Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০ :: ৫ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৬ : ২০ পুর্বাহ্ন
Home / দিনাজপুর / দিনাজপুরের হিমাগার গুলোতে আলুর উত্তোলনের ধুম

দিনাজপুরের হিমাগার গুলোতে আলুর উত্তোলনের ধুম

ALUকুরবান আলী, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুর জেলায় হঠাৎ আলুর দাম বেড়ে যাওয়ায় বীরগঞ্জের হিমাগার গুলোতে প্রান ফিরে এসেছে, আলু ব্যবসায়ীদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। কিন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকেরা।

শেষ বিকেলের আলোর ঝিলিক পড়েছে আলু ব্যবসায়ীদের ঘরে। কিন্তু সর্বশান্ত হয়েছেন আলু চাষীরা, আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন বিপাকে পড়া হিমাগার মালিকগণ। ঝিমিয়ে পড়া হিমাগারগুলিতে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য। আর্থিক কষ্ট লাঘব হয়েছে হিমাগার শ্রমিকদের। কিছু দিন আগে আলু নিয়ে কৃষক আর ব্যবসায়ীদের করুণ আকুতি দেশের মানুষকে বেশ নাড়া দিয়েছিল। এখন সেই হতাশাগ্রস্ত আলু ব্যবসায়ীদের ঘরে এক চিলতে আশার আলো এসে পড়েছে। বাজারে দাম না থাকায় হিমাগারের ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে হিমাগার মালিকের লাল নোটিশের ভয়ে কৃষককেরা পালিয়ে বেড়ালেও হঠাৎ করে আলুর দাম বাড়ায় লাভবান ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বীরগঞ্জ উপজেলায় ৭ হাজার ৬ শত ৭৫ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ছিল। উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫ শত ৯২ মে. টন। আলুর মোট আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৭ শত ৪৫ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৬ শত ৯৩ মে. টন। আলু সংরক্ষণের জন্য উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের হাবলু হাটে ৮ হাজার মে.টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন শাহী হিমাগার, চাকাই গ্রামে ৮ হাজার ৮ শত মে. টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন হিমাদ্রি লিমিটেড, সাতোর ইউনিয়নের দলুয়া গ্রামে ৭ হাজার ৫ শত মে. টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন শাহী হিমাগার, ভোগনগর ইউনিয়নের বটতলী গ্রামে ১১ হাজার মে.টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন রাহবার হিমাগারসহ মোট ৪ হিমাগার রয়েছে। তবে এ বছর শাহী হিমাগার (হাবলু হাট) সংরক্ষণ রয়েছে ৭ হাজার ৮ শত মে. টন, হিমাদ্রি হিমাগার সংরক্ষণ রয়েছে ৮ হাজার ৬ শত মে.টন, শাহী হিমাগার (দলুয়া) সংরক্ষণ রয়েছে ৭ হাজার ৪ শত মে. টন, রাহবার হিমাগার সংরক্ষণ রয়েছে ৯ হাজার ৮ শত ৬০ মে. টন।
সুজালপুর গ্রামের আলু চাষী মোঃ মশিউর রহমান জানান, বেশি লাভের নিজের জমির ২ শত বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছিলাম। বাজারে দাম না থাকায় আলু বিষয়ে কোন প্রকার যোগাযোগ রাখিনি। হিমাগার মালিকের চুড়ান্ত নোটিশ পেয়ে নিরুপায় হয়ে প্রতি বস্তা আলু ৬ শত টাকা দরে বিক্রি করেছি। অথচ যে সময় আলু ক্ষেত থেকে আলু তোলা হয় সে সময় কিছু আলু আমি ৮ শত টাকা দরে বিক্রি করেছি।

ভোগনগর ইউনিয়নের এলাইগাঁও গ্রামের মোঃ ফজল হকের পুত্র আলু ব্যবসায়ী মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, হিমাগারে আমার ১২ শত বস্তা আলু রাখা আছে। প্রতি বস্তা ৮২০ টাকা দরে ১২ শত বস্তা আলু ৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় ক্রয় করেছি। প্রতিবস্তা আলুর হিমাগার ভাড়া বাবদ পরিশোধ করতে হবে ৩৬০ টাকা। এতে আমার ১২ শত আলু বাবদ হিমাগার ভাড়া পরিশোধ করতে হবে ৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা। কিন্তু এক সময় বাজারে আলুর চাহিদা ও দাম না থাকায় বেশির ভাগ কৃষক এবং ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তখন বাজারে প্রতি বস্তা আলুর দাম ছিল ৬ শত টাকা। সে সময়কার বাজার দরে আলু বিক্রয় করলে আমার লোকসান হতো ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। বর্তমানে আলুর বাজার বেশ ভালো। হিমাগারেই ডায়মন্ড ১৩ টাকা এবং দেশি আলু ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, আলুর দাম নিয়ে দোলাচালে থাকেন আমাদের কৃষককেরা। বেশির ভাগ সময়ে তারা সঠিক দাম পায় না। তার পরেও আলু আবাদে পিছিয়ে নেই আমাদের কৃষক ভাইয়েরা। এবারেও লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে বলে আমরা আশা করছি। কৃষককেরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful