বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন, ৪ দিন মৃত্যুর সাথে লড়েছেন, অভিমানেই হয়তো অসুস্থ হওয়ার পর এক গ্লাস পানিও আমাদের কাছ থেকে গ্রহণ করেননি। সে জেনে গেছেন এই ঢাকা শহরের যারা থাকে তারা এই দেশটাকে কুড়ে কুড়ে খাওয়ার উৎসব এ মেতেছে।

দেশটাকে লুটেপুটে শকুনের মত মরা গরু খাওয়ার উৎসবে মেতেছে, এই বেহায়া বেপরোয়া মানুষ নামের জানোয়ারগুলো। এদের কাছ থেকে কোন ধরণের সহযোগিতা না পাওয়াই স্বাভাবিক।
তবে, কজন ফেসবুক ব্যবহারকারী নিজেদের মনের তাড়নায় চেষ্টা করেছিলেন আকরব আলীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে। ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করার পর ১০৩ নং ওয়ার্ডের চিকিৎসক প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছেন। তৎক্ষনিক সিটি স্ক্যান করা, সম্মানজনক একটা বিছানা বরাদ্ধ করা জন্য।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ায় দেশবাসীর হয়ে এই বীরযোদ্ধার কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ১৭ নভেম্বর বিকাল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তন এর সামনে রাজু ভার্স্কয্য এর পাদদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলীর স্বরণে ক্ষমা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ইবনুল সাঈদ রানা‘র সঞ্চালনায় ক্ষমা সভায় বক্তব্য রাখেন সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন, জাবেদ কায়সার, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা হারুন রশিদ, সৈয়দ সাইফুল আলম শোভন, এস এম সৈকত, মাগুর রোবায়েত, নজরুল ইসলাম,  এলিনা আক্তার, তাইয়্যেবা তাবাস্সুম, নাসরিন জেরিন, হাতেম রানা, বাবু, এ্যাডভোকেট সৈয়দা সামছুন্নাহার মুক্তি।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমরা ক্ষমা চাইছি সকল প্রয়াত, জীবিত যোদ্ধাদের কাছে, তারা আমাদের কে একটা স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন জীবন দিয়ে, জীবন বাজী রেখে, তাদের জন্য আমাদের অনেক কিছু করার আছে কিন্তু যথার্থ কিছু করছি না সেই অপারগতার জন্য ক্ষমা চাওয়া। প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য ক্ষমা চাওয়া। কিছু করতে না পারার জন্য ক্ষমা চাওয়া।

ক্ষমা সভায় দাবী করা হয়-
প্রত্যেকটি গ্রাম থেকে এই অবহেলিত বেঁচে থাকা  মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে তালিকা প্রকাশ করা।
প্রতিটি হাসপাতাল ক্লিনিক এ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানজনক চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রজ্ঞাপন জারি করা, যাতে যখন যেখানেই চিকিৎসার প্রয়োজন হবে ওষুধের প্রয়োজন হবে মুক্তিযোদ্ধাকে সহযোগিতা করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

বেঁচে থাকা অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধাদের চলাচলের জন্য যাতায়াত, থাকা, খাওয়া সরকারী ভাবে নিশ্চিত করা।
একজন মুক্তিযোদ্ধাও যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায় সেই ব্যবস্থা করা।

সমাবেশ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের যারা আকবর আলীকে ট্রলিতে করে ওয়ার্ডে নিয়ে এসেছেন, সিটি স্ক্যান করিয়েছেন, বিছানায় শুয়াইয়ে দিতে সহযোগিতা করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি যারা বি. বাড়ীয়া থেকে ঢাকা মেডিকেল, ঢাকা মেডিকেলে সারারাত আকরব আলীর পাশে থেকে সেবা করেছেন, এই হাসপাতাল থেকে ঐ হাসপাতালে ছোটাছুটি করেছেন এবং মৃত্যুর পর লাশ নিয়ে গোসল করানো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জানাজা পড়া তার পর এ্যাম্বুলেন্স এ করে আবার শেষ বিদায় বি বাড়ীয়া নিজ গ্রাম সহিলপুর নিয়ে  কবরে শুইয়ে দেওয়া পর্যন্ত অনেকেই বিনা সংকোচে দায়িত্ব পালন করেছেন সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful