Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ :: ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ :: সময়- ৮ : ০৬ অপরাহ্ন
Home / উত্তরবাংলা স্পেশাল / সফল খামারি হয়ে উঠেছেন রংপুরের সাবরিনা আক্তার হামিদা

সফল খামারি হয়ে উঠেছেন রংপুরের সাবরিনা আক্তার হামিদা

রণজিৎ দাস: মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে আসেন একটি ছাগল। সেই ছাগল থেকে পর্যায়ক্রমে জন্ম নেয় আরও ১৭টি ছাগল। তৈরি হয় ছাগলের ছোট্ট খামার। পরবর্তীতে সেই ছাগলগুলো বিক্রি করে কিনে আনেন একটি গাভী গরু। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রংপুরের সফল খামারি সাবরিনা আক্তার হামিদাকে (২৮)। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে দেশী-বিদেশী মিলে প্রায় ২৩টি গরু।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে রংপুর মহানগরীর ১৫নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘাঘটপাড়া এলাকার রিকসা চালক আবুল বাশারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিজ খামারে গরুর পরিচর্যা করছেন হামিদা। তার সাথে সহযোগিতা করছেন মা বানু বেগম। এ সময় হামিদার সাথে কথা হলে তিনি জানান, অভাব-অনটনের কারণে মাত্র ১৪ বছর বয়সেই বিয়ের পীড়িতে বসতে হয় তাকে। এরপর হামিদার উপর নেমে আসে অমানসিক নির্যাতন। এরই মধ্যে ২ সন্তানের জন্ম দেন তিনি। এরপর স্বামীর সংসারে বেশিদিন ঠাঁই হয়নি হামিদার। ফিরে আসতে হয় পিত্রালয়ে। পরবর্তীতে পীরগাছা উপজেলার পাওটানা এলাকার মোস্তফার সাথে ২য় বিয়ে হয় হামিদার। মোস্তফা বিদেশে চলে যাওয়ার কারণে হামিদা তার পিতার বাড়িতে চলে আসেন। তিনি জানান, জীবনের শুরু থেকেই স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। এজন্য দারিদ্র পিতার কাছ থেকে ৫/১০ টাকা করে নিয়ে মাটির ব্যাংকে জমানো শুরু করেন। সেই জমানো টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে আসেন একটি ছাগল। পর্যায়ক্রমে ছাগলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭টিতে। গরু পালন লাভজনক হওয়ায় হামিদা তার সব ছাগল বিক্রি করে ২০১৬ সালে ১টি গাভী গরু কিনে আনেন। এরপর একটি এনজিও সংস্থা থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আরও ২টি গরু কিনে নেন। রিকসা চালক পিতা আবুল বাশার কন্যা হামিদার গরু পালনে আগ্রহ দেখে সারাদিন রিকসা চালিয়ে যা আয় করেন তার অর্ধেক টাকা দিয়ে গরুর জন্য খাবার কিনে নিয়ে যান। পিতা-মাতা ও হামিদার কঠোর পরিশ্রমের ফসল হিসেবে পরের বছরই জন্ম নেয় ২টি বাছুর। এভাবে বাড়তে থাকে গরুর সংখ্যা। সম্প্রতি ৩টি গরু বিক্রি করে স্বামীর বাড়ি এলাকায় নিজস্ব পুকুরে চাষ শুরু করেছি। বর্তমানে আমার খামারে রয়েছে দেশী-বিদেশী প্রায় ২৩টি গরু। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিনি ৬টি গাভী প্রায় ৩০ লিটার করে দুধ দিচ্ছে। দুধ বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করানোসহ সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। আমার দেখাদেখি এলাকার অনেকেই গরু পালনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি কোন সংস্থার সহযোগিতা ছাড়াই গরুর খামার গড়ে তুলেছি। তাই তিনি বিভিন্ন সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, বিশেষ কোন সাহায্য-সহযোগিতা পেলে আরও খামারটি আরও বড় করা সম্ভব হবে।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকারিয়া আলম জানান, দরিদ্র ঘরের একজন নারী হয়ে ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন হামিদা। কোন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা ছাড়াই গড়ে তুলছেন গরুর খামার। হামিদা আমাদের এলাকার গর্ব। একই এলাকার কৃষক বিটুল মিয়া বলেন, নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই। তার প্রমাণ সে দেখিয়ে দিয়েছেন হামিদা।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful