Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০ :: ৯ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৫ : ৫৪ অপরাহ্ন
Home / আলোচিত / মন্ত্রণালয় নিয়ে টানাটানি

মন্ত্রণালয় নিয়ে টানাটানি

Govt-logoডেস্ক: মন্ত্রিপরিষদসচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা গত সোমবার ‘সর্বদলীয়’ সরকারের আটজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘মঙ্গলবার তিনটি বিষয় ঘটবে। এগুলো হলো- নতুন ও পদত্যাগী মন্ত্রীদের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে; নতুন করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দপ্তর বণ্টন হবে। আর আরেকটি বিষয় ঘটবে যা বলা ঠিক হবে না।’ সচিবের এই বক্তব্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছিল যে, গতকাল মঙ্গলবার হয়তো নতুন চমক থাকবে। কিন্তু গতকাল এসবের কিছুই ঘটেনি। বরং সচিবালয়জুড়ে ছিল বিদায়ের সুর। ‘সর্বদলীয়’ সরকারে ঠাঁই পাচ্ছেন না বলে যাঁরা মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছেন, তাঁরা রীতিমতো আনুষ্ঠানিকভাবেই বিদায় নিয়েছেন। সেখানে অশ্র“পাতের মতো আবেগঘন পরিবেশও সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, বিভিন্ন দলের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় নিয়ে এক ধরনের কাড়াকাড়ি, প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ ছোট ছোট দল থেকে আরো মন্ত্রী অন্তর্ভুক্তির অপেক্ষা এবং মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে বিদায়ের কারণে গতকাল ‘সর্বদলীয়’ সরকারের নবগঠিত মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন হয়নি। নতুন ছয় মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার পর তাঁদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারির কথা ছিল। একই সঙ্গে পদত্যাগী মন্ত্রীদের ব্যাপারেও প্রজ্ঞাপন জারির কথা ছিল। মঙ্গলবার রাতেও এসব প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। এ কারণে এক ধরনের ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে।

শপথ নেওয়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন বা পদত্যাগী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা যায়নি। ফলে নতুন মন্ত্রিসভার আকার ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে কিছুই বলতে পারছে না মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার ইফতিখার হায়দার গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাইনি। রাতে আদেশ জারির বিষয়ও ক্ষীণ। আর কিছু হলেও অনেক রাতে হতে পারে।’

সচরাচর মন্ত্রিসভা গঠনের পর ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তাঁদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন। তবে ‘রুলস অব বিজনেসে কত দিনের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করতে হবে তার কোনো সময়সীমা নেই। সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দেড় বছর ধরে ‘দপ্তরবিহীন’ অবস্থায় আছেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রায় পাঁচ বছর দপ্তরবিহীন মন্ত্রী ছিলেন হারুন-অর রশিদ মুন্নু।

গত সোমবার ‘সর্বদলীয়’ মন্ত্রিসভায় নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নেওয়া হয় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় চাওয়া হচ্ছে একাধিক দল থেকে। একই মন্ত্রণালয় চেয়ে বসেছেন একাধিক মন্ত্রী। মন্ত্রণালয় নিয়ে এক ধরনের কাড়াকাড়ি চলছে ভেতরে ভেতরে। স্বরাষ্ট্র ও অর্থসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় চাওয়া হচ্ছে একাধিক দল থেকে। এ কারণে কাকে কোন মন্ত্রণালয় দেওয়া যায়, সে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

আবার নতুন মন্ত্রিসভায় প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, এলডিপিসহ বিভিন্ন দল থেকে আরো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী যোগ দেবেন আশা করে অপেক্ষা করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনে বিএনপির জন্য ১৫টি মন্ত্রণালয়ও দেওয়া হতে পারে। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ওবায়দুল কাদেরও গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, বিএনপি সর্বদলীয় সরকারে এলে তাদের এক ডজন মন্ত্রী নেওয়া হবে। মূলত বিএনপিকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্তির অপেক্ষার জন্যই প্রজ্ঞাপন জারিতে দেরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সাক্ষাৎকার ও বিদায়ও প্রজ্ঞাপন জারিতে বিলম্ব হওয়ার আরেকটি কারণ বলে জানা গেছে। গত রবিবার বাংলাদেশ সফরে আসেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। পরদিন দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি। গতকাল তিনি বিমানবন্দরে মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। দীপু মনি ‘সর্বদলীয়’ সরকারে থাকছেন না বলে গতকাল দুপুরে ইঙ্গিত দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। প্রজ্ঞাপন জারি হয়ে গেলে মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হতো না।

সংসদেও ‘জটিলতা’ : এদিকে দপ্তর পুনর্বণ্টনের আগে ‘জটিলতা’ এড়াতে গতকাল সংসদের নিয়মিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রশ্নকর্তা সংসদ সদস্যের নাম বলা হলেও জবাবদাতা কোনো মন্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বিকেলে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত এই প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করেন। এ বিষয়ে স্পিকার বলেন, মন্ত্রণালয়ের দপ্তর পুনর্বণ্টন হচ্ছে। আগেই নাম ছাপা হয়ে গেলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ জন্যই এ ব্যবস্থা। সংসদের কার্যক্রমে দিনের কর্মসূচির শুরুতে ‘প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও উত্তর’ পর্বে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নোত্তর ও লিখিত প্রশ্নোত্তরের জন্য যে ছাপানো পত্র সরবরাহ করা হয়, সেখানে প্রশ্নকর্তা ও উত্তরদাতা দুজনেরই নাম থাকার রেওয়াজ আছে।

নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন ও পদত্যাগী মন্ত্রীদের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে সরকার সময়ক্ষেপণ করায় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সবাই অন্ধকারে আছে। মহাজোট সরকারের কোন কোন মন্ত্রী সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকছেন- এ নিয়ে তৈরি হয়েছে অস্পষ্টতা।

সময়ক্ষেপণের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা গত সোমবার বলেছিলেন ‘টেকনিক্যাল’ কারণে এটি করা হচ্ছে না। কতজনের মন্ত্রিসভা হবে জানতে চাইলেও তিনি তা সাংবাদিকদের বলতে পারেননি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful