Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ :: ৭ আশ্বিন ১৪২৬ :: সময়- ৮ : ১৯ অপরাহ্ন
Home / জাতীয় / দুই দলেই এখন গৃহদাহ

দুই দলেই এখন গৃহদাহ

ডেস্ক: বিগত একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্যের জয়গান গাওয়া গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দ্বৈত আচরণে ক্ষোভে দুই দলেই শুরু হয়েছে গৃহদাহ। এ দুই ব্যক্তিত্বে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নিজ নিজ দলীয় নেতাকর্মীরা।

ড. কামাল ও ফখরুল দলীয় আদর্শ নষ্ট করে নিজেদের স্বার্থে জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে। গতকাল ড. কামালকে দ্বৈত চরিত্রের লোক ঘোষণা দিয়ে দলের পদ ছেড়েছেন প্রশিক্ষণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক। দলের বহিষ্কৃত নেতা মোকাব্বির খানকে নিজের পাশে বসিয়ে কাউন্সিল করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কামালের নৈতিক স্খলনের জন্য জাতির কাছে লজ্জিত, অনুতপ্ত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। তিনি বলেছেন, ড. কামাল যেটা করেছেন, এটা খুব দুঃখজনক। আমি দুঃখিত, অনুতপ্ত জাতির কাছে।

এদিকে বিএনপি নেতা জাহিদুর রহমান দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথের পেছনে ফখরুলের হাত রয়েছে, এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছেন দলের বড় একটি অংশ। বিএনপির দাবি, দলের কেউ এ বিষয়ে জানতেন না। তবে জাহিদুরের কাছের লোকজন বলছেন, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জানিয়েই শপথ নিতে গেছেন তিনি। এর আগে ফখরুল নির্বাচিত পাঁচজনকে নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন। এ পাঁচজনকে শপথ নিতে উস্কে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে। তাদের সাথে একান্তে কয়েকটি বৈঠক ফখরুলের বাসায়ও হয়েছিল। দলে ফখরুলবিরোধী বড় একটি অংশের দাবি, ওই বৈঠকগুলোতে লন্ডন নেতা তারেক রহমানকে সংযুক্ত করা হয়েছিল। শপথ নিতে অনুমতি দিতে তারেক জিয়াকে বোঝাতে ফখরুল সফল হয়েছেন বলেও অনেকের ধারণা। যেমন- এর আগে কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়াকে বুঝিয়েছেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। আর ক্ষমতায় না যেতে পারলেও ৭০-৮০টি আসন পাবে। বিরোধী দলের শক্ত ভূমিকা পালন করতে পারবে। যদিও তখনো স্থায়ী কমিটিসহ বড় একটি অংশ ফখরুলের বিরোধী ছিলেন। এখন যারা দলের সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে ড. কামালের ঘনিষ্ঠ সহচর তথা সুলতান মনসুরের পথ ধরছেন; এর পেছনে ফখরুলের হাত আছে। এ নিয়ে গতকাল ফখরুলের বক্তব্য বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

গতকাল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে। নিঃসন্দেহে চাপ রয়েছে। যেটা সবসময়ই থাকে। মির্জা ফখরুল বলেন, জাহিদুর রহমান শপথ নিয়ে দলের সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করেছেন, তিনি অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছেন। তিনি অন্যায় ও অপরাধ করেছেন। এ জন্য তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। দলের সিদ্ধান্ত নির্বাচিতরা মানছেন না, আরও অনেকেই শপথ নিতে আগ্রহী- এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, একজন গেছেন, বাকি যারা নির্বাচিত তাদের সিদ্ধান্ত তো আমরা এখনো জানি না। তারা এখনো আমাদের কিছু জানায়নি। তবে শপথ না নেয়ার আগের যে সিদ্ধান্ত ছিল, সেটাই এখনো বহাল আছে। এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত থাকার কথা নয়।

সরকার বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা তো স্বাভাবিক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি অস্বাভাবিক বিষয় নয়। বরাবরই দল ভাঙার নানা প্রচেষ্টা হয়েছে এবং ভেঙেছে। কিন্তু বিএনপির বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রচেষ্টা করে কখনো কোনো লাভ হয়নি। আমরা সবসময়ই ফিরে এসে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি এবং স্বমহিমায় জনগণের কাছে গেছি।

ফখরুলের এমন বক্তব্য দলের নেতারা অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সরকারের চাপে বিএনপির বিজয়ী নেতারা সংসদে যাচ্ছেন; এটা তো তাহলে ফখরুল আগ থেকেই জানতেন বিষয়টি এখন স্পষ্ট। তাহলে কেন তিনি নাটক করছেন। দলের মহাসচিব হয়ে তিনি এখনো জানেন না তারা শপথ নেবেন কি না। অথচ দেশের সব গণমাধ্যমে খবর বাকি চারজনও শপথ নেবেন। দলের বড় একটি অংশ মনে করে, ফখরুলের সঙ্গে সরকারের যোগসাজস রয়েছে। বাকি চারজন শপথ নিলেই ফখরুলের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকে দল ছেড়ে দেবেন, না হয় বিএনপিতে ফখরুলের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু হবে। ফখরুলের সঙ্গে সরকারের আতাতে খালেদা জিয়া ৩০ তারিখের আগেই প্যারোলের মুক্তির ইঙ্গিত এখনো রয়েছে। প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তির পক্ষে আ.লীগ।  আ.লীগের শীর্ষপর্যায়ের সূত্রের খবর, সমঝোতা হলে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানো হবে।

এদিকে গতকাল সকালে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই কাউন্সিলে অংশ নেন সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান। কাউন্সিলে তার অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে এদিন বিকেলেই দল থেকে পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন দলের প্রকাশনা ও তথ্য সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক। কাউন্সিলে সাধারণ নেতাকর্মীরাও মোকাব্বির খানের মঞ্চে উপবিষ্ট হওয়াকে গ্রহণ করেননি। তারা তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগান দেন।

গণফোরামের ৯৫ ভাগ নেতাকর্মী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ায় মোকাব্বির খানকে বহিষ্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন, এমন তথ্য জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু। মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, সমপ্রতি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় ৯৫ ভাগ নেতাকর্মী মোকাব্বির খানকে বহিষ্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। কেন বহিষ্কার করা হয়নি, এটা সভাপতি (ড. কামাল হোসেন) ভালো বলতে পারবেন। তিনি একেক সময় একেক কথা বলেন। মোকাব্বির খানকে গতকাল শুক্রবার গণফোরামের কাউন্সিলের মঞ্চে বসতে দেয়ার বিষয়ে মন্টু বলেন, আমরা তো জাতির সঙ্গে কমিটমেন্ট করে কাজ করি। এটা অগ্রহণযোগ্য যে, আজকে (শুক্রবার) দলের বিশেষ কাউন্সিলে তিনি (গণফোরাম ড. সভাপতি কামাল হোসেন) মঞ্চে বসতে দিয়েছেন। এটা খুব দুঃখজনক। আমি দুঃখিত, অনুতপ্ত জাতির কাছে।

মোকাব্বির খানের প্রসঙ্গে মন্টু বলেন, আমি এখন থেকে এসবের মধ্যে নেই। তাদের ব্যাপার তারা বোঝুক। জাতির কাছে আমি জবাবদিহি করতে চাই না, যারা মোকাব্বির খানকে মঞ্চে বসার সুযোগ দিয়েছেন, তারা জবাবদিহি করবেন। আমি ছিলাম না। গণফোরাম থেকে পদত্যাগ করবেন কি না, এমন প্রশ্নে মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, আমি এখনো এসব নিয়ে চিন্তা করিনি। আমরা আলোচনা করে জানাব।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খানকে কাউন্সিলের মঞ্চে দেখে দলের পদ ছাড়লেন প্রশিক্ষণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক। তিনি বলেন, কামাল হোসেনের দ্বৈত নীতির কারণে আমি দল ছাড়লাম। মোকাব্বির খান অফিসে এলে কামাল হোসেন বলেন, বেরিয়ে যাও। আর তিনি (মোকাব্বির) বাসায় গেলে বলে, তুমি সংসদে যাও। কামাল হোসেনের এই দ্বিমুখী আচরণের কারণে আমি দল থেকে পদত্যাগ করেছি।

এ ছাড়াও কাউন্সিল সূত্রের দাবি, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া। গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ড. কামাল হোসেন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, মন্টুকে বাদ দিয়ে রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করবেন।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful